অপরাজিতা এক মায়ের ছায়া (বারাক ওবামা কে নিয়ে লেখা)


মায়ের সঙ্গে ছয় বছরের ওবামা
১৯৬৭ সালে, ছয় বছর বয়সী বারাক ওবামাকে নিয়ে তাঁর মা চলে আসেন ইন্দোনেশিয়ায়। কিন্তু মায়ের সেদিনের সেই সিদ্ধান্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জীবনে।

সন্তানের মধ্যে তার মা-বাবার ছায়া থাকে। সে ছায়ায় কখনো থাকে বাবার প্রভাব, কখনো বা মায়ের। আবার কখনো সে ছায়ায় বাবা-মা দুজনই সমান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক হুসেন ওবামা তাঁর বাবার সান্নিধ্য তো নয়ই, মায়ের সাহচর্যও খুব বেশি দিন পাননি। তাহলে তাঁর মধ্যে কার ছায়া বেশি?
এ ক্ষেত্রে খুব সহজেই এ কথা বলে দেওয়া যায়, রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে তীক্ষধী প্রয়োজন, তা তিনি বাবা-মা দুজনের কাছ থেকেই পেয়েছেন। ওবামার বাবা বারাক হুসেন ওবামা সিনিয়র ছিলেন তাঁর দেশ কেনিয়ার একজন প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ। ১৯৫৯ সালে বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রের হনলুলুর হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান তিনি। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনিই প্রথম বিদেশি আফ্রিকান ছাত্র। পরবর্তী সময়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে উচ্চতর শিক্ষা শেষে দেশে ফিরে যান। গড়ে তোলেন উজ্জ্বল পেশাগত জীবন।
শিক্ষাদীক্ষায় ওবামার মা স্ট্যানলি অ্যান ডানহামের পাল্লাটা আরও ভারী। নৃবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন তিনি।
ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার: আ স্টোরি অব রেস অ্যান্ড ইনহেরিট্যান্স শীর্ষক যে বইটি ওবামার রাজনৈতিক উত্থানে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে, এতে তিনি মা সম্পর্কে লিখেছেন, ‘তিনি ছিলেন লাজুক প্রকৃতির ছোটখাটো এক শহুরে মেয়ে, যিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন আফ্রিকান এক যুবকের মেধা ও মহিমায়।’
এরপর বইয়ের বিভিন্ন অধ্যায়ে ওবামা তাঁর মায়ের যে বর্ণনা দিয়েছেন, এতে ফুটে উঠেছে অচিন কোনো দূরদেশে ছলাকলাহীন এক ভাববাদী তরুণী মায়ের ছবি, যাঁর ছিল অচেনা মানুষ ও অজানা পরিবেশকে আপন করে নেওয়ার অনন্য গুণ।
হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সূত্রেই ওবামা সিনিয়রের সঙ্গে অ্যান ডানহামের পরিচয় ও প্রেম। ওবামা সিনিয়র তাঁর চেয়ে বছর ছয়েকের বড়। প্রেমের পরিণতিতে ১৯৬০ সালে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি। গর্ভে ধারণ করেন আজকের প্রেসিডেন্ট ওবামাকে। অ্যানের বয়স তখন মাত্র ১৭ বছর। সন্তানসম্ভবা হওয়ায় পড়াশোনার পাট শিকেয় উঠল তাঁর। ১৯৬১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাওয়াই দ্বীপের মাউইতে বিয়ে করেন তাঁরা। উভয় পরিবারের অভিভাবকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়েটা হয়। তখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪টি অঙ্গরাজ্যে শ্বেতাঙ্গের সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গের বিয়ের ব্যাপারে আইনি বাধা ছিল। একই বছরের ৪ আগস্ট ওবামা জুনিয়রের জন্ম হয়। কিন্তু তাঁদের সংসার টেকেনি বেশি দিন। কেনিয়ায় সন্তানসহ স্ত্রী রেখে এসেছিলেন ওবামা সিনিয়র। প্রেম করার সময় অ্যানকে তিনি জানাননি সে কথা। বিয়ের পর এ কথা ফাঁস করলে তা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায় অ্যানের জন্য। ১৯৬৪ সালের জানুয়ারিতে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় তাঁদের। এর আগেই অবশ্য কয়েক বছর ধরে আলাদা ছিলেন তাঁরা। ওবামা জুনিয়রের দায়িত্ব বাবা-মাকে দিয়ে অ্যান ফিরে গিয়েছিলেন পড়াশোনায়।
১৯৬৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার জাভাবাসী লোলো সোয়েতোরোকে বিয়ে করেন অ্যান। এটিও অবশ্য প্রেমের বিয়ে। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোলে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়েছিলেন লোলো। পরের বছর তিনি জাভায় ফিরে যান। এদিকে অ্যান একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে ছয় বছরের ছেলে ওবামাকে নিয়ে ১৯৬৭ সালে জাভায় যান।
প্রেসিডেন্ট ওবামা ও তাঁর মায়ের বিদেশ জীবন নিয়ে লেখা বই আ সিঙ্গুলার উমেনপরবর্তী চারটি বছর মায়ের উষ্ণ সাহচর্যে ছিলেন ওবামা। ওই সময় তাঁকে ‘ব্যারি’ বলে ডাকা হতো। শিশু ওবামার পৃথিবীকে ধীরে ধীরে বুঝে ওঠার বিষয়টা মায়ের মাধ্যমেই শুরু হয়। সচেতন বা অজ্ঞাতসারে মায়ের মূল্যবোধ তাঁকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রবাসজীবনের চারটি বছর শিশু ওবামাকে একদিকে যেমন দুনিয়ার হালচাল, আচার-আচরণ ও সংস্কৃতির বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন, তেমনি তাঁকে দিয়েছেন বৈরিতা মোকাবিলার তালিম।
ছেলেকে নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন অ্যান। দেখা যেত, সুশ্রী এক শ্বেতাঙ্গ তরুণী-মায়ের হাত ধরে যাচ্ছে তাঁর আধা মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ ছেলে। ওই সময় ইয়োগাকার্তা শহরে এলিজাবেথ ব্রায়ান্ট নামের এক মার্কিন নারী ছিলেন। তাঁর সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠতা ছিল অ্যানের। এক দিনের ঘটনার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে এলিজাবেথ বলেন, সেদিন আরেক প্রবাসীর বাড়িতে দুপুরের খাওয়ার দাওয়াত ছিল তাঁদের। অ্যান সেখানে লম্বা স্কার্ট পরে ছেলেকে নিয়ে হাজির হন। স্কার্টটি ছিল ইন্দোনেশীয় কাপড়ে তৈরি। ছেলে ব্যারির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় ছেলেটি সপ্রতিভভাবে তাঁর সঙ্গে হাত মেলায়। আসার সময় একটি ইংরেজি ওয়ার্ক-বুক এনেছিলেন অ্যান। সোফায় বসে বইটি পড়তে থাকে ব্যারি। তার মধ্যে কোনো চপলতা ছিল না।
চার দশক আগের স্মৃতি হাতড়ে এলিজাবেথ বলেন, ‘তত দিনে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় চার বছর হয়ে গেছে অ্যানের। একপর্যায়ে তিনি আমার কাছে জানতে চান, আর কত দিন আছি ইন্দোনেশিয়ায়। জবাবে বলি, টেনেটুনে বড়জোর আর বছর দুয়েক থাকতে পারব। তারপর ফিরে যাব দেশে। অ্যান এর কারণ জানতে চাইলে বলি, এখানে বাস করা কঠিন। ভালো চিকিৎসক নেই। নেই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। কিন্তু অ্যান এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে একমত হননি। অর্থাৎ, ইন্দোনেশিয়ার তখনকার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে আয়েশি জীবনযাপনে অভ্যস্ত মার্কিন নাগরিকদের জন্য আশানুরূপ না হলেও অ্যান এতে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন।
‘খাওয়া শেষে নয় বছরের ব্যারি নিচে খেলতে যাওয়ার বায়না ধরল। মা বললেন, “যিনি আমাদের দাওয়াত করেছেন, তাঁর অনুমতি নিয়ে যাও।” ব্যারি তা-ই করল। ফেরার সময় অ্যান ও এলিজাবেথ পাশাপাশি গল্প করতে করতে এগোচ্ছিলেন। তাঁদের সামনে ছুটতে ছুটতে যাচ্ছিল ব্যারি। একপর্যায়ে স্থানীয় কিছু ছেলে দেয়ালের আড়াল থেকে তার দিকে ঢিল ছুড়তে থাকে। একই সঙ্গে তারা “কালো” বলে টিটকিরি করছিল ব্যারিকে। কিন্তু ব্যারি এতে কান দেয়নি মোটেও। আপন খেয়ালে বিভোর থেকেছে। আপন মনে খেলেছে। অ্যান তখন বলেন, এসবে অভ্যস্ত হয়ে গেছে তাঁর ছেলে।’
এভাবে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত সরাসরি মায়ের সান্নিধ্যে থেকে পারিপার্শ্বিক জগৎ চিনেছেন ওবামা। শিখেছেন কোন পরিবেশে কোন পরিস্থিতিতে কোন পদক্ষেপ নিতে হবে। মায়ের কাছে থেকেই মূলত ওবামা শিখেছেন সাফল্যের শিখরে যাওয়ার কৌশল।
১৯৭০ সালের ১৫ আগস্ট অ্যান ও সোয়েতোরোর ঘরে একটি মেয়ের জন্ম হয়। তাঁর নাম মায়া সোয়েতোরো। ওবামার এই বোনটি মায়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, তিনি ছিলেন সন্তান-অন্তঃপ্রাণ। ‘তুই আমার জানের জান’—এ ধরনের আদুরে কথা দিনে অন্তত শ খানেক বার বলতেন তিনি। ছেলেমেয়ের ছোটখাটো কৃতিত্বে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেন। এ সময় চোখে পানি এসে যেত তাঁর। সুচিকর্মসহ হাতের বিভিন্ন কাজও ভালো জানতেন তিনি। মায়া বলেন, ‘তাঁর সান্নিধ্যে থেকে আমরা জীবনে অনেক কিছুই পেয়েছি।’
প্রথম সংস্করণের পর ২০০৪ সালে ওবামার ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার বইটির পরবর্তী সংস্করণ প্রকাশিত হয়। মায়ের মৃত্যুর নয় বছর পর প্রকাশিত বইটির নতুন সংস্করণের মুখবন্ধে ওবামা অকপটে বলেন, অসুস্থ হয়ে মা এভাবে চলে যাবেন, আগে টের পেলে হয়তো আরেকটি বই লিখতেন তিনি। এতে তাঁর জীবনে মায়ের অনুপস্থিতির চেয়ে সান্নিধ্যলাভের বিষয়টিই ঘটা করে বর্ণনা করা হতো। লেখা হতো এমন একজনের কথা, যিনি সারাক্ষণ তাঁর সঙ্গে ছায়ার মতো আছেন।
সূত্র: দি নিউইর্য়ক টাইমস ম্যাগাজিন। শরিফুল ইসলাম ভূঁ্ইয়া | তারিখ: ১৯-০৮-২০১১

পটকা একটি বিষাক্ত মাছ



দেখতে গো-বেচারা টাইপের হলেও মাছটি অত্যন্ত বিষাক্ত। আমাদের সমুদ্রে এই মাছ খুব একটা পাওয়া যায় না। তবে মাঝে মধ্যে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এ মাছ সম্পর্কে জেলেদের কোনো ধারণা না থাকায় তারা নিজেরা এ মাছ খায় অথবা বাজারে বিক্রি করে। বিষাক্ত এ মাছ খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে অথবা মারা যায়। আর তখন পত্রিকায় খবর বের হয় 'পটকা মাছ খেয়ে অমুক জায়গায় এতজন অসুস্থ কিংবা মৃত।' আসলে আমাদের দেশের মানুষ জানেই না যে, পটকা মাছের শরীর আস্ত এটা বিষের থলি। টেট্রোডোটক্সিন নামে এক বিবশকারী বিষ আছে পটকায়। এই বিষ কারও শরীরে ঢুকলে মৃত্যু অবধারিত। জলজ পৃথিবীতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় একশ' প্রজাতির পটকা মাছ আছে। বিপদে পড়লে কিংবা উত্তেজিত হলে পানি খেয়ে অথবা পেটে বাতাস ঢুকিয়ে এরা ফুটবলের আকৃতি ধারণ করতে পারে। টিয়া পাখির ঠোঁটের মতো বাঁকানো অত্যন্ত শক্তিশালী দু'পাটি দাঁত আছে এদের। এই দাঁতের সাহায্যে এরা শিকারকে কাবু করে ফেলে। এদের শিকার সাধারণত শামুক, ঝিনুক, গলদা চিংড়ি ইত্যাদি। পটকা মাছ খুব একটা সাঁতার কাটতে পারে না। পানিতে এরা অলস ভঙ্গিতে চলাফেরা করে। কিন্তু পটকার বিষের হিসাব কষতে গেলে খটকা লেগে যায়। একটা মাঝারি আকারের জাপানি পটকায় যে টেট্রোডোটক্সিন থাকে, তা ৩০ জনেরও বেশি লোকের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আরও খটকা লাগে বিষাক্ত জেনেও জাপানিদের পটকাপ্রীতি দেখে। তাদের জিহ্বা যেন পটকার স্যুপ খাওয়ার জন্য সারাক্ষণ আকুপাকু করে। পটকাকে জাপানিরা বলে 'ফুগু'। ফুগু পটকা আকারে প্রায় তিন ফুট আর ওজন ৩০ পাউন্ড পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিছু ফুগুর সারা গায়ে আবার কাঁটা থাকে। যাই হোক, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শেফরা ফুগুর স্যুপ তৈরি করে সরকার অনুমোদিত রেস্তোরাঁগুলোতে।
মুলসুত্র: http://www.bangladesh-pratidin.com/?view=details&type=gold&data=Leather&pub_no=476&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=3

কর্পারভেল্ট (মানব দেহের রহস্য প্রদর্শনী )


জার্মানির রাজধানী বার্লিনে সম্প্রতি চলছে মানবদেহের প্রদর্শনী। শরীরের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ থেকে শুরু করে মানবশিশু জন্মের গোটা প্রক্রিয়ার জলজ্যান্ত উদাহরণ দেখতে প্রতিদিন সেখানে ভিড় করছে অনেক মানুষ। বার্লিনের এই মানবদেহের প্রদর্শনীর নাম কর্পারভেল্ট। ডাস অরিজিনাল বা ইংরেজিতে বডি ওয়ার্ল্ডস দি অরিজিনাল এক্সিবিশন। এখানে গেলে প্রথমেই আপনি হয়তো চমকে যেতে পারেন। সামনেই দেখতে পাবেন মানবদেহ আর কঙ্কালের ছড়াছড়ি। আগে থেকে কারও জানা না থাকলে হয়তো বিশ্বাসই করবেন না যে, প্রদর্শনীতে থাকা এসব মানবদেহ একসময় আমার-আপনার মতোই জলজ্যান্ত মানুষ ছিল। দেখলে মনে হবে, চামড়া ছাড়ানো এসব মানুষ আপনার দিকেই তাকিয়ে আছে। শরীরের প্রত্যেকটি পেশিই যেন তাজা লাল রংয়ের।

এই কর্পারভেল্ট প্রদর্শনীতে ঢোকার পর থেকে মানবদেহের অনেক রহস্য খোলাসা হয়ে যায়। আমাদের দেহের ভেতর লুকিয়ে থাকা যন্ত্রগুলো দেখতে কেমন এবং কিভাবে কাজ করে তা চোখের সামনেই প্রায় জ্যান্ত হয়ে ধরা দেয়। প্রদর্শনীর একদিকে মানবদেহের পেশিগুলো কিভাবে কাজ করে তা দেখানো হচ্ছে। এজন্য সংরক্ষিত মানবদেহগুলোকে একেক ভঙ্গিতে দাঁড় করানো হয়েছে। কোনোটি দৌড়াচ্ছে, কোনোটি টেনিস খেলার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে, কোনোটি আবার ঘোড়ায় চড়ছে। মজার বিষয় হচ্ছে সঙ্গে থাকা ঘোড়াটিরও ব্যবচ্ছেদ করে বিশেষভাবে সংরক্ষিত করা হয়েছে।



প্রদর্শনীর অন্যদিকে আবার মানুষের হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, কিডনিসহ সবকিছুই দেখানো হচ্ছে। অবাক হওয়ার মতো বিষয় যে, এসব যন্ত্র একটা মানুষের শরীরে কিভাবে থাকে সেটা দেখানোর জন্য পুরো একটা মানুষকে নানাভাবে ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো একটা মানবদেহকে ঠিক মাঝখান থেকে চেরা হয়েছে, কোনোটাকে আবার ঠিক পেছন থেকে চেরা হয়েছে, কোনোটা আরও বেশি। দেখলে মনে হবে, আপনার সামনে তিন টুকরো হয়ে থাকা একটা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, আর তার ভেতরের সবকিছু আপনি বাইরে থেকেই দেখতে পাচ্ছেন। শুধু মানুষ নয়, অনেক প্রাণীকেও একইভাবে সংরক্ষণ করে এই প্রদর্শনীতে দেখানো হচ্ছে। এই যে দেহ সংরক্ষণের অত্যাধুনিক পদ্ধতি, তার নাম প্লাস্টিনেশন। ১৯৭৭ সালে জার্মান বিজ্ঞানী গুন্টার ফন হাগেন্স এই প্লাস্টিনেশন আবিষ্কার করেন। ১৯৯৫ সালে সর্বপ্রথম জাপানে মানবদেহ প্রদর্শনী শুরু হয়। মানবদেহের এই প্রদর্শনী নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে গুন্টার ফন হাগেন্স বলেন, 'মনে রাখবেন আমাদের সবাইকে মরতে হবে। এই প্রদর্শনী সেটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে এখানে থাকা প্লাস্টিনেট হওয়া মানবদেহগুলো আগতদের প্রতি সেই বার্তাই দিচ্ছে যে, তোমার মতো আমিও একসময় ছিলাম এবং আমার মতো তোমাকেও একসময় হতে হবে। এখানে যেসব মানবদেহকে দেখতে পাচ্ছেন, তারা তাদের জীবদ্দশায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের দেহগুলোকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে, যাতে তারা গবেষণা করতে পারে।

এখন পর্যন্ত ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার ৬৫টি শহরে এ ধরনের মানবদেহের প্রদর্শনী হয়েছে। এ প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে তার শরীর সম্পর্কে সচেতন করা, যেমনটি বললেন গুন্টার ফন হাগেন্স। প্রথম হচ্ছে দর্শনার্থীদের তাদের শরীর সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়া। আমরা একটি কৃত্রিম জগতে বাস করি। একজন সাধারণ মানুষ লক্ষ্য করে না যে সেও প্রকৃতিরই একটি অংশ। দ্বিতীয়ত, অ্যানাটমি বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা।'

গুন্টার ফন হাগেন্সের এই মানবদেহ সংরক্ষণ পদ্ধতি ও তার প্রদর্শনী নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে তা একটি বড় অবদান রেখে চলেছে। জার্মানির হাইডেলবার্গে অবস্থিত ইনস্টিটিউট ফর প্লাস্টিনেশনে প্রতিবছর অনেক মানুষ তাদের দেহ দান করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সাড়ে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের দেহ দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে কেবল জার্মানির সাড়ে দশ হাজার মানুষ তাদের দেহ দান করবেন। মৃত্যুর পর এসব মানুষের দেহ প্লাস্টিনেশনের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে আর ব্যবহৃত হবে গবেষণার কাজে।

(ডয়চে ভেলে অবলম্বনে) * নাজমুল হক 

মুলসুত্র: http://www.bangladesh-pratidin.com/?view=details&type=gold&data=Entertainment&pub_no=476&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=1

অদ্ভুত গালাপাগোস

গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জকে নানা কারণেই বলা হয় রহস্যময় অঞ্চল। এখানকার প্রকৃতির আচরণ যেমন বিচিত্র তেমনি অদ্ভুত প্রাণিকুলের ধরন। এ অঞ্চলের প্রকৃতি সব সময় যেন বিচিত্র খেয়ালি হয়ে বিচরণ করে। আকাশ, বাতাস, সাগর, মাটি সবখানেই প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার উদাহরণ জ্যান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের আকাশে প্রায় সময়ই বয়ে চলে প্রচণ্ড হাওয়ার স্রোত। সেখানকার সাগরে এলোমেলো ঢেউ আর খরস্রোতের তাণ্ডব। আবার যখন তখন নেমে আসে চারদিক আঁধার করা কুয়াশা। প্রকৃতির এত্তসব বিপত্তি পেরিয়ে সেখানে জাহাজ চালানো খুব কঠিন ছিল। এসব প্রতিকূল পরিবেশ দেখে প্রাচীনকালের নাবিকরা এ অঞ্চলের নাম দিয়েছিল 'জাদুদ্বীপ' বা 'মায়াদ্বীপ'। গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান দক্ষিণ আমেরিকার এক হাজার কিলোমিটার পশ্চিমে নিরক্ষরেখা বরাবর। ১৮৩৫ সালে বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন এই রহস্যময় অঞ্চল ভ্রমণে আসেন। এই দ্বীপপুঞ্জে তার পর্যবেক্ষণের ফলে বিবর্তন প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি নতুন এক তত্ত্ব সংযুক্ত করেন। সেটাকে বলা হয় প্রাকৃতিক চয়নতত্ত্ব। এখানে যেসব প্রাণী বিচরণ করে তাদের দেখে আশ্চর্য হতে হয়। এখানকার উদ্ভিদও বৈচিত্র্যের দিক থেকে অনন্য। সামুদ্রিক পাখিদের বেশ কয়েকটি প্রজাতি কেবল গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জেই দেখতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে আছে গালাপাগোস পেঙ্গুইন, উড়তে অক্ষম করমোর‌্যান্ট আর ওয়েভড অ্যালবাট্রস। বিশেষ এই প্রাণীগুলোর দেখা পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যাবে না। তবে যে দুটি প্রাণীর কারণে গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ সবচেয়ে বিখ্যাত তারা হলো টোরটোয়াইজ বা দৈত্যাকার কচ্ছপ আর সামুদ্রিক ইগুয়ানা। মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানকার বাসিন্দা প্রাণিকুল মানুষের উপস্থিতিকে মোটেই ভয় পায় না। মানুষ নামের দোপেয়ে জীবটাকে যে একটু ভয় পাওয়া দরকার সে ব্যাপারটাই বোধ হয় ওদের মাথায় ঢোকে না। শুধু জীববৈচিত্র্যই নয়, এখানে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রজাতির গাছের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না। এখানকার ঝঞ্ঝাপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে গাছ আর প্রাণীগুলো বিচিত্রভাবেই বেড়ে উঠেছে। সবমিলিয়ে উদ্ভিদ, প্রাণী, পরিবেশসহ নানা ভঙ্গিমার বিজ্ঞানী আর টেলিভিশন চ্যানেলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থেকেছে এই অঞ্চল।

১৫৩৫ সালে পানামার বিশপ তোমাস দ্য বারলাঙ্গা হঠাৎ করেই গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ আবিষ্কার করেন। সপ্তদশ শতাব্দীতে জলদস্যুরা ওই দ্বীপপুঞ্জকে তাদের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করত। ওখানকার বিরূপ প্রকৃতি তাদের যথেষ্ট সাহায্য করে। ১৮৩২ সালে গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের নতুন নামকরণ করা হয় 'আর্কিপিয়েলাগো দ্য কলোন'।
মুলসুত্র: http://www.bangladesh-pratidin.com/?view=details&type=gold&data=Hotel&pub_no=476&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=0

৪০০ বছরের ঢাকার বিদেশিরা



  • ঢাকার প্রথম সেশন জজ শেরম্যান বার্ড ঢাকার প্রথম সেশন জজ শেরম্যান বার্ড
    ছবি: শামীম আমিনুর রহমানের সৌজন্যে
  • জি এন পোগজ জি এন পোগজ
  • ঢাকায় এক ইংরেজ পরিবারের বসতবাড়ি ঢাকায় এক ইংরেজ পরিবারের বসতবাড়ি
ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ ১৭৯০ সালে ব্রিটিশ সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব দেন। সেখানে তিনি জানান, ব্রিটিশ জাতির জন্য বড়ই লজ্জাকর ঘটনা ঘটে গেছে। বাংলায় ভাগ্যান্বেষণে এসে হাজার হাজার ব্রিটিশ নাগরিক মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভবঘুরে ও অপরাধী হিসেবে অনেকে জেলেও নিক্ষিপ্ত হয়েছে। বাংলায় ভাগ্যান্বেষী ব্রিটিশ নাগরিকদের আগমন ঠেকাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ওই বছর থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বা সরকারের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ব্রিটিশ নাগরিকের বাংলায় আসা নিষিদ্ধ করা হয়। সিরাজুল ইসলাম তাঁর ঐতিহাসিকের নোটবুক বইতে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে দেখিয়েছেন, তখন ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছে এমন বিশ্বাস ছিল যে কোনোমতে একবার বাংলামুলুকে পা রাখতে পারলেই কেল্লাফতে।
বাংলার সমৃদ্ধির ইতিহাস কিংবদন্তিকেও হার মানায়। পরশপাথরতুল্য সেই সমৃদ্ধির ছোঁয়ায় নিজেদের ভাগ্য বদলাতে কেবল ব্রিটিশরাই নয়, বরং তাদের অনেক আগে থেকেই ইউরোপের বিভিন্ন জাতি বারবার এসেছে বাংলায়। তাদের অনেকে স্থায়ী বসতও গড়ে তুলেছে। এ প্রসঙ্গে ফরাসির বিখ্যাত পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ারের একটি মন্তব্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলা রাজ্যে প্রবেশ করার জন্য রয়েছে শত দ্বার, কিন্তু বেরোবার জন্য নেই একটিও।’ তিনি ১৬৬৬ ও ১৬৭০ সালে দুবার এসেছিলেন বাংলায়। তখন ইউরোপের ধারণা ছিল, মিসরই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ। কিন্তু বাংলায় এসে বার্নিয়ারের সেই ধারণা বদলে যায়। বাংলার সমৃদ্ধি দেখে তিনি এ দেশকে বলেছিলেন, ‘বাংলা হচ্ছে বিশ্ব রুপার বেসিন।’ এই সমৃদ্ধিই আলোর আকর্ষণে ছুটে আসা পতঙ্গের মতো পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, আর্মেনিয়ান, ফরাসি, ইংরেজ ও গ্রিকদের টেনে এনেছে এখানে।
বাংলার রাজধানী, মসলিনের শহর, সরু সুগন্ধি চালের শহর, অকল্পনীয় সস্তার শহর ঢাকা হয়ে উঠেছিল তাদের স্বপ্নের শহর—ভাগ্য ফেরানোর ঠিকানা। তাদের অনেকেই আর এই শহরের মায়া কাটিয়ে ফিরতে পারেননি স্বদেশে। এখানেই থেকে গিয়েছিলেন। কালের বিবর্তনে এককালের বিশ্বের সমৃদ্ধতম এই দেশের রাজধানী আজ হতমান। কিন্তু সেই গৌরবের স্মৃতি, ভাগ্যান্বেষণে আসা একসময়ের দরিদ্র, হালের ধনী দেশগুলোর নাগরিকদের নানা স্থাপনা ও নিদর্শন আজও এই মহানগরের গৌরবের দিনগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

মোগল
ঢাকাকে রাজধানীর মর্যাদা দেওয়ার কৃতিত্ব মোগলদের। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সেনাপতি সুবাদার ইসলাম খান দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসে রাজধানীর পত্তন করেছিলেন ১৬১০ সালে। তাঁদের সময়েই ব্যবসা-বাণিজ্যে, শৌর্যবির্যে, নয়নাভিরাম স্থাপনা ও উদ্যানে ঢাকা হয়ে উঠেছিল তৎকালীন বিশ্বের সেরা নগরগুলোর একটি।

ওলন্দাজ
ইউরোপে তখন ভারতের মসলা সোনার চেয়েও দামি। সেই মসলার জন্যই পর্তুগিজদের দেখানো জলরেখা ধরে ভারতে যে দ্বিতীয় ইউরোপীয়দের আগমন, তারা হল্যান্ডবাসী। ঢাকায় তাদের আগমনের তারিখও অজানা। তারা কুঠি স্থাপন করেছিল মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে, ১৬৬৩ সালে। তেজগাঁওয়ে তাদের একটি বাগানবাড়িও ছিল। ওলন্দাজরা ব্যবসা-বাণিজ্যে সফল হতে পারেনি। টেলর উল্লেখ করছেন, ১৭৮৩ সালে ঢাকায় ৩২টি ওলন্দাজ পরিবার ছিল। ইংরেজদের কাছে তারা সহায়-সম্পত্তি তুলে দিয়ে ঢাকার পাট চুকিয়ে ফেলেন। এম হাসান দানীর ঢাকা বইতে উল্লেখ করা হয়েছে, নারিন্দার খ্রিষ্টান কবরস্থানে ১৭৭৫ সালের কুঠিপ্রধান ডি ল্যাংহিটের কবরটিই এখন ঢাকায় ওলন্দাজদের একমাত্র স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে টিকে আছে।

ফরাসি
ঢাকায় ফরাসিদের স্মৃতি বহন করছে পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জ এলাকাটি। ঢাকার নায়েব নাজিম নওয়াজিশ খান ১৭২৬ সালে ফরাসিদের গঞ্জ বসানোর অনুমতি দিলে তারা একটি আবাসন গড়ে তোলে ফ্রেঞ্চগঞ্জ নামে। পরে লোকমুখে এর নাম হয় ফরাশগঞ্জ। তবে এর আগেই ফরাসিদের ঢাকায় আবির্ভাব। সৈয়দ মোহাম্মদ তাইফুর গ্লিম্পসেস অব ওল্ড ঢাকা বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ১৭২৬ সালে ফরাসিরা প্রথম কুঠি করেছিল তেজগাঁওয়ে। প্রধানত মসলিন বস্ত্রের ব্যবসা করত তারা। তবে তারা ইংরেজদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। পলাশীর যুদ্ধের পর এখান থেকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে যায়।

পর্তুগিজ
ইউরোপীয়দের মধ্যে ঢাকায় প্রথম এসেছিল পর্তুগিজরা। ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কারের কৃতিত্ব তাদেরই। ভাস্কো দা গামা কালিকট বন্দরে তাঁর জাহাজ ভিড়িয়েছিলেন ১৪৯৮ সালে। উদ্দেশ্য, ভারতের মসলা হাসিল করা। সেই পথ ধরে পরে ইউরোপের আরও অনেকের আগমন। ঢাকায় পর্তুগিজরা প্রথম কবে এসেছিল, তা সঠিক জনা যায় না। পর্তুগিজ পাদির ও পর্যটক মেস্ট্রো ফ্রে সেবাস্টিন মানরিক সপ্তদশ শতকে তিনবার এসেছিলেন বাংলায়। প্রথমবার তিনি ১৬২৮ বা ২৯ সালে আরাকানে যাওয়ার পথে ‘বঙ্গদেশ’ ভ্রমণ করেছিলেন। এর অন্তত ১০০ বছর আগেই বঙ্গদেশে পর্তুগিজদের আগমন ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন (বঙ্গবৃত্তান্ত: অসীম কুমার রায়, সেবাস্টিন মানরিকের বঙ্গদেশ ভ্রমণ)।
জেমস টেলর তাঁর কোম্পানি আমলে ঢাকা বইতে উল্লেখ করেছেন, ষোড়শ শতকের মধ্যভাগে ঢাকায় পর্তুগিজরা বসতি স্থাপন করে। তেজগাঁও এলাকায় তারা কুঠি স্থাপন করে। তবে পর্তুগিজরা ঢাকায় কত কাল ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে, তা স্পষ্ট নয়। ঐতিহাসিক মুনতাসীর মামুন ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ১৮৩২ সালে ঢাকায় পর্তুগিজদের বাড়ি ছিল ৪১টি। ইসলামপুর, শরাফতগঞ্জ ও নবাবপুরে ছিল তাদের বসবাস।

ইংরেজ
ব্রিটিশরা ভারতে এসেছিল ১৬০০ সালে। ঢাকায় তাদের উপস্থিতি সম্ভবত ১৬৫৮ সালের দিকে বলেই ঐতিহাসিকেরা মনে করেন। পর্তুগিজ ও ওলন্দাজদের পরে আসার কারণে ব্রিটিশরা তখন শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জায়গা পায়নি। তাদের প্রথম বাণিজ্যকুঠি স্থাপিত হয় শহরতলিতে, বর্তমানের তেজগাঁওয়ের খামারবাড়ি এলাকায়। টেলর উল্লেখ করেছেন, ঢাকায় ইংরেজদের ফ্যাক্টরি প্রথম স্থাপিত হয়েছিল ১৬৬৬ সালে। ব্রিটিশরা চেষ্টা করে সুবাদারের কাছাকাছি থাকতে। কয়েক বছরের মধ্যেই তারা বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে কুঠি স্থানান্তর করে এবং ১৬৭৮ সালে নবাবকে নানা উপঢৌকন দেওয়ার মধ্যমে বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার অনুমতি লাভে সমর্থ হয়। মসলিন বস্ত্র ছিল তাদের প্রধান ব্যবসা। পরের ইতিহাস তো সবারই জানা। মুনতাসীর মামুন লিখেছেন, ‘দেওয়ানি লাভের পর আরও জাঁকিয়ে বসেছিলেন ইংরেজরা। তখন কুঠির আর প্রয়োজন ছিল না। কারণ পুরো দেশটাই ছিল তখন তাদের।’

গ্রিক
লবণ ও পাটের কারবার করে বেশ টাকাকড়ি করেছিল গ্রিকরা। ঐতিহাসিকদের মতে, ইউরোপীয়দের মধ্যে তারাই ঢাকায় এসেছিল সবার পরে। জেমস টেলর উল্লেখ করেছেন, কলকাতার গ্রিক সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা আরগিরি ঢাকায় বসবাস করতেন এবং ১৭৭৭ সালে তিনি পরলোকগমন করেন। তাঁর পরে অনেকেই আসে। মুনতাসীর মামুন উল্লেখ করেছেন, গ্রিকরা কবে এসেছিল, তা জানা যায় না। তবে ১৮৩২ সালে ঢাকায় ২১টি পরিবার ছিল। ঢাকায় তারা একটি গির্জাও স্থাপন করেছিল। ঢাকার গ্রিকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিয়েশাদি করত। তবে তারা স্বল্পায়ু হতো। রেসকোর্সের পাশে ছিল তাদের কবরস্থান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে একটি গ্রিক কবর তাদের স্মৃতিবাহী। ঢাকা ছাড়া নারায়ণগঞ্জেও গ্রিকদের বসবাস ছিল। সেখানে ১৯৫৬ সালে র‌্যালি ব্রাদার্স নামের একটি পাটকল চালু করেছিল র‌্যালি ভাইয়েরা।

কাশ্মীরি
ঢাকায় যেসব কাশ্মীরি ধনে-মানে খ্যাতি ও প্রতিপত্তি অর্জন করেছিল, তাদের মধ্যে ঢাকার নবাব পরিবার অন্যতম। এই পরিবারের আদি পুরুষ আবদাল হাকিম নবাব আলীবর্দী খানের সময়ে প্রথমে বসতি স্থাপন করেছিলেন সিলেটে। পরে তাঁরা ঢাকায় আসেন। লবণ ও চামড়ার কারবারে প্রভূত ধনসম্পদ অর্জন করেন। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম ঐতিহাসিকের নোটবুক বইয়ে উল্লেখ করেছেন, আবদাল হাকিমের ভাই আব্দুল্লাহ সিলেট থেকে ব্যবসা গুটিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। তাঁর পুত্র হাফিজুল্লাহ আর্মেনীয়দের সঙ্গে যৌথ কারবার করে বিত্তবৈভব বাড়িয়ে তোলেন এবং ১৮১২ সালে বাকেরগঞ্জে জমিদারি ক্রয় করেন। নিঃসন্তান হাফিজুল্লাহর পর উত্তরাধিকারী হন তাঁর ভাই খাজা আলিমুল্লাহ। তাঁর পুত্র নবাব আবদুল গনি। ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে বংশপরম্পরায় নবাব উপাধি লাভ করেন। তাঁর পুত্র নবাব আহসানুল্লাহ এবং তাঁর পুত্র নবাব সলিমুল্লাহ। ঢাকায় বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎব্যবস্থা চালুসহ চিকিৎসা, শিক্ষাবিস্তার, সংস্কৃতির চর্চা ও নগর উন্নয়নে এই পরিবারের অবদান বিপুল। তাদের বংশধরেরা এখনো ঢাকায় বসবাস করছেন।

আর্মেনিয়ান
যেমন ফরাশগঞ্জ, তেমনি আরমানিটোলা এবং সেখানকার প্রাচীন গির্জা, পোগজ স্কুল, রূপলাল হাউস ঢাকায় আর্মেনীয়দের স্বর্ণযুগের সাক্ষী দেয়। ঢাকায় ঘোড়ার গাড়ি চালুর কৃতিত্বও তাদের। আর্মেনীয়দের সম্পর্কে বিস্তারিত আছে মুনতাসীর মামুনের হূদয় নাথের ঢাকা শহর বইয়ে। তিনি জানিয়েছেন, ‘আর্মেনীয়দের আগমনের সময় অজ্ঞাত। সম্ভবত সপ্তদশ শতক থেকেই তারা ঢাকায় আসতে শুরু করে। লবণ, পাট ও কাপড়ের ব্যবসায় তারা বিস্তর অর্থবিত্তের অধিকারী হয়। সামাজিক প্রভাবও বেড়েছিল। জমিদারিও কিনেছিল ভোলা, বরিশাল অঞ্চলে।’ উনিশ শতকের প্রভাবশালী আর্মেনীয় পরিবারগুলোর মধ্যে ছিল—পোগজ, আরাতুন, পানিয়াটি, কোজা মাইকেল, মানুক প্রভৃতি। ঢাকায় তারা বেশ কিছু সুরম্য হর্ম্য তৈরি করেছিল বসবাসের জন্য। রূপলাল হাউসের কথা আগেই বলা হয়েছে। বর্তমান বাফা ভবনটি ছিল নিকি পোগোজের বাড়ি। আরমানিটোলায় ছিল তাঁর কুঠি। আরমানিটোলার গির্জাটি নির্মিত হয়েছিল ১৭৮১ সালে। উনিশ শতকের শেষ দিকে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা দেখা দেয়। অনেকেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলে যায়।

চীনা ও অন্যান্য
চীনারা ঢাকায় জুতার ব্যবসায় বেশ অগ্রগতি লাভ করেছিল। মিটফোর্ড এলাকায় ছিল তাদের কারখানা। এ ছাড়া তারা লন্ড্রির ব্যবসায়ও নিয়োজিত ছিল।
ইরানিরা ঢাকায় আসে সপ্তদশ শতকে। ইরাকিরা এখানে এসেছিল প্রধানত দিল্লি থেকে। তারা মূলত শিয়া সম্প্রদায়ের। হোসেনি দালান ইমামবাড়াকেন্দ্রিক তাদের সম্প্রদায়ের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। ঢাকার বেনারসি কারিগরদের পূর্বপুরুষ এসেছিল ভারতের বেনারস থেকে। মিরপুরে তাদের প্রধান বসতি। তেলেগু সম্প্রদায়ের ঢাকা আগমন উনিশ শতকে। সায়েদাবাদ এলাকায় এখনো তাদের বংশধরদের বসবাস। রাজধানী হিসেবে ৪০০ বছরের মাইলফলক পেরিয়ে গেল এই শহর। আগের মতো ধনবল তার নেই বটে, তবে আছে জনবল। এই জনবল কি পারবে ঢাকার হূতগৌরব ফিরিয়ে আনতে? 
 
মুলসুত্র: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-07-29/news/173747

এক টুকরো মেঘ ও দুখী গাছ



এক টুকরো মেঘ। পথভুলে এদিক-ওদিক ছুটোছুটি করছে আকাশে। তার কোনো সঙ্গী নেই। তার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে আছে। সে একা একা ভেসে বেড়ায় আকাশে। দিন যায়, রাত যায়। মেঘের টুকরোটি ভাসতে ভাসতে চলে আসে অনেক দূর। নিচে তাকিয়ে দেখে বিশাল মাঠে একটি গাছ দাঁড়িয়ে আছে। গাছটির আশপাশে আর কোনো গাছ নেই। মেঘটি মনে মনে ভাবল, বোধহয় ওই গাছটি আমার মতোই একা। আমার মতো তারও যদি কোনো কষ্ট থাকে! একা থাকার কষ্ট। আমি যাই না কেন তার কাছে? মেঘটি ধীরে ধীরে চলে এলো গাছটির কাছে। দেখে মনে হলো রোগাপটকা গাছটি অনেক সংগ্রাম করে কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে। একটি পাতাও নেই শাখায়। মেঘটি আরেকটু কাছে আসতেই দুর্বল গাছটি করুণভাবে তাকাল তার দিকে। কিন্তু কিছুই বলল না।

মেঘটি আরও কাছে এলো। মেঘের শীতল ছায়া গিয়ে পড়ল গাছের ওপর। ওমনি গাছটির গতর কেঁপে উঠল। আহ্ কী আরাম_ আপন মনে বলে উঠল গাছটি।

মেঘটি বলে, গাছভাই, এ বিশাল মাঠে আর কাউকে দেখছি না যে! তুমি কি আমার মতোই একা? তোমার শরীর-স্বাস্থ্যের এ অবস্থা কেন?

কী আর বলব ভাই। ভীষণ কষ্টের মধ্যে পড়ে আছি। এই যে বিশাল পতিত ভূমি দেখছ, এখানে আর কোনো গাছ নেই। আমি একদম একা। আমার সঙ্গে কথা বলার কেউ নেই। আমার কষ্টের কথা কাউকে বলতে পারি না। তুমি কি আমার সঙ্গে থেকে গল্প করবে মেঘভাই? মায়া করে বলল গাছটি।

মেঘটি আনন্দে মুখ বাড়িয়ে বলে, দেখ, তোমার মতো আমারও অনেক কষ্ট। একা একা থাকি। মনের কথা মনের ভেতরে পড়ে আছে; বলতে পারি না কাউকে। আমি তোমার কাছেই থাকব। আমরা অনেক গল্প করব। আনন্দে কেটে যাবে সময়।

গাছটি খুশি হয়ে বলে, আচ্ছা, তাহলে এখন থেকে আমরা দু'জন পরাণের বন্ধু হয়ে গেলাম। কেউ কাউকে কখনো ছেড়ে যাব না। কথা দাও মেঘভাই।

কথা দিলাম_ বলে মেঘটি গাছে এসে বসল। মেঘের ছোঁয়ায় গাছটি তরতাজা হয়ে উঠল। কচি কচি পাতা গজাতে শুরু করল। দেখতে দেখতে সবুজ পাতায় আর ফুলে-ফলে ভরে গেল গাছটি। কী সুন্দর গাছ!

একটা কাঠবিড়ালি কোত্থেকে এসে আনন্দে ছুটোছুটি করতে লাগল গাছের ডালে ডালে, পাতায় পাতায়। পোকামাকড়রা বাসা বাঁধতে লাগল। নানা জাতের পাখি এসে কিচিরমিচির করছে, গান গাইছে, তারা মনের সুখে বাসা তৈরি করে সংসার পাতছে। বনের পশুরা শিকার ধরে খেয়েদেয়ে গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছে। এসব কারণে গাছটি নিজেকে খুব বড় কিছু মনে করতে লাগল। সে বড়াই করে বলে, এই বিরানভূমিতে আমার আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া পশুপাখিরা বেঁচে থাকতে পারবে না কিছুতেই। সে নিজেকে তার কাছে আশ্রয় নেওয়া পশুপাখি, পোকামাকড়দের রাজা ভাবতে শুরু করল।

গাছটি আগের মতো মেঘের সঙ্গে আর গল্প করে না। মেঘের খবরও নেয় না। এমনকি আগ্রহ করে তার সঙ্গে একটি কথাও বলে না। খুব কষ্ট পেল মেঘটা। সে গাছের এক কোণে চুপচাপ বসে থাকে সারাদিন। মেঘ ভাবে, এভাবে আর বসে থেকে লাভ কী? আমি তো সেই আগের মতো একা হয়ে গেলাম। গাছভাই, তুমি যদি আমার সঙ্গে গল্প না কর, তো আমি খুব কষ্ট পাই। আমি এমন কী অন্যায় করেছি যে, তুমি একটি কথাও বলছ না আমার সঙ্গে? কষ্টে আর অভিমানে কেঁদে ফেলল মেঘটি। গাছটি ত্যাজ দেখিয়ে বলে, দেখছ না কত ব্যস্ত আমি। এতটুকু সময় নেই আমার। কত পশু আমার ছায়ায় এসে প্রাণ জুড়ায়, কত পোকামাকড় আর পাখি আমার ফুল-ফল খেয়ে আমার আশ্রয়ে বেঁচে আছে। তাদের সুখ-দুখ আমাকে দেখতে হয়। শাসন করতে হয়। কারণ ওরা আমার প্রজা। কথা বলার সময় নেই আমার। এখন আমি খুবই ব্যস্ত। বরং তুমি অন্য চিন্তা কর গে। মেঘ অবাক হয়ে বলে, অন্য চিন্তা কর গে, মানে? গাছটি বলল, আমি তো তোমাকে মোটেও সময় দিতে পারছি না। বিরাট রাজ্য আমার। সবাইকে নিয়ে আমার ভাবতে হয়। দেখ, এমন কোনো বেকার গাছের সন্ধান পাও কি না যে সারাক্ষণ চুটিয়ে গল্প করতে পারবে তোমার সঙ্গে। মেঘটি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, ও, এই কথা? ঠিক আছে, বিদেয় হই তাহলে। গাছ খুশি হয়ে সঙ্গে সঙ্গে বলে, যাও, ভালো থেকো বন্ধু। মন খারাপ করে চলে গেল মেঘ। মেঘটি চলে যাওয়ার পর গাছটি শুশুকিয়ে যেতে লাগল। তার পাতাগুলো ঝরে পড়ে গেছে। গাছের পাতা নেই, ছায়া নেই। ধীরে ধীরে তার কাছ থেকে সরে গেল পশুপাখি, পোকামাকড় সব। ঠিক আগের মতো একা ও দুখী হয়ে গেল গাছটি। এখন আকাশের দিকে চেয়ে থাকে দুখী গাছটি। যদি মেঘবন্ধুর দেখা পাওয়া যায়! একদিন গাছটি দেখে তার ওপর দিয়ে সেই মেঘটি অন্য মেঘের সঙ্গে হাসি-তামাশা করতে করতে উড়ে যাচ্ছে। গাছটি চিৎকার করে 'মেঘবন্ধু মেঘবন্ধ'ু বলে ডাকল, কিন্তু তার দিকে ফিরেও তাকাল না মেঘটি। 
বিএম বরকতউল্লাহ

ব্লাকহোল রহস্য

gõøwKËpwl ipwKwËmk GK Addø kpoø„ pwlKwhwËg glËl glw jwt, gõøwKËpwl pËâQ ipwmÔËdøk ÌoB GlwKw, ÌjLwËd AxZiw¢wt Gk ebwaê GZUwB NdyhÓZ pËt AwËQ Ìj, Gk AwmewËmk gþçk ÌKwËdw Dewt ÌdB Gk MÞøwxhxU gw ipwKnê gËlk UwdËK DËeqw KkËZ ewËk„ GB iÖpÔËZê AwiwËbk KwËQ oËgêw£i MÞøwxhxU xaIxk pËâQ AwBdýUwBËdk ÌRdwËkl xaIxk Ag xkËlxUxhxU gw owcwkY AwËexqK Z£ò„ Ìo Rdø AwiwËbk Mhyk MËgnYw KkËZ pËg GB ZË£òk flwfl xdËt­ gõøwKËpwËlk xgþæwxkZ RwdËZ I gÖSËZ pËl„ xKìç Ìo KwRxU KkËZ pËg GKUÖ cyËk-oÖËþÿ„ MÞøwxhxU oóeËKê hwgËZ pËg GKbi okl-opR NUdw xdËt„

ckØd, Awexd b^wxrËt AwËQd ÌKwËdw GK MÞËpk IeËk„ LÖg GKUw ÌRwËk dt þðwhwxgK mx£ß LwxUËt ÌowRw IeËk AwKwËmk xbËK GKxU ewak QÖËr iwkØd„ ewakxU xKQÖ oit IeËkk xbËK DVËg„ xKìç Ìmn ejêìæ MÞpxUk iwcøwKnêËYk UwËd Zw Awgwk xdËP ÌdËi AwoËg„ jxb ewakxU ejêw® ÌRwËk QÖrËZ ewkËZd, ZËg Awedwk b^wxrËt awKw MÞpxUk iwcøwKnêY gËlk Uwd DËeqw KËk ewakxUËK ipwmÔËdø ewxVËt xbËZ ewkËZd„ GxU xPkxbËdk Rdø DeËkk xbËKB DVËZ awKZ„ GLd KZ ÌRwËk Aaêwu KZ ÌgËM Q×rËl ewakxU MÞpxUk UwdËK DËeqw KËk ipwmÔËdø PËl ÌjËZ ewkZ, Zw xdhêk KËk MÞpxUk hËkk Iek„ Ìj ÌgËM IB ewakxU QÖrËl Zw ipwKwËm PËl ÌjËZ ewkZ, ZwËK glw pt IB MÞËpk GoËKe ÌhËlwxoxU„ MÞpxU jZ Ìgxm gr gw †kØhwk G GoËKe ÌhËlwxoxUI ZZ Ìgxm„ GKxU pwlKw-ewZlw MÞËpk GoËKe ÌhËlwxoxU pËg Ki„ G Qwrw Awexd MÞpxUk ÌKëbÛ ÌaËK KZ IeËk Agþÿwd KkËQd Zwk Iek GoËKe ÌhËlwxoxUk iwd xdhêk KkËg„ AwiwËbk eÙxagyk ÌqË¢ GoËKe ÌhËlwxoxUk iwd pËâQ ÌoËKË« 11 bmxiK 2 xKËlwxiUwk gw NåUwt 25 pwRwk iwBl„ P^wËbk Ìglwt Gk iwd ÌoËKË« iw¢ 2 bmxiK 4 xKËlwxiUwk gw NåUwt 5300 iwBl„

Kùedw KkØd Gid GKxU gþç, jwk ÌQw› gøwowËcê eÞPÖk exkiwY hk GidhwËg NdyhÓZ pËt AwËQ Ìj Gk GoËKe ÌhËlwxoxU AwËlwk MxZk ÌPËtI Ìgxm„ ÌjËpZÖ ÌKwËdw xKQ×B AwËlwk MxZk ÌPËt Ìgxm MxZËZ PlËZ ewËk dw, ÌoËpZÖ ÌKwËdw xKQÖB GB gþçk MÞøwxhxU gw ipwKnê gËlk ÌqË¢k gwBËk ÌjËZ ewkËg dw„ GidxK AwËlwKkxmôI G gþçk MÞøwxhxUk UwËd xfËk jwËg IB gþçk xbËKB„ AZGg ÌKwËdw xKQ×B GB gþç AwKnêY glt ÌaËK ÌgxkËt AwoËZ ewkËg dw, ÌjidxU ewkËg dw AwËlwI„ Awk AwËlw jxb ÌoLwd ÌaËK ÌgxkËt AwoËZ dw ewËk, ZËg þðwhwxgKhwËgB Awikw Zw ÌbLËZ ewg dw„

GB hk NdyhÓZ pItw ÌKwËdw gþç ÌaËK AwËlwk gwBËk ÌgxkËt AwoËZ dw Ìbtwk cwkYw iwdÖn ÌRËd ÌMËQ ÌoB AwVwËkwZi mZËKk lwelwËok oiËtB„ AwBdýUwBËdk owcwkY AwËexqK Z£ò AwxgûKwËkk eÞwt ekekB Kwlê ÌowtwUêRxPÀ GB ZË£òzk MwxYxZK oiyKkËYk oiwcwd eÞiwY KËkd„ GB oiyKkËY G ckËdk gþç gxYêZ pt„ Gk AwËkw eËk AËedËpBiwk, ÌhwKf I xo«wËkk iËZw MËgnKËbk Kiêowcdwk oÔ¢ cËk 1930-Gk bmËK iwdÖn †kØZò xbËt hwgËZ ÂkØ KËk Ìj G ckËdk NdyhÓZ hËkk gþç GB ipwxgËmð awKËZ ewËk„ p^øw, GB AËedËpBiwkB exkPwldw KËkxQËld iøwdpwUwd eÞËRƒ„ Gog MËgnK ÌbxLËtËQd, jLd GKxU iøwxoh gw AxZ †kØhwk ZwkKwk Rðwlwxd fÖxkËt jwt, ZLd GxU Gk xdËRk ipwKËnêk UwËdk xgkØ˦ xdËRËK Awk cËk kwLËZ ewËk dw„ ZLd GxU kÕe Ìdt GKxU gõøwKËpwËl„

owcwkY AwËexqK ZË£ò xgdøwo KËk ÌbLwËdw pËtËQ ÌþeoUwBËik g¢ßZwËK„ ÌþeoUwBi pËâQ KwËlk I oiËtk jÖMô ÌeÞqweËU x¢iwx¢K Aaêwu ÑbNêø, eÞþÿ I ÌgcovgxlZ iwe gw xdkyqw„ GKxU iøwxoh AgËRƒ gw †kØhwk gþç GËlwËiËlw KËk Ìbt Ìþeo I UwBiËK„ fËl ÌoLwËd ÌKwawI RøwxixZk þðwhwxgK xdti PËl dw„ GKxU gõøwKËpwËlk KwËQ Ìþeo I UwBËik GB IlU-ewlU pt ogËPËt htwgphwËg„ Gk fËl gõøwKËpwl†Ëlw xgËmn AgwK Kkw ÑgxmËÄøk AxcKwky pt„ xgËmn KËk gõøwKËpwËlk kËtËQ ‘BËhëU pkwBRd’ dwËi GKUw xKQÖ„ GxU GKxU ÌþexkKøwl owkËfo gw ÌMwlyt DexkZl, jw xdcêwkY KËk gõøwKËpwËlk oyiwdw„ Awexd Ìo pkwBRd AxZ¢ßi KkËZ ewËkd xKìç ÌoLwd ÌaËK Awk xfËk AwoËZ ewkËgd dw„ Gk okl Aaê Awexd ÌKwËdw¢ßËi GKgwk Ìo BËhëU pkwBRd ewk pËt ÌMËl, ÌoLwd ÌaËK xfËk Awowk ea Awedwk Rdø xPkxbËdk Rdø g¬ pËt jwËg„ Awexd ÌowRw PËl jwËgd gõøwKËpwËlk ÌKËëbÛk xoŠÖlwxkxUk KwËQ„ Awexd G pkwBRdËK hwgËZ ewËkd Gid GK RwtMw ÌjLwËd GoËKe ÌhËlwxoxU AwËlwk MxZËgËMk oiwd„ G pkwBRËdk gwBËk GoËKe ÌhËlwxoxUk iwd AwËlwk MxZËgËMk ÌPËt Ki„ AZGg Awedwk kËKËUk ejêw® MxZ awKËlI ÌoLwd ÌaËK ÌgxkËt eÙxagyËZ xfËk AwoËZ ewkËgd dw„ xKìæ AwedwËK gpdKwky kËKU jxb hÖl KËk ÌKwËdw¢ßËi GB pkwBRËdk ÌhZËk PËl jwt ZËg kËKËUk MxZ jZ ÌgxmB ÌpwK dw ÌKd gõøwKËpwËlk gwBËk Awowk ÌKwËdw Dewt AgËmËn awKËg dw„ KwkY Awedwk eËq AwËlwk MxZËZ xKvgw Zwk ÌPËtI Ìgxm MxZËZ Plw oºg dt„

GB BËhëU pkwBRËdk kËtËQ Ìgm xKQ× iRwk I AgwK Kkw †Ywgxl„ ckØd, GKRd ejêËgqK gõøwKËpwl ÌaËK AËdK bÓËk ÌKwawI AwËQd„ Zwk KwËQ G pkwBRdxU iËd pËg L×gB o×ëbk, xþÿk, xdúPl GK ÌMwlyt DexkZl„ xKìç jxb Ìo pkwBRËdk AwËkw KwËQ PËl jwt, ZLd Ìo ÌbLËZ ewËg, GxU Ìgm gr MxZ xdËt Q×ËU PËlËQ„ AwoËl GxU gwBËkk xbËK Q×ËU PËlËQ AwËlwk MxZËgËM„ G ÌaËKI GKUw gøwLøw ewItw jwt, ÌKd G pkwBRd AxZ¢ßi KËk ÌhZËkk xbËK jwItw opR xKìç G ÌaËK ÌgxkËt Awow opR ÌZw dtB, GidxK GËKgwËk Aoºg„ ÌjËpZ× G pkwBRd gwBËkk xbËK AwËlwk MxZËgM xdËt Q×ËU AwoËQ, ÌoËpZÖ Gk gwBËk AwoËZ pËl AwedwËK Q×UËZ pËg AwËlwk MxZËgËMk ÌPËt Ìgxm MxZ xdËt„ Awk AwËlwk MxZk ÌPËt Ìgxm MxZËZ ÌQwUw Awedwk eËq oºg dt, Ìo Rdø gõøwKËpwl ÌaËK ÌgxkËtI AwoËZ ewkËgd dw„

Gog ÌRËd xdúPtB AgwK lwMËQ„ xKQÖUw htI RwMËQ iËd„ ht ÌdB„ GK xgËgPdwt G pkwBRd GK RwtMwt b^wxrËt AwËQ„ AwËkK xgËgPdwt GxU DËr PËlËQ AwËlwk MxZËgM xdËt„ GKgwk jxb GB pkwBRËdk ÌhZËk XÖËKB jwd, Ìþeo I UwBi GZUwB IlU-ewlU pËt jwËg Ìj, køwxWËtl xWoËUëo I UwBËik gYêdwKk ÌKw-AxWêËdU gw þÿwxdK iwd exkgZêd pËt jwt„ Aaêwu ÌKëbÛ ÌaËK bÔkZò xdËbêmK ÌKw-AxWêËdU
o pËt jwt UwBi q Gk iËZw„ Awk q pt o-Gk iËZw„ ÌowRw Kawt UwBilwBK ÌKw-AxWêËdU pt ÌþeolwBK ÌKw-AxWêËdU, Awk ÌþeolwBK ÌKw-AxWêËdU pt UwBilwBK ÌKw-AxWêËdU„ Gk GKxU exkYxZ pËâQ, Awexd AwedwËK ÌQwU ÌaËK ÌQwUZk o-Gk iwËdk xbËK jwItw awiwËZ ewkËgd dw„ xVK owcwkY Agþÿwt Awexd Ìjid AwedwËK hxgnøËZk xbËK jwItw ÌaËK ÌfkwËZ ewkËQd dw„ Awexd ÂcÖ QÖËU PËlËQd gr ÌaËK grZk oiËtk xbËK„ GhwËg gõøwKËpwËlk ÌhZËk awKËl GK oit Awexd xMËt Ìe^#QËgd xoŠÖlwxkxUËZ, ÌjLwËd o-Gk iwd mÔdø„ G exkxþÿxZ GrwËZ Awexd ptËZw PwBËgd kËKËUk MxZ gwxrËt xbËZ xKìç ÌKwËdw KwR pËg dw, Zw Awexd ÌjxbËKB ÌjËZ Pwd dw ÌKd„ Awedwk G exkYxZ ÌKwËdwhwËgB GrwËdw jwËg dw„ pkwBRËdk ÌhZËk XÖËK eËrËQd, Awk PwBËQd gõøwKËpwËlk ÌKëbÛ ÌaËK bÔËk awKËZ­ G Ìjd MZ ÌkwggwkËK GxrËt PËl jwItwk eÞtwËokB iËZw„ ogËmËn AwËkKxU xgnt RwxdËt AwRËKk ÌlLwk BxZ UwdËZ PwB„ RRê AwxPêgøwlwW ÉBlwk gõøwKËpwl dwixU AwxgûKwk KËkd„ Gk AwËM Gk AËdK dwi Ìbtw pËlI G dwixU ogËPËt Ìgxm AwKnêYyt gËl xgËgxPZ pt„ Gk AwËM gõøwKËpwËlk GKUw dwi xQl ‘ÌfÝwËRd ýUwk’„


ÌMwlwe iÖdyk
এখান থেকে সংগ্রহীত 

হয়তোবা শঙ্খচিল শালিকের বেশে...

জীবনানন্দের সেই কবিতাটা মনে আছে? 'আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে, এই বাংলায়/

হয়তো মানুষ নয়, হয়তোবা শঙ্খচিল শালিকের বেশে।' প্রকৃতির কবি যে শঙ্খচিলের বেশে বারবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে চেয়েছেন কালের বিবর্তনে সে শঙ্খচিল এখন হারাতে বসেছে।

একটা সময় ছিল নদী-নালা, জলাশয়ের আশপাশে তাকালেই চোখে পড়ত সাদা পেটওয়ালা মরচের মতো সোনালি ডানার ঝাঁকে ঝাঁকে চিল। গোলাকৃতি লেজের ডগা। দেখতে সাধারণ চিলেরই মতো। তবে এরা ঠিক চিল নয়, শঙ্খচিল। এদের মাথা, ঘাড়, বুক, পেটের তলার পালক শঙ্খের মতো সাদা। ধারণা করা হয়, এ জন্যই এদের নাম রাখা হয়েছে শঙ্খচিল। কিন্তু এর ডানা দুটি ও শরীরের অন্যান্য অংশ খয়েরী। শঙ্খচিলের গড় দৈর্ঘ্য ৪৮ সে.মি.। সাধারণ চিলের মতো শঙ্খচিলের ডাক তীক্ষ্ম নয়; বরং কিছুটা কর্কশ। জলের কাছাকাছি উঁচু গাছের ডালে বর্ষাকালে এরা কাঠি ও ডাল দিয়ে বড়সড় বাসা বানায়। এরা জলের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। জোয়ারের সময় খাঁড়িগুলো এদের বিশেষভাবে পছন্দ। এদের ডাক অনেকটা বাচ্চাদের কান্নার মতো। শঙ্খচিলের ইংরেজি নাম Brahmiy Kite, বৈজ্ঞানিক Haliastur indus। এরা অ্যাক্সিপিট্রিডি পরিবারের সদস্য। দেশে একসময় প্রায় ৮৩ প্রজাতির চিল ছিল। দিন দিন নদী-নালা জলাশয় দূষণ হয়ে বিপন্ন হতে বসেছে প্রিয় এ পাখিটি। তার উপরে শিকারিদের লোলুপ দৃষ্টি এদের মাথা তুলে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। সাধারণত জলাশয়, নদীরপাড় এবং বর্ষায় ডুবে যাওয়া ধানখেতের আশপাশে এদের 'জমিদারি' হাঁটাচলা। মাছ, ব্যাঙ, ছোটখাটো সরীসৃপ, পোকামাকড় থেকে আরম্ভ করে মানুষের ফেলে দেওয়া বা পরিত্যক্ত খাবারের টুকরা পর্যন্ত এদের খাদ্য। 

  মেহেদী হাসান রাহাত
http://www.bangladesh-pratidin.com/index.php?view=details&type=gold&data=Emirates&pub_no=353&cat_id=1&menu_id=7&news_type_id=1&index=0 

মানবী না দানবী?


যুগে যুগে পৌরাণিক ইতিহাসের নানা কাহিনীতে আমরা অনেক দেবতার সন্ধান পাই। আবার এ নিয়ে রাক্ষস আর দানব-দানবীর ইতিহাসও নেহাতই কম নয়। স্ফিংস তেমনি এক পৌরাণিক দানবী। প্রাচীন মিসর এবং গ্রিক পুরাণ থেকে এর উদ্ভব। পৌরাণিক বর্ণনা অনুযায়ী স্ফিংস হচ্ছে একটি সিংহ, যার মাথা মানবীর। এর ব্যতিক্রম বর্ণনাও রয়েছে কোথাও কোথাও। তবে মূল বক্তব্য এটিই। এখনো প্রাচীন বিভিন্ন নিদর্শনে এই দানবীর অস্তিত্বের প্রমাণ মিলে। মিসরের বিখ্যাত স্ফিংসের পিরামিড যার উজ্জ্বল উদাহরণ।



মিসরের বিখ্যাত পিরামিড গ্রেট স্ফিংসের নাম শোনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। মানুষের মাথা আর সিংহের শরীরের আদলে গড়া এই পিরামিড বিশ্বের বিস্ময় জাগানিয়া স্থাপত্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীর বৃহত্তম ও বিখ্যাত স্ফিংস ভাস্কর্য মিসরের নীলনদের তীরে গিজা মালভূমিতে অবস্থিত। মনে করা হয়, সে স্ফিংসের চেহারা রাজা ফারাহ খাফরা অথবা সম্ভবত তার ছেলের। এ কথা কমবেশি সবার জানা থাকলেও অনেকেই জানে না এই স্ফিংস আসলে কি?

গ্রিক পুরাণ মতে, স্ফিংস ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের থিবস নগরীর রক্ষক। নগরীতে প্রবেশকারী সব আগন্তুককে ধাঁধার জটিল জালে বন্দী করার কৌশল ছিল স্ফিংসের একচেটিয়া রণনীতি। সেসব জটিল প্রশ্নের উত্তর জানা ছিল না কোনো মানুষের। ধাঁধার সমাধান না করতে পারলে থিবস-এ প্রবেশ দূরে থাক উপরন্তু প্রাণও খোয়া যেত। উত্তর দিতে অপারগ সেসব হতভাগ্য মানুষকে বধ করে উদরপূর্তি হতো স্ফিংসের। আর এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম ইডিপাস। স্ফিংস এই গ্রিক বীরকে প্রশ্ন করেন: কোন সেই জন্তু যে সকালে চতুষ্পদ, মধ্যাহ্নে দ্বিপদ আর সন্ধ্যায় তিন পদের সাহায্যে চলে? প্রত্যুত্তরে ইডিপাস জানান, তার নাম মানুষ। শৈশবে সে চার হাত-পায়ের সাহায্যে হামাগুঁড়ি দেয়, যৌবনে দু'পায়ের ওপর ঋজু হয়ে চলে আবার বার্ধক্যে হাতের লাঠির ওপর ভর করে হাঁটে। কথিত আছে, এই উত্তর শোনার পরই ধ্বংস হয়ে যায় স্ফিংস ও তার সঙ্গের বিভীষিকা।

কথিত আছে স্ফিংস উঁচু থেকে পাথরে আছড়ে পড়ে মারা যায়। আবার অন্য কাহিনী মতে, সে নিজেই নিজেকে খেয়ে ফেলে। ভয়ঙ্কর এ দানবীর নাম স্ফিংস। যার শরীরের মাথার দিকটা মানবীর মতো আর শরীরের বাকি অংশ সিংহের মতো। তবে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকে আবার একে মতভেদ না বলে প্রকারভেদ বলার পক্ষপাতী। নানা পৌরাণিক কাহিনী ঘেঁটে দানবী স্ফিংসের তিনটি নাম এবং চেহারা খুঁজে পাওয়া যায়। এগুলো হচ্ছে 'অ্যান্ড্রোস্ফিংস' (Androsphinx)। এ ধরনের স্ফিংসের দেহ সিংহের, মাথা মানবীর। অধিকাংশ বর্ণনায় এ ধরনের স্ফিংসের কথাই জানা গেছে। আরেকটি হচ্ছে ক্রায়োস্ফিংস (Criosphinx)। এ ধরনের স্ফিংসের দেহ সিংহের, মাথা ভেড়ার। শেষটি হচ্ছে হেইরোকোস্ফিংস (Hierocosphinx)। যেটির দেহ সিংহের আর মাথাটি হচ্ছে বাজপাখির।

পুরাতাত্তি্বকরা অবশ্য এসব কাহিনীকে রূপক আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, আসলে এর পরই অবসান হয় আদিম উপাসনা রীতির। গ্রিসে সূচনা হয় পরবর্তী যুগের অলিম্পিয়ান দেবদেবীর পূজা অর্চনার প্রথা।

খ্রিস্টপূর্ব নবম শতাব্দীতে স্ফিংস চিত্রশিল্পী এবং ভাস্করশিল্পীদের কাছে প্রেমের প্রতীক হিসেবে ধরা দেয়। গ্রিক ও মিসরীয় পৌরাণিক কাহিনীতে ভিন্ন ভিন্ন স্ফিংসের উল্লেখ পাওয়া যায়। গ্রিকরা অবশ্য স্ফিংসের দেহে নারীর সৌষ্ঠব প্রয়োগ করেছিলেন। গ্রিসে স্ফিংসের পরিচয় ধ্বংস ও দুর্ভাগ্যের বাহক এক দানবী হিসেবে। পৃথিবীর বৃহত্তম স্ফিংস ভাস্কর্যটির নির্মাতা মনে করা হয় রাজা ফারাও খাফরাকে। রাজা ফারাও খাফরা তার রাজবংশের চতুর্থ রাজা ছিলেন (২৭২৩-২৫৬৩ BC)। এ স্ফিংস ভাস্কর্যকে বলা হয় Khepri-Re-Atum, আরবি নাম Abual Hoi, যা অনুবাদ করলে হয় 'ফাদার অব টেরর' (Father of terror)। তবে গ্রিক নাম স্ফিংসই প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। তবে গ্রিক পুরাণের স্ফিংস এবং মিসরীয় স্ফিংসের মধ্যে পার্থক্যের কথা না বললেই নয়। মিসরে স্ফিংসকে মানব হিসেবে দেখালেও গ্রিক পুরাণে এটা মানবী। গ্রিক কবি হেসিউডের বর্ণনা থেকে জানা যায়, এই স্ফিংস হচ্ছেন ইচিদনা এবং অথ্রুসের কন্যা। আর অন্য মতে তাইফুন এবং ইচিদনার কন্যা। এখানেও একে ভয়ঙ্কর দানবী হিসেবেই পরিচিত করা হয়েছে।

যত যাই হোক না কেন, কল্পনা কিংবা পুরাণের এই দানবী আজো শত শত মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। 

রণক ইকরাম
মুলসুত্র:http://www.bangladesh-pratidin.com/?view=details&type=gold&data=News&pub_no=351&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=1 

কফি কাহন


কেউ কেউ দুধবিহীন কালো কফি, যা 'র‌্যান্যাক কফি' নামে পরিচিত সেটি খেতে পছন্দ করেন। তবে গরম পানিতে দুধ এবং চিনি মিশিয়ে যে কফি তৈরি করা হয় সেটিই বিশ্বব্যাপী প্রিয় পানীয়। অনেকেই পছন্দ করেন ঠাণ্ডা কফি!

আমাদের অনেকের পানীয় তালিকায় রয়েছে কফির নাম। কিন্তু এই কফি আবিষ্কারের কাহিনী অনেকেরই অজানা। বহু শতাব্দী আগে আরবের এক মেষপালক খেয়াল করলেন, তার মেষগুলো অদ্ভুত আচরণ করছে। কারণ কি? তারা আসলে সবুজ এক প্রকার উদ্ভিদের লাল ফল খেয়ে লাফাচ্ছে। ছোট শাবকদের মতোই দুষ্টুমি শুরু করেছে। এটা দেখে মেষপালক নিজে ওই ফল খেয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিল। খাওয়ার পর নিজেকে তার ওই মেষদের মতোই প্রাণবন্ত ও চাঙ্গা মনে হলো। তার এ অভিজ্ঞতা সে পার্শ্ববর্তী মঠের সন্ন্যাসীকে জানাল। ওই সন্ন্যাসীও যখন সেই ফল খেল তখন সেও একই রকম অভিজ্ঞতা লাভ করল। ওই ঘটনা তারা গ্রামবাসীকে বলল এবং যারা ওই ফল খেল তারা প্রত্যেকেই এক অদ্ভুত সতেজ অনুভূতি আস্বাদ করল। এই লাল ফলগুলো ছিল আসলে কফির ফল। এ কাহিনীর সত্যাসত্য নির্ণয় করা কঠিন। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সর্বপ্রথম কফি পান শুরু হয়েছিল আরবে। সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে ব্রিটেনে এ প্রথা ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৬৫০ সালে অক্সফোর্ডে পৃথিবীর সর্বপ্রথম 'কফি হাউস' খোলা হয়। ধীরে ধীরে কফি পান সারা বিশ্বে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চিরহরিৎ এক প্রকার উদ্ভিদের বীজ থেকে কফি পাওয়া যায়। চারাগাছগুলোর বয়স যখন ৩-৪ মাস তখন তাতে ফুল ধরে। এর কাঁচা ফলগুলোর রং হয় সবুজ। ৫-৬ মাস পর ফল পেকে লাল রং ধারণ করে। ফলের বীজগুলো প্রথমে ঝলসে নিয়ে পরে গুঁড়া করা হয়। বাজারে যে কফি পাউডার পাওয়া যায় তা আসলে কফি ফলের বীজেরই গুঁড়া। কফির প্রস্তুতি নানা রকম হতে পারে। কেউ কেউ দুধবিহীন কালো কফি, যা 'র‌্যান্যাক কফি' নামে পরিচিত সেটি খেতে পছন্দ করেন। তবে গরম পানিতে দুধ এবং চিনি মিশিয়ে যে কফি তৈরি করা হয় সেটিই বিশ্বব্যাপী প্রিয় পানীয়। অনেকেই পছন্দ করেন ঠাণ্ডা কফি! এক কাপ কফিতে সাধারণত ১২০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে। ক্যাফেইন হচ্ছে এক ধরনের সতেজকারী উত্তেজক। রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত কফি পান করলে নিদ্রাহীনতার আশঙ্কা থাকে। ব্রাজিল পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি কফি উৎপাদন করে। কফি উৎপাদনে কলম্বিয়ার স্থান দ্বিতীয়। এছাড়া আফ্রিকা, আমেরিকা ও এশিয়ার নানা দেশে কফি উৎপাদিত হয়।

নবাব আমিন 
মুলসুত্র: এখানে