Wednesday, December 1, 2010

বগুড়ার নবাববাড়ি

 
নবাব আমলের পাইক-পেয়াদা আর বরকন্দাজের রূপকথা, মডেল করে দেখানো হয়েছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়িতে। নবাবী জীবন প্রণালি এবং নবাবী আমলের সভ্যতা, কৃষ্টি, সংস্কৃতিকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য কয়েকজন গুণী শিল্পীর অক্লান্ত শ্রম ও মেধায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মোহাম্মাদ আলী প্যালেস মিউজিয়াম অ্যান্ড অ্যামাউজমেন্ট পার্ক। দেশের উত্তর জনপদের কেন্দ্রস্থল বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র করতোয়া নদীর পশ্চিম তীর ঘেঁষে নবাব প্যালেসের ভেতরে তৈরি করা হয়েছে এই মিউজিয়াম অ্যান্ড পার্ক।

নবাব প্যালেসে প্রবেশ করলে দেখা যাবে তরুণী-কৃষাণী বধূরা অপেক্ষা করছে তার প্রেমিক কৃষাণের জন্য। নবাববাড়ির চারদিকে পাতাঝরা গাছে পাখি বসে আছে। কোনো কোনো গাছে পাখিরা ঠোকাঠুকি করছে। পুরনো প্যালেসটি বিশাল এক জাদুঘর। বিনোদন কেন্দ্র, জোড়া ঘোড়ার গাড়ি, কোচওয়ানদের হাতে চাবুক। ইতিহাসভিত্তিক কাহিনী অবলম্বনে যদি চলচ্চিত্র নির্মাণ হতে পারে, আবার তা যদি বাণিজ্যিক সফলতা পায় তবে ইতিহাসের বিষয়বস্তুর প্রতিচ্ছবি-প্রতিমূর্তি দাঁড় করিয়ে কেনইবা দর্শকনন্দিত করা যাবে না। এ বিশ্বাসকে ভিত্তি করে বগুড়ার নবাববাড়ির অতীত দিনের নেপালি দারোয়ান, মালী, পালকি, বেহারা, কোচওয়ান, টমটম, সিংহ, বাঘ, কুমির, ময়ূর, রাজহাঁস, বিভিন্ন পাখির প্রতিমূর্তি সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। নবাববাড়ি বিরাট হলরুমের দেয়ালে নবাব আবদুস সোবাহান চৌধুরী, নবাবজাদা আলতাফ আলী চৌধুরী, তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ আলী, সৈয়দ তহুরুন নেছা চৌধুরানী, সৈয়দ আলতাফুন নেছা চৌধুরানী। নবাব আমলের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে শিল্পী আমিনুল করিম দুলাল এগিয়ে আসেন। সৈয়দ ওমর আলী চৌধুরীর উদ্যোগে শিল্পী আমিনুল ইসলাম দুলাল তার সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে ইতিহাসের সূতিকাগার নবাববাড়িকে রক্ষা করেন এবং একে দর্শনীয় স্থানে রূপদানের চেষ্টা করেন। শিল্পী দুলালের সহযোগিতার আশ্বাস পেয়ে সৈয়দ ওমর মশগুল, অতিথি আপ্যায়ন, বিলিয়ার্ড খেলা, পড়ার ঘরে বই সাজানো, জলসা ঘরে জলসার দৃশ্য, নায়েবের খাজনা আদায়_ এমন অনেক দৃশ্য জীবন্ত করে তোলার জন্য ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়।

১৯৯৮ সালের মে মাসে বগুড়ার নবাব মোহাম্মাদ আলী প্যালেস মিউজিয়াম অ্যান্ড অ্যামাউজমেন্ট পার্ক বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। ১০ টাকার টিকিট কিনে মূল গেট পার হতে হয়। এরপর ট্রেন, দোলনা, বিমানে চড়া এবং নবাববাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে টিকিট প্রয়োজন হয়। বর্তমানে এই মিউজিয়াম দেখাশোনা করেন মোহাম্মাদ আলীর ছেলে সৈয়দ হামদে আলী চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন কানাডায় অবস্থানের পর কয়েক বছর আগে দেশে ফিরে পিতৃবাড়িতে অবস্থান করছেন। 
*আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া ।
মুলসুত্র:
http://www.bangladesh-pratidin.com/?view=details&type=pratidin&pub_no=215&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=5 

ডিনামাইট আবিষ্কারের ইতিকথা

 
  ডিনামাইট গ্রিক শব্দ ডাইনামিস, যার অর্থ দাঁড়ায় শক্তি। মূলত ডিনামাইট এক ধরনের রাসায়নিক বিস্ফোরক। এটি প্রধানত নাইট্রোগি্লসারিন এবং টিএনটি দিয়ে তৈরি একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাসায়নিক বিস্ফোরক।

বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল ১৮৬৭ সালে ডিনামাইট আবিষ্কার করেন। তিনি ডিনামাইট বিক্রি শুরু করেন যা, নোবেল বাস্টিং পাউডার হিসেবে পরিচিত। ডিনামাইট ক্রমশ একটি নিরাপদ গানপাউডার এবং নাইট্রোগি্লসারিন হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। নোবেল এর পেটেন্ট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন। লাইসেন্সবিহীনদের এর ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেন। ডিনামাইট ১৯৪০ সালে বিশ্বে বৃহৎ আকারে উৎপাদিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়।

ডিনামাইটকে তার দ্বারা দূর থেকে বৈদ্যুতিক সিগন্যালের সাহায্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই বিস্ফোরক অনবরত জ্বলতে থাকে। বৃহৎ পরিমাণে উত্তপ্ত গ্যাস প্রক্রিয়াধীন হয়। ডিনামাইট ব্লাক পাউডার অপেক্ষা প্রথম নিরাপদভাবে বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একটি ডিনামাইটের ক্ষমতা প্রায় দুই মিলিয়ন জুয়েলের ওপর। পাহাড় ভাঙা, টানেল তৈরি ও খনিতে ডিনামাইট ব্যবহার হয়ে থাকে। এর কারণ, সহজে ও কম খরচে ডিনামাইট দিয়ে এসব কাজ করানো হয়। যুদ্ধের কাজে সেতু, শত্রুপক্ষের ভবন, রেললাইন ইত্যাদি উড়িয়ে দিতে ডিনামাইট ব্যবহৃত হয়।

এই ডিনামাইট আলফ্রেড নোবেলের জীবনে এক বিরাট সৌভাগ্য এনে দেয়। তিনি প্রচুর অর্থ-বৈভবের অধিকারী হন। বিজ্ঞানী নোবেল অনুধাবন করতে সক্ষম হন যে, এ ডিনামাইট শান্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে। নিঃসন্দেহে ভালো কাজেও বিজ্ঞানকে ব্যবহার করা যায়। তিনি তার উপার্জিত অর্থ দিয়ে একটি ফান্ড তৈরি করেন, যা বিশ্বে নোবেল পুরস্কার হিসেবে সুপরিচিত।
 *মেহেদী হাসান বাবু 
মুল সুত্র:
http://www.bangladesh-pratidin.com/?view=details&type=pratidin&pub_no=215&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=4

হানাদারমুক্ত প্রথম জেলা যশোর

  
যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছিল পাকবাহিনীর দ্বিতীয় শক্তিশালী দুর্গ। অবস্থানগত কারণে এটির গুরুত্বও তাদের কাছে ছিল অপরিসীম। যে কারণে অনেক ক্ষয়ক্ষতি শিকার করেও প্রায় দুই সপ্তাহ মাটি কামড়ে পড়েছিল তারা। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে পালাতে হয় তাদের। মূলত জগন্নাথপুরের ভয়াবহ যুদ্ধের পরই পাকবাহিনীর চৌগাছা ঘাঁটির পতন হয়। ভেঙে যায় তাদের মনোবল। এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের চরম আঘাতে পাকসেনারা যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে পালিয়ে যায় খুলনা ও মাগুরার দিকে। যশোর হানাদারমুক্ত হওয়ার পর থেকেই দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল মুক্ত হতে থাকে।

২০ নভেম্বর ১৯৭১ ঈদের দিন সকালে যশোরের চৌগাছার জগন্নাথপুরের মানুষ তৈরি হচ্ছে তাদের বড় উৎসব ঈদ উদযাপন করতে। এমনই একসময়ে হানাদার পাকবাহিনীর ২০-২৫টি গাড়ি ঢোকে জগন্নাথপুর (বর্তমানে মুক্তিনগর) গ্রামে। নামাজ পড়বে, মিষ্টিমুখ করবে কি, বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাখির মতো লুটিয়ে পড়ছে মানুষ। বর্বর পাঞ্জাবি সেনারা দেখামাত্রই গুলি চালাতে থাকে। একদিনেই তারা হত্যা করে ৩০ জনকে; যাদের সবাই নিরীহ, গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ। সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের ভাই আতিয়ার রহমানসহ আরও দু'জনকে ধরে এনে পুড়িয়ে মারে ওই দানবরা। বাড়ির পর বাড়ি আগুন জ্বালিয়ে ছারখার করে দিল। অসহায় মানুষ তাদের প্রাণ বাঁচাতে যে যেদিক পারল, পালাল। এরপরও কিছু মানুষ বাপ-দাদার ভিটে আঁকড়ে পড়েছিল। সন্ধ্যায় ছদ্মবেশধারী চার মুক্তিযোদ্ধা এসে তাদেরও অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। বললেন, রাতে বড় ধরনের যুদ্ধ হবে।

জনমানবশূন্য নীরব নিস্তব্ধ জগন্নাথপুর গ্রাম সহসাই প্রকম্পিত হয়ে উঠে গোলাগুলির শব্দে। শুরু হয় ভয়ঙ্কর যুদ্ধ। মেশিনগান, কামান, ট্যাংক, মর্টার, বিমান_ শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিও। মুক্তি আর মিত্রবাহিনী অবস্থান নেয় জগন্নাথপুর গ্রামের চাড়ালের বাগানে। ট্যাংকবহর নিয়ে পাকবাহিনী গ্রামে ঢোকামাত্রই তাদের সাতটি ট্যাংক ধ্বংস করে দেয় মিত্রবাহিনী। প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দের সঙ্গে হাজারো সৈন্যের গগনবিদারী চিৎকার, আর চেঁচামেচি। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চলায় গুলি তখন শেষের দিকে। দু'পক্ষই চলে আসে কাছাকাছি, একশ' গজের মধ্যে। জগন্নাথপুর স্কুল মাঠে শুরু হয় হাতাহাতি যুদ্ধ। বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে এই তাণ্ডব। এ সময় পাকবাহিনীর দুটি বিমান তাদের সৈন্যদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। একটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করে মিত্রবাহিনী। অপরটি যশোর ক্যান্টনমেন্টে পালিয়ে যায়। ২২ নভেম্বর আবারও বিমান হামলা চালায় পাকবাহিনী। মিত্রবাহিনীও পাল্টা বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের তিনটি স্যাবর জেট জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করে। ধ্বংস করে আরও সাতটি ট্যাংক ও বহু সাঁজোয়া গাড়ি। পিছু হটতে বাধ্য হয় পাকবাহিনী। মিত্রবাহিনী শক্ত ঘাঁটি গাড়ে জগন্নাথপুরে। এই যুদ্ধে দু'পক্ষের সহস্রাধিক সৈন্যও মারা যায়।

৬ ডিসেম্বর সকালে ও দুপুরে পাকিস্তানের নবম ডিভিশনের সঙ্গে ভারতীয় নবম পদাতিক ও চতুর্থ মাউন্টেন ডিভিশনের প্রচণ্ড লড়াই হয়। বিকালেই পাক সেনা অফিসাররা বুঝে যায়, যশোর দুর্গ আর কোনো ভাবেই রক্ষা করা সম্ভব নয়। লে. কর্নেল শামস নিজের ব্রিগেড নিয়ে রাতের আঁধারে গোপনে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে পালিয়ে যান খুলনার দিকে। এভাবেই একাত্তরে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা হওয়ার গৌরব অর্জন করে যশোর। ৭ ডিসেম্বর সকালে যুদ্ধের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে যশোর শহরে প্রবেশ করে যৌথবাহিনী। কিন্তু জনমানবশূন্য শহরে কোনো প্রতিরোধের মখোমুখিই হতে হয়নি যৌথবাহিনীকে। পরিত্যক্ত ক্যান্টনমেন্টে একজন পাকসেনাও ছিল না। পাওয়া যায় তাদের ফেলে যাওয়া বিপুল অস্ত্র, গোলা, রসদ। মুক্তিযুদ্ধে যশোর ছিল ৮ নম্বর সেক্টরে। সেক্টর কমান্ডার মেজর মঞ্জুর। তার অধীনে ছিলেন ক্যাপ্টেন আবু ওসমান চৌধুরী ও ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদা। এই ফ্রন্টেই ৫ সেপ্টেম্বর প্রাণ উৎসর্গ করেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ।

জগন্নাথপুরের এই যুদ্ধটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট ছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কারণ এই যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পরই পাকিস্তানিদের মনোবল চুরমার হয়ে যায়। যশোর ক্যান্টনমেন্টের পতনের পর ৭ ডিসেম্বর পূর্বাঞ্চলের সেনাধ্যক্ষ নিয়াজির অভিমত উদ্ধৃত করে ওই বার্তায় তিনি বলেছিলেন, 'যশোরের বিপর্যয়ের ফলে প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের পতন প্রায় আসন্ন...। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিশ্রুত বৈদেশিক সাহায্য পাওয়া না গেলে জীবনরক্ষার জন্য বরং ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে আলোচনা শুরু করা বাঞ্ছনীয়।'

দেশের প্রথম শত্রুসেনামুক্ত জেলা শহর যশোরের প্রাণকেন্দ্র টাউন হল মাঠে (মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান) বাংলাদেশ সরকারের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয় ১১ ডিসেম্বর। কলকাতা থেকে পাকিস্তানি কূটনীতিকদের ব্যবহৃত 'শেভারলেট' গাড়িতে পেট্রাপোল-বেনাপোল হয়ে যশোর আসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি। হাজার হাজার মুক্তিপাগল মানুষের সামনে বক্তৃতা করেন তাজউদ্দিন আহমেদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এই দুই নেতার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন জহির রায়হান, এমআর আকতার মুকুল, সংসদ সদস্য ফণীভূষণ মজুমদার, অ্যাডভোকেট রওশন আলী, তবিবর রহমান সরদার প্রমুখ। 

*সাইফুল ইসলাম, যশোর 
মুল সুত্র: http://www.bangladesh-pratidin.com/?view=details&type=pratidin&pub_no=215&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=3

তারাবিহীন গ্যালাক্সি

  
মহাকাশে একটি বিশাল এলাকাজুড়ে কৃষ্ণ বস্তুর এই গুচ্ছটি গ্যালাক্সির মতোই আবর্তন করছে। প্রায় পাঁচ কোটি আলোকবর্ষ দূরে আবিষ্কৃত এই অন্ধকার গ্যালাক্সির নাম ভারগো এইচআই ২১ (VIRGO HI 21) মহাকাশে কৃষ্ণ বস্তুর অস্তিত্ব রহস্যময়।



গ্যালাক্সি বা নক্ষত্র পল্লী বলতে আমরা সাধারণত অনেক তারা ব্যবস্থার সমষ্টিকে জানি। গ্যালাক্সিতে তারা থাকবে না এমন কল্পনা কি আদৌ কেউ করেছেন? যা ছিল সত্যি অবান্তর। কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটিও তারা নেই এমন গ্যালাক্সি আবিষ্কার করেছেন। কোনো তারা বা জ্যোতিষ্ক না থাকার কারণে এই গ্যালাক্সি দেখা যাচ্ছে না। দূরবীনে এটি অদৃশ্য থাকলেও রেডিও তরঙ্গে এর অস্তিত্ব ঠিকই ধরা পড়ছে। তা হলে গ্যালাক্সিটি কি দিয়ে তৈরি? এমন প্রশ্ন আসাটাই তো স্বাভাবিক। বিজ্ঞানীরা জানালেন, পুরো গ্যালাক্সিটাই ডার্ক ম্যাটার (Dank matter) বা কৃষ্ণ বস্তুর তৈরি। এ কারণে এটি অদৃশ্য। ব্রিটেনের ক্যার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইংল্যান্ড এবং পোর্টোরিকোতে অবস্থিত রেডিও টেলিস্কোপের সাহায্যে এই তারাবিহীন গ্যালাক্সিটি আবিষ্কার করেন। তাদের মতে, এ ধরনের অদৃশ্য গ্যালাক্সির আবিষ্কার এই প্রথম। মহাকাশে একটি বিশাল এলাকাজুড়ে কৃষ্ণ বস্তুর এই গুচ্ছটি গ্যালাক্সির মতোই আবর্তন করছে। প্রায় পাঁচ কোটি আলোকবর্ষ দূরে আবিষ্কৃত এই অন্ধকার গ্যালাক্সির নাম ভারগো এইচআই ২১ (VIRGO HI 21) মহাকাশে কৃষ্ণ বস্তুর অস্তিত্ব রহস্যময়। গবেষণায় দেখা গেছে, মহাশূন্যের সব বস্তুর চেয়ে কৃষ্ণ বস্তুর পরিমাণ প্রায় পাঁচগুণ বেশি। অদৃশ্য এই পদার্থের অস্তিত্ব টের পাওয়া গেছে ধরাছোঁয়া যায় এমন দৃশ্যমান পদার্থের (baû nic) ওপর এদের প্রভাবের মাধ্যমে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পাঁচ বছর ধরে মহাশূন্যে হাইড্রোজেন অণুর বিন্যাস পর্যবেক্ষণ করছিলেন। হাইড্রোজেন অণু সংবলিত গ্যাস থেকে বিচ্ছুরিত বিকিরণ রেডিও টেলিস্কোপে ধরা পড়ে। এমনি পরীক্ষার সময় প্রায় পাঁচ কোটি আলোকবর্ষ দূরে ভারগো গুচ্ছ নামের গ্যালাক্সি পল্লীর এক জায়গায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পেলেন হাইড্রোজেন অণুতে ঠাসা সূর্যের চেয়েও দশ কোটি গুণ বেশি ভর সম্পন্ন এক অদৃশ্য চাকতি স্পাইরাল গ্যালাক্সির মতোই ভনভন করে ঘুরছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা কৌতূহলী হয়ে এলাকাটা ভালো করে পরীক্ষা করে দেখলেন। কিন্তু কোনো তারা বা জ্যোতিষ্ক দেখতে পেলেন না। অবাক কাণ্ড! একটি তারাও নেই অথচ গ্যালাক্সির মতোই আচরণ করছে বিশাল এক এলাকা। শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, অদৃশ্য এই গ্যালাক্সি ডার্ক ম্যাটার বা কৃষ্ণ বস্তুর রহস্য ভেদ করতেঘর্ম হয়ে আছেন বিজ্ঞানীরা। এই অন্ধকার গ্যালাক্সি আবিষ্কৃত হওয়ার পর মহাশূন্যে ডার্ক ম্যাটারের জারিজুরি ফাঁস করার জন্য এখন উঠেপড়ে লেগেছেন তারা।
মুলসুত্র: http://www.bangladesh-pratidin.com/?view=details&type=pratidin&pub_no=215&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=0