Monday, January 10, 2011

বিপ্লবী বিনোদ বিহারী (শতবর্ষী এক তরুণের গল্প)

বয়সের সেঞ্চুরি পার করে বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরী আজ ১০১ বছরে পদার্পণ করলেন। বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় জীবনের অধিকারী এই বিপ্লবী এখনও একজন করিৎকর্মা পুরুষ। জীবনের একেকটি অতীত অধ্যায় বেশ প্রাঞ্জল ও বলিষ্ঠভাবে ধরা দেয় তার স্মৃতিতে। এখনো নিজেকে ভাবেন শতবর্ষী তরুণ। তার কথায় এবং চলনে-বলনেও তা পরিষ্কার লক্ষণীয়। প্রতিটি মুহূর্ত কাটে কর্মমুখরতায়। প্রতিনিয়ত ভাবেন দেশের জন্য। এ দেশকে নিয়ে বিনোদ বিহারী চৌধুরী অনেক স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্ন দেখেন এদেশের তরুণ সমাজকে নিয়ে। তিনি সভা-সমাবেশে প্রায়ই বলেন- 'তরুণরাই একদিন বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখাবে। অপার সম্ভাবনার এদেশ থেকে দূর করবে সব জীর্ণ ও কূপমণ্ডূকতা।'

বিনোদ বিহারীর জন্ম ১৯১১ সালের ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর উত্তর ভূর্ষি গ্রামে। পিতা কামিনী কুমার চৌধুরী ছিলেন তৎকালীন একজন খ্যাতনামা আইনজীবী। মা বামা চৌধুরী ছিলেন গৃহিণী। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি দেশমাতৃকাকে ব্রিটিশের কবল থেকে মুক্ত করার শপথ নিয়ে বিপ্লবী সংগঠন যুগান্তরে যোগ দেন। ২৯ বছর বয়সে তিনি পুলিশ অস্ত্রাগার দখল ও জালালাবাদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯২৯ সালে রায় বাহাদুর বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৩৪ সালে প্রথম বিভাগে আইএ, ১৯৩৬ সালে ডিস্টিংশনসহ বিএ পাস করেন। ১৯৩৯ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ ও বিএল পাস করেন। ১৯৩০ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত হুলিয়া মাথায় নিয়ে অজ্ঞাতবাসে কাটান। পরবর্র্তী পাঁচ বছর দেউলি ডিটেনশন ক্যাম্পসহ চট্টগ্রাম, কলকাতা ও বহরমপুর জেলে কাটাতে হয়। এরপর গৃহবন্দী ছিলেন এক বছর। ১৯৩৯ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন এবং চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেস কমিটির সহ-সম্পাদক পদে আসীন হন। পরের বছর বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস নির্বাহী কমিটির সদস্য হন তিনি। ১৯৪১ সাল থেকে টানা পাঁচ বছর হিজলি, ঢাকা, চট্টগ্রাম জেল এবং খোকশা বন্দীশিবিরে বন্দী জীবন কাটান। ১৯৪৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত দ্বিখণ্ডিত হলেও তিনি প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে যাননি। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস নির্বাচনে কংগ্রেস দলীয় প্রার্র্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৫৮ সালে কংগ্রেস নেতা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নেতৃত্বে পৃথক নির্বাচনের বিপরীতে যুক্ত নির্বাচনের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারি করলে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেন। পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৩৯-৪০ সালে জাতীয় দৈনিকে সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৪০ সালে তিনি চট্টগ্রাম আদালতে আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৭-৫৪ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার পরিচালিত আইন রিটি বোর্ডের চট্টগ্রাম জেলা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৫ সালে 'মাস্টারদা সূর্যসেন', ১৯৯৭ সালে 'দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন' বিষয়ক বক্তৃতা তার উল্লেখযোগ্য স্মারক বক্তৃতা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় সংহতি পরিষদ, চট্টগ্রাম পরিষদ, ঢাকার দৈনিক ভোরের কাগজ ও দৈনিক জনকণ্ঠ, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় পূজা পরিষদ ও শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী পরিষদসহ স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিষ্ঠান এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা প্রদান করেছে। ১৯৯০ সালে তার জীবনীভিত্তিক সাক্ষাৎকার প্রচার করে ব্রিটিশ ব্রট কাস্টিং করপোরেশন বিবিসি। ইতোমধ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাকে ভূষিত করেছে স্বাধীনতা পুরস্কারে। গত বছর তার শতবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত হয়েছে স্মারক গ্রন্থ 'আমাদের সন্তু'।

ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম।
সুত্র: http://www.bangladesh-pratidin.com/?view=details&type=gold&data=Income&pub_no=254&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=1

Sunday, January 9, 2011

২০১০, ২০০৯ ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশের ব্যাংক গুলোর লাভের তুলনামুলনক চিত্র

                                           ( কোটি টাকা প্রকাশ)  
ব্যাংকের নাম       ২০১০      ২০০৯     ২০০৮
জনতা ব্যাংক          ১১৫০       ৮০০        ৭০০
ইসলামী ব্যাংক        ১১৪৩       ৮৫০       ৮৩২
অগ্রণী ব্যাংক          ১০৭৭           -        ৬৩২
ন্যাশনাল ব্যাংক       ১০২৫        ৩৫০       ৩৫০
সোনালী ব্যাংক        ১০০০        ৮০০       ৬৩৬
এবি ব্যাংক            ১০০০        ৫০০        ৪৬৫
প্রাইম ব্যাংক            ৭৭০        ৫৮০       ৪৩০
সাউথইস্ট ব্যাংক       ৬৫০        ৪৬৫       ৩০০
এক্সিম ব্যাংক           ৬০৭        ৩২০       ২৬৭
পূবালী ব্যাংক           ৫৯০        ৪২৭       ৩৬৫
ইউসিবিএল              ৫১২        ৩৪০       ২৬০
ব্র্যাক ব্যাংক             ৪৯০        ৪০০       ৩০০
ব্যাংক এশিয়া            ৪৫৫        ৩০০       ১৯৫
ডাচ্-বাংলা              ৪৫০        ২৬০       ২১৮
আইএফআইসি ব্যাংক    ৪১৯        ২০০       ১৭৮
এনসিসিবিএল            ৪১০        ৩১৪      ২৩৬
সিটি ব্যাংক              ৪০০        ২৩০       ১৭০
ইস্টার্ন ব্যাংক            ৪০০        ৩১৫       ২০০
শাহজালাল ব্যাংক       ৩৮৮       ২১০       ২০৭
ঢাকা ব্যাংক             ৩৭০         ২৭০      ২৫৪
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক         ৩১০        ১৮১      ১৫৫
উত্তরা ব্যাংক            ৩০২         ২৫০      ২১৫
মার্কেন্টাইল ব্যাংক       ৩০০          -       ১৯৩
আল-আরাফাহ্ ব্যাংক   ৩০০        ১৮১     ১৫৮
ওয়ান ব্যাংক            ৩০০          -        ১১০
প্রিমিয়ার ব্যাংক         ২৭৫         ১৬০     ১৪৫
দি ট্রাস্ট ব্যাংক          ২৬৫        ১৬০     ১৩৫
যমুনা ব্যাংক            ২৫৩        ১৯৮      ১০৯
রূপালী ব্যাংক            ২৫০         ২০০     ১০১
মিউচ্যু. ট্রাস্ট ব্যাংক     ২৫০          -       ১২২
বেসিক ব্যাংক            ২০৭         ১৬২     ১৭৫
এসআইবিএল             ১৭৫         ১৩০     ১০০
ফার্স্ট সিকিউ. ব্যাংক    ১২১           ৭৬      ২৫
কমার্স ব্যাংক              ৩৪            -      ১৮
আইসিবি ইসলামী ব্যা     -৯            -        -

Monday, January 3, 2011

বিভিন্ন ভাষায় নববর্ষের শুভেচ্ছা


বাংলায় 'শুভ নববর্ষ' কিংবা ইংরেজিতে 'হ্যাপি নিউ ইয়ার' বলে নতুন বছরকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। একইভাবে বিশ্বের অন্যান্য ভাষাতেও শুভেচ্ছা বিনিময়ে রয়েছে ভিন্নতা। চলুন দেখে নেওয়া যাক আরও কিছু ভাষায় নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তা।

হিন্দি : নায়া সাল মোবারক হো

চাইনিজ : চু সেন তান

আরবি : কুল আম আনতুম সালিমুন

উর্দু : খোশ আমদেদ নয়া সাল

পর্তুগিজ : ফেলিজ আনো নিউভো

ফ্রেঞ্চ : বন্নে আনি্ন

জার্মান : প্রোসিট নেউজার

রাশিয়ান : এস নোভিম গুদুম

স্প্যানিশ : ফেলিজ আনো নিউভো
ভিয়েতনামিজ : চুং চুক তান জুয়ান

টার্কিশ : ইয়েনি ইয়েলিনিজ কুটলু ওলসান

জাপানিজ : আকেমাশিতে ওমেডেতু গোজাইমাসু

সুইডিশ : গট নিট আর

ডাচ : গুল্লুকিগ নাইয়ো যার

ইতালিয়ান : বুয়োন কাপোডান্নো

নববর্ষের সাতকাহন

নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস স্বভাবতই বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডারের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যখন বর্ষপঞ্জি ছিল না তখন এ দিনটি নির্ধারণ করা হতো ফসল বপন, ফসল তোলা বা ধর্মীয় উৎসব পালনের কালকে কেন্দ্র করে। এর অনেক পরে মানুষ সুনির্দিষ্টভাবে আবিষ্কার করেছে দিন-মাস-বছরের হিসাব-নিকাশ, তৈরি করেছে বছরপঞ্জি। সে অনুসারেই বছর পরিক্রমা চলছে। বছরান্তে ফিরে আসছে বর্ষবরণ দিবস।

বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডারের উদ্ভব হয়েছে খ্রিস্টজন্মের অনেক আগে। খ্রিস্টপূর্ব ১৫০ অব্দ পর্যন্ত রোমান রাজারা সিংহাসনে বসতেন ১৫ মার্চ অর্থাৎ তখনকার প্রচলিত বছরের প্রথম দিন। এ দিনটিকে বলা হতো ক্যালেন্ডস। এদিকে নতুন চন্দ্রোদয়ের প্রথম দিনকেও বলা হতো ক্যালেন্ডস। একই উচ্চারণ, শুধু ইংরেজি আদ্যাক্ষরের হেরফের। 'সি'-এর বদলে 'কে'। ক্যালেন্ডার শব্দটি এসেছে এই ক্যালেন্ডস শব্দ থেকে। তবে ক্যালেন্ডারের উদ্ভব ও বিকাশে মিসরীয় সভ্যতার অবদান সমধিক উল্লেখযোগ্য। মিসরীয়রাই প্রথম ফসলি মৌসুমের পটভূমিতে গণনার আধুনিক পদ্ধতির প্রচলন করে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নববর্ষ পালনের রীতিনীতি কিন্তু এক নয়। কিছু কিছু মিল থাকলেও নববর্ষের অনুষ্ঠানের সঙ্গে যোগ হয় দেশীয় ঐতিহ্য। নববর্ষের কিছু প্রথা আছে অবাক করা এবং মজার। যেমন থাইল্যান্ডে একজন আরেকজনের গায়ে পানি ছিটিয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানায়। স্পেনে রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১২টা আঙ্গুর খেয়ে নববর্ষের প্রথম ক্ষণটি উদযাপন করা হয়।

সবই ঐতিহ্যের সুতোয় গাঁথা বিভিন্ন রেওয়াজের সমন্বয়। বর্তমানকালে মিসরে নববর্ষে চাঁদ দেখে নববর্ষ ঘোষণা করেন দেশের ধর্মনেতা বা প্রধান মুফতি। বিশেষ ধরনের খাবারসহ ভোজ উৎসব এবং নতুন কাপড় পরার নিয়ম সেখানে। তারপর ঈদের মতো পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময়। ইরানে প্রাচীনকাল থেকেই নববর্ষে নওরোজ উৎসব পালিত হয়ে আসছে। এদিন কৃষকরা ক্ষেতে বপন করে বিভিন্ন শস্যের বীজ, ঘরদোর সাজায়, নতুন পোশাক পরে।

'হাফত-সিন' নামের বিশেষ খাবার এদিনের সর্বজনীন খাবার, যা সাত রকমের উপকরণে তৈরি করা হয়। আমেরিকান ও জার্মানরা নববর্ষ উপলক্ষে শিশু শোভাযাত্রার আয়োজন করে। এর প্রচলন হয়েছিল 'চৌদ্দ শতকে'। গ্রিসের রক্ষণশীলরা বছরের শেষ দিনে অপশক্তিকে তাড়ানোর জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে মেতে ওঠে নতুন বছর বরণ করার নানা আয়োজনে। স্কটল্যান্ডে নববর্ষ উৎসব পরিচিত 'হগমানে' নামে। বছরের শুভাগমন স্মরণে কোনো কোনো গ্রামে মানুষ রাস্তায় ঢেলে দেয় ব্যারেল ব্যারেল টার। এদিন 'ফাস্ট ফুটিং' নামে উপহারসামগ্রী দেওয়ার একটি প্রথা চালু রয়েছে সেখানে। সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ায় সেন্ট সিলভেস্টারের পোশাকে সজ্জিত হয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানায়, বর্তমানে আমেরিকা-ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের প্রায় সব দেশেই ইংরেজি নববর্ষের আয়োজন খুবই জাঁকজমকের সঙ্গে উদযাপন করা হয়। ৩১ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক ইভ পার্টি বা থার্টি ফার্স্ট নাইট এখন সারা বিশ্বে পরিচিত। নতুন বছরে 'হ্যাপি নিউ ইয়ার' সম্ভাষণ এখন আন্তর্জাতিক সম্ভাষণে পরিণত বলা যায়। আমেরিকায় নববর্ষে স্বজনদের বাড়ি বেড়ানোর ধুম পড়ে। পরদিন আমেরিকানরা জাতীয় খেলা ফুটবল দেখে এবং বাদ্য সহকারে বের করে শোভাযাত্রা। ঘোড়ার গাড়ির পেছনে এগিয়ে চলা এ শোভাযাত্রার নাম 'রোজেস প্যারেড'।

চীন দেশে পূর্ণিমার শুরুর দিন থেকে শুক্লপক্ষের ১৫ দিন উৎসব চলে নববর্ষ উপলক্ষে। পৃথিবীতে একমাত্র চীনারাই নববর্ষ পালন করে প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী। নববর্ষের প্রথম দিনে তারা স্বর্গ ও পৃথিবীর দেবতাকে তুষ্ট করে নানা উপাসনা-উপাচারে, দ্বিতীয় দিন পূর্ব পুরুষের মঙ্গল কামনা করা হয়। 'ওয়েইলু' নামক বিশেষ ভোজনের আয়োজন করা হয় এদিন। পক্ষকালব্যাপী আলাদা আলাদা অনুষ্ঠানের মধ্যে সপ্তম দিনটি পালিত হয় 'শস্য দিবস' নামে।

বহু ভাষাভাষী ও সংস্কৃতির দেশ ভারতে সম্রাট আকবরের সময় যে নওরোজ উৎসব হতো তা সর্বভারতীয় উৎসবের মর্যাদা পায়নি। অনেকে ভারতীয় বর্ষবরণ উৎসবকে দিওয়ালি উৎসব বলে অভিহিত করেন। দিওয়ালি অর্থ দীপাবলী বা আলোর উৎসব। এটি হয় বিভিন্ন রাজ্য বা সমপ্রদায়ের নিয়ম অনুযায়ী। দিওয়ালি ধর্মীয় উৎসবও বটে। লক্ষ্মীপূজাসহ চলে দেবদেবীর স্মৃতিতর্পণ করার উদ্দেশ্যে ভজন সংগীত, শ্রী কৃষ্ণকীর্তন ইত্যাদি। পাঞ্জাবে নববর্ষ উৎসব পরিচিত বৈশাখী নামে। নববর্ষে পুষ্পসজ্জা প্রায় সর্বভারতীয় রেওয়াজ, দক্ষিণ ভারতের অঞ্চলবিশেষের মজাদার খাবার ও পুষ্প উপহার গুরুত্বপূর্ণ প্রথা। তবে বর্তমানে ইংরেজি নববর্ষ পালন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান উৎসব হয়ে উঠেছে।

ভিয়েতনামে নববর্ষকে সংক্ষেপে 'টেট' শব্দে অভিহিত করা হয়। ভিয়েতনামীদের বিশ্বাস, ঈশ্বর ঘরে ঘরে বাস করেন। নববর্ষে বেড়াতে যান স্বর্গে। সেখানে বসে মর্ত্যের লোক কি করছে, তা খতিয়ে দেখেন। বলা হয়, কার্প মাছের পিঠে চড়ে ঈশ্বর ভ্রমণেও বের হন। এ বিশ্বাসে অনেকে নদী বা পুকুরে কার্প মাছ ছাড়েন। জাপানে নববর্ষ উদযাপন করা হয় ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে। শুভদিন হিসেবে অন্তত সূর্যাস্ত পর্যন্ত নববর্ষে হাস্যমুখর থাকে জাপানিরা। লোকাচার অনুযায়ী মন্দভাগ্য এড়াতে অনেকে বাড়ির সামনে টানিয়ে রাখে বিশেষভাবে তৈরি রশি। পারসিক অগি্ন উপাসকদের নববর্ষ ৩১ মার্চ। নতুন পোশাক, উত্তম আহার এবং বেড়ানো তাদের উৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ।

আর্জেন্টিনায় নববর্ষের আগের দিন রাতে পরিবারের সব সদস্য একত্রে খাবার টেবিলে বসে আহার করে। তার পর বড়রা নাচের অনুষ্ঠানে চলে যায়। ভোর পর্যন্ত চলে এ নাচের অনুষ্ঠান। নববর্ষের প্রথম দিন নদী বা পুকুরে সাঁতার কেটে তারা নববর্ষ উদযাপন করে।

ব্রাজিলের রিওডি জেনিরো সমুদ্র সৈকতে নববর্ষের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানটি হয়। এর অন্যতম আকর্ষণ চোখ ধাঁধানো আতশবাজির প্রদর্শনী। এ দিন অনেক লোকই সাদা পোশাক পরিধান করে। সমুদ্রে সাতটি ডুব দিলে এবং সাতটি ফুল ছুঁড়ে দিয়ে তারা মনে করে বছরটি খুব ভালো কাটবে। এ উৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় দুই মিলিয়ন পর্যটক যোগ দেয়।

কোরিয়ায় নববর্ষ শুরুর সময় কেউ ঘুমায় না। এ সময় ঘুমালে নাকি চোখের ভ্রূ সাদা হয়ে যায়! রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে টিভিতে ৩৩ বার ঘণ্টা বাজানো হয়। কোরিয়ার ৩৩ বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এটি করা হয়। কোরিয়ায় প্রায় সবাই সূর্যোদয় দেখে। সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ার সময় একজন আরেকজনকে শুভেচ্ছা জানায়।

মেক্সিকোতেও ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১২ বার ঘণ্টা বাজানো হয়। এ সময় প্রতি ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে একটি করে আঙ্গুর খাওয়া হয়। তারা বিশ্বাস করে, এ সময় যা কামনা করা হয়, তাই পূরণ হয়। 


আমিন রহমান নবাব
Ref: http://www.bangladesh-pratidin.com/index.php?view=details&archiev=yes&arch_date=01-01-2011&type=gold&data=Car&pub_no=245&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=0