Tuesday, October 19, 2010

লালন সাঁইয়ের সমাধিতে এরা কারা?


‘মাতবর কানা চোগলখোরে,
সাধু কানা আনবিচারে।
আন্দাজি এক খুঁটি গেড়ে চেনে না সীমানা কার
এসব দেখি কানার হাটবাজার।’
— ফকির লালন সাঁই

লালনের মৃত্যুর ১২০ বছরে তাঁর আখড়া ও সমাধি তো বেহাত হয়েছেই, সেখানে এখন শুরু হয়েছে নতুন নতুন সব কাণ্ড কারখানা। সেই কারখানায় সবই আছে, কেবল লালন নেই, বাউলসাধক ফকির সাঁইজিরা নেই। এবার সেখানে স্পনসরশোভিত মঞ্চ, ব্র্যান্ড লোগোয় অলংকৃত মেলা ইত্যাদি বসেছে, মাইকে চটুল বাংলা-হিন্দি গান বাজছে। অথচ এই পয়লা কার্তিকই ছিল তাঁর বিদায়ের রাত। এই রাতেই ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের নিয়ে গাইতে গাইতে তিনি বলেছিলেন, ‘গেলাম’। লালনের অনুসারীরা একে বলে তিরোধান। এই দিন সারা বাংলা তো বটেই, বিভিন্ন দেশ থেকে লালন অনুসারী ভক্ত ও গবেষকেরা কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া গ্রামের সাধুসঙ্গে আসেন। তাঁদের জগতে কালীগঙ্গার তীরের লালনের মাজারই হলো তীর্থস্থান, সাধনার কেন্দ্র।
বহু দিন হলো জায়গাটি লালনের দর্শন ও জীবনধারার সঙ্গে একেবারেই শত্রুভাবাপন্ন কায়কারবারে ভরপুর। লালনের আখড়া তথা সাঁইজির মাজার শরিফ থেকে বাউলেরা বিতাড়িত, লালনের দর্শন বিতাড়িত, লালনের স্মৃতি বিতাড়িত। মাজারসহ পুরো এলাকার মালিকানা এখন জেলা প্রশাসনের। সেখানে এখন আছে কেবল ভবন, বাণিজ্য, স্পনসরশিপ আর আনন্দ-বিনোদনের তুমুল মজমা। লালনের জীবন্ত ঐতিহ্যকে মুমূর্ষু করে জাদুঘরে পোরা হচ্ছে আর সাধনতীর্থকে বানানো হচ্ছে বাণিজ্যিক পর্যটনের খোরাক।
সংস্কৃতির অন্য কোনো পীঠস্থানের বিষয়ে এমনটা কল্পনা করা যায় না। কিন্তু বাংলার ভাবুকতার শীর্ষ প্রতিনিধি এবং মানবতার মুক্তিকামী দার্শনিক শিক্ষাগুরু, সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান দিশারি লালনের বেলায় সেটাই করা হয়েছে। করেছে সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, করেছে মৌলবাদী শক্তি, করেছে আমলাতন্ত্রের মধ্যে জেঁকে থাকা স্বার্থবুদ্ধির লোকেরা। লালনের ভাব, আদর্শ ও চর্চার সঙ্গে সম্পর্কহীন এসব মানুষ, বাংলার ভাবুকতার ধারাকে যাঁরা নিছক ‘গ্রাম্য’, ‘অশিক্ষিত’ কবিদের ভাবাবেগের বিষয় মনে করেন, তাঁদের হাতে সংস্কৃতি ও চিন্তার বড় একটি কেন্দ্র কীভাবে নিরাপদ থাকবে?
বাংলার প্রতিষ্ঠানবিরোধী দার্শনিক আন্দোলন লালনের মাধ্যমেই বিপ্লবী বিকাশ পায়। নিম্নবর্গের মানুষের এই দার্শনিক এই নেতার চিন্তা ও কাজ সে যুগেরও যেমন এ যুগেও তেমন প্রতিষ্ঠিত জীবনদর্শনের বিপক্ষে। জীবিতাবস্থায় যিনি জাত-পাত, বৈষম্য, কূপমণ্ডূকতা আর জমিদারি ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ছিলেন, আজকের যুগের জমিদার ও ঔপনিবেশিক শক্তির উত্তরাধিকারী মোল্লা-পুরোহিত-বণিক-আমলা-রাজনীতিবিদেরা কখনো খোলাখুলিভাবে কখনো পৃষ্ঠপোষকতার ছদ্মবেশে তাঁকে হেয়ই করছে। পিঠে যা পোষকতা করা হয়, তার আরেক নাম কিন্তু ‘মার’।
আইয়ুব শাসনামলে ১৯৬৩ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান লালনের সমাধিক্ষেত্রের পাশে লালন লোকসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত করেন। পদাধিকারবলে এর সভাপতি হন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক। ১৯৭৬ সালে এই প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয় লালন একাডেমি। ১৯৮৪ সালে লালনের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সেখানে ধর্মসভা বসান এবং লালনভক্তদের বের করে দেন। তিনি তাদের তওবাও করাতে যান। জেলা প্রশাসক এভাবে হন ধর্মেরও শাসক। প্রায় পাঁচ হাজার ফকির-সাধক বিক্ষোভ করলে রিজার্ভ পুলিশ দিয়ে তাঁদের পিটিয়ে তাড়ানো হয়। মাজারের সিন্দুকের চাবিও সে দিনই বেহাত হয়। লালনের তরিকায় সাধক তাঁরাই, যাঁরা জ্ঞান ও জীবনচর্চায় মানুষের সামাজিক-সাংষ্কৃতিক-অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখান। এ কারণেই বোধকরি ক্ষমতাকেন্দ্রগুলো চিরকালই তাদের বাতিল করতে চেয়েছে।
লালনের ধারার নেতৃস্থানীয় সাধকেরা চেয়েছিলেন সরকার যা ইচ্ছা করুক, কিন্তু তা যেন মাজারের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও গাম্ভীর্য নষ্ট না করে এবং তা যেন মাজারের আঙিনার বাইরে কোথাও করা হয়। জাতিসংঘের সুপারিশেও ঐতিহাসিক স্থান ও পুরাকীর্তির চার কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু যেখানে জমি, টাকা ও ধর্ম-অধর্মের প্রশ্ন, সেখানে কে শোনে ন্যায্য কথা?
সবচেয়ে বড় ক্ষতি করা হয় ১৯৯৭ সালে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে লালন কমপ্লেক্স নির্মাণের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। একটি অত্যাধুনিক মিলনায়তন, জাদুঘর ও অতিথিশালাসহ চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য মাজারের মূল চত্বরকেই বেছে নেওয়া হয়। লালনের স্মৃতিবিজড়িত কালীগঙ্গা নদী ভরাট করে বানানো হয় উন্মুক্ত মঞ্চ। অবরুদ্ধ কালীগঙ্গায় নৌবিহার, শৌখিন মাছ শিকার, লালনের শিষ্যদের হাতে রোপিত শতবর্ষী বৃক্ষ কেটে ফেলে বিদেশি গাছ লাগানো ইত্যাদিও ছিল তাদের লালনের স্মৃতিরক্ষা প্রকল্পের অংশ। কোটি টাকা ব্যয়ে লালনের স্মৃতি ধ্বংস করা হয় এবং তাঁর অনুসারীদের করা হয় অবাঞ্ছিত। লালন একাডেমির আর কোনো অবদান আমাদের অজানা।
এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল। কবি শামসুর রাহমান এবং অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে লেখক-শিল্পী-শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা নানা কর্মসূচি ও লেখালেখির মাধ্যমে তৎকালীন সরকারকে বোঝাতে চেষ্টা করেন, যা হচ্ছে তাতে লালনের সৃষ্টি, স্মৃতি ও সমাধির অশেষ ক্ষতি হবে। সরকার শোনেনি এবং কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বও লালন আখড়া রক্ষা কমিটির এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। কেননা লালনকে ঘিরে আয়োজিত যাবতীয় অনুষ্ঠানে আসা লাখ লাখ দর্শনার্থী ঘিরে যে বিরাট বাণিজ্য হয়, তার জন্য ভবন দরকার, মেলা দরকার, আখড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ দরকার; বাউল-ফকিরদের উপস্থিতি সেখানে বড় বাধা। গাছ দেখলে সাধক দেখে প্রাণ, ব্যবসায়ী দেখে কাঠ। এখানেও সেটাই ঘটেছে।
এবারও সেই নবনির্মিত লালন কমপ্লেক্সেই বসেছে ‘লালন মৃত্যুবার্ষিকী’র উৎসব। পত্রিকায় এই বরাতে অনেক খরচ করে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে। লালনের দর্শনে এবং বাউলদের কাছে লালনের মৃত্যু নেই। তিনি তিরোধান করেছেন মাত্র। তাঁর ভাব ও আদর্শকে তাঁরা জীবন্ত জ্ঞান করে সাধনা করেন। জন্ম ও মৃত্যুর চেয়ে তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষ হিসেবে সঠিক দিশায় পৌঁছানোর ঘটনা। মৃত্যু হয় দেহের, চিন্তা ও ভাব যদি সঠিক হয় তবে তা অজর-অমর। তাঁদের চিন্তা ভুল না সঠিক, সেটা অন্য আলোচনা। কিন্তু খোদ লালনের মাজারে বসে লালনের ‘মৃত্যুবার্ষিকী’ পালন এই বিচারে অন্যায় ও অনৈতিক। প্রথাগত তিন দিনের অনুষ্ঠানটিকে মেলার সুবিধার জন্য করা হয়েছে পাঁচ দিনের। এসবকে ‘কানার হাটবাজার’ মনে করে দুঃখ পেয়ে বাউল-ফকিরেরা এসব থেকে দূরে থাকেন।
লালনের মতোই কালীগঙ্গার তীরেই মাঠের মধ্যে তাঁদের আস্তানা। আর এদিকে চলছে জমজমাট আয়োজন আর রং-রসে ভরা বিনোদন। মাইকে হিন্দি গান বাজে, নানান ভোগ্যপণ্যের পসরা বসে। আগে যেখানে দেশ-বিদেশের বাউলেরা জীবন-জগতের নানান বিষয় নিয়ে গানে গানে আলোচনা চালাতেন, সেখানে এখন ক্লোজআপ তারকারা বিকৃত সুরে লালনের গান গায়। মূল মিলনায়তনটির দোতলায় করা হয়েছে গানের ব্যবস্থা। বাউলেরা সমাধির থেকে উঁচুতে দাঁড়িয়ে গান করবেন না। তাই আখড়ার সাধক কিংবা বড় বড় সাধুগুরুরা এসব থেকে দূরে থাকেন। আয়োজনটা উৎসবের আর কনসার্টের; শ্রদ্ধাভক্তির বালাই সেখানে নেই। এসবই হলো লালনের আখড়ার বাণিজ্যিকায়নের ফল। মাজার তো লাঞ্ছিত হচ্ছেই, তাঁর সমাধির পাশে ঘটা করে তাঁর নামে তাঁকেই অপমান না করলে কি চলত না?
দ্বিতীয়ত, যে দার্শনিক-কবি-গায়ক ও সমাজ-সংগ্রামীর জীবনজোড়া তৎপরতাই ছিল পণ্যায়নের বিরুদ্ধে, মুনাফার বিরুদ্ধে, কৃত্রিম জৌলুশ ও ভোগবাদের বিরুদ্ধে, তাঁকে এবং তাঁর ঘাঁটি পণ্যশক্তির দখলে যাওয়া যে কত বড় লজ্জা ও পরাজয়ের বিষয়, তা কি কর্তাব্যক্তিদের বোধে আসে? লালন মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের স্পনসর যাঁরা, তাঁরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপনে লিখেছেন, ‘আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হোক আমাদের দিনবদলের অনুপ্রেরণা’। দিন সত্যিই বদলে গেছে এবং সেই দিনবদলে জীবন্ত সংস্কৃতিকে ঐতিহ্য বানানো হচ্ছে এবং মুনাফার রসে সেই ঐতিহ্যকে চুবিয়ে তার ধার ও শক্তি নিভিয়ে দেওয়া চলছে। বাউলেরা তো কোনো দিন সরকারের কাছে ধরনা দেননি। তারপরও সরকার যদি চায়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তহবিল থেকে বাউলদের অভিভাবকত্ব মেনে নিয়েই সহায়তা করতে পারে।
১৬ বছরের যে কিশোর একদা মুমূর্ষু অবস্থায় কালীগঙ্গার তীরে আধেক পানিতে আর আধেক কাদায় এসে পৌঁছেছিল। স্থানীয় কৃষক মলম ও তাঁর বউ মতিজান যাকে সন্তান-স্নেহে বাঁচিয়ে তুলে ঠাঁই দিয়েছিলেন। একদিন মুসা নবীও এভাবে নদীতে ভেসে এসেছিলেন, ভগবান কৃষ্ণও এভাবে পরের ঘরে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। এভাবে মহাপুরুষেরা জাত-জন্ম-পরিচয় মুছে ওঠে আসেন। লালনও তেমনি আধেক পানিতে আধেক ডাঙ্গা থেকে আবার নবজন্ম পান। সেই নবজন্মে তিনি নদীয়ার জাত-পাতবিরোধী মানবমুক্তির দর্শনকে আরও এগিয়ে নেন, তার সঙ্গে যোগ ঘটান তান্ত্রিক ও সুফী সাধকদের মানবীয় দর্শনের। বাংলা ভাষা যে অপার ভাব ধারণ করতে সক্ষম, সহজ মানুষের সহজ সমাজ প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী দার্শনিক লালনের হাতে সেই ভাষা যেন লীলায়িত ও গভীর হয়ে ওঠে।
মধ্যবিত্ত সমাজের মন-মননে রবীন্দ্রনাথের যে বিপুল অবদান, বাংলার কৃষক-কারিগরের নিম্নবর্গীয় সমাজকে মননশীল ও মুক্তিকামী ভাবরসে সিক্ত করায় লালনের অবদানও তেমনি বিপুল। কোনো দিন রাষ্ট্র বা ক্ষমতাবানরা তাঁকে কোনো সহায়তা করেনি, জনগণই তাঁদের মনের মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাঁর আদর্শ ও স্মৃতিকে জীবন্ত রেখেছেন। ভবিষ্যতেও রাখবেন। ফকির লালন শাহ আমাদের মানবিক ইতিহাসের অন্যতম স্মারক, দিশা, অনুপ্রেরণা। তার অপমান ও লাঞ্ছনা আমাদের সংস্কৃতির মানবিক ও চিন্তাশীল ধারার বিরুদ্ধেই আঘাত বলে বিবেচিত হোক এবং হোক তার প্রতিকার।
 ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক।
farukwasif@yahoo.com
ফারুক ওয়াসিফ | তারিখ: ১৭-১০-২০১০ সুত্র: দৈনিক প্রথম আলো

শতায়ু হোন আজিজা ইদরিস


সুমনা শারমীন | তারিখ: ১৭-১০-২০১০ সুত্র: দৈনিক প্রথম আলো
শুয়ে থাকার মানুষ তিনি নন। সংসার থেকে সমাজকর্ম—সব জায়গায় সব সময় তিনি ছিলেন তৎপর। এমনকি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮৩ বছর বয়সে নিজের অসুস্থতাকে দৃঢ় মনোবল দিয়ে অতিক্রম করে হুইল চেয়ারে করে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। একটি ইংরেজি দৈনিকে তখন ছাপা হয়েছিল তাঁর মনের অনুভূতি, ‘কিছুদিন আগে আমার অপারেশন হয়েছে এবং আমাকে ঘোরাঘুরি করতে মানা করা হয়েছে। কিন্তু আজ যখন আমার ছেলে ও ছেলের বউ ভোট দিতে যাচ্ছিল, তখন আমি ভোট দিতে পারব না বলে কান্না পাচ্ছিল। আমার মনের ভাব বুঝতে পেরে চিকিৎসক পুত্রবধূ সামিনা আর বড় ছেলে কাজী শীশ ব্যবস্থা নিয়ে আমাকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। আমার বয়স ৮৩। কে জানে, পরের নির্বাচন আমি নাও দেখতে পারি। তারা আমার জীবনের সম্ভবত, শেষবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজ আমি খুবই খুশি।’ কথাগুলো বলেছিলেন আজিজা ইদরিস। মির্জা আজিজা ইদরিস। সেই মানুষটি এখন শুয়ে আছেন ঢাকার বারডেম হাসপাতালের একটি বিছানায়। ভুগছেন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে। অবস্থার অবনতি হলে একবার তাঁকে রাখা হচ্ছে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে, আবার ফিরে আসছেন কেবিনে, আবার যাচ্ছেন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে....। যাঁরা তাঁকে চেনেন, তাঁরা জানেন কর্মী, প্রগতিশীল আধুনিক মনের এই মানুষটাকে আর যা-ই হোক বিছানায় শুয়ে থাকা মানায় না।
১৯২৬ সালের ২১ মার্চ জন্মেছিলেন তিনি দিনাজপুর জেলার মির্জাপুর গ্রামের মির্জা পরিবারে।
১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয় সাংবাদিক কাজী মোহাম্মদ ইদরিসের সঙ্গে। স্বামীর রাজনৈতিক-সাহিত্যিক বন্ধু, আত্মগোপনকারী বিপ্লবী কর্মী, বন্ধু থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবার জন্যই তাঁর আতিথেয়তা, আপ্যায়ন ছিল একই রকম আন্তরিক। বিয়ের পর কলকাতায় ১০ বছরের জীবনে স্বামীর বন্ধুদের চিন্তাভাবনা, কাজকর্মের সঙ্গে তিনিও কিছুটা পরিচিত হন। দেখেছেন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। মহাযুদ্ধজনিত দুর্ভিক্ষ দেশ বিভাগ...।
একসময় স্বামীর আদর্শ অনুসরণ করে রাজনীতিতে যোগ দেন। আর সেই যে শুরু সমাজকর্মের সঙ্গে, তা তো চলছেই। তাই তো বলেছি, নাকে নল, যন্ত্র বেঁধে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা তাঁকে যে মানায় না।
বেগম সুফিয়া কামালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় কলকাতায়। পরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এসে আজিজা ইদরিস তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন মহিলা সংগঠনে। আতিকা বতুল খানমের অনুলিখনে আমার জীবন কথা বইয়ে নিজেকে তিনি বলেছেন মহিলা সংগ্রাম কমিটি, মহিলা পরিষদ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টির অক্লান্ত কর্মী।
ঢাকার গোপীবাগের একটি বাড়ি। বাড়ির কর্তা কাজী মোহাম্মদ ইদরিস আর কর্ত্রী আজিজা ইদরিস। এই বাড়ির বৈঠকখানা মানেই প্রগতিশীল, সংস্কৃতিমনা মানুষের মিলনস্থল। প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্মও হয়েছে এই বৈঠকখানায়। বাড়ির কর্ত্রী মধ্যবিত্ত সংসারের সব দায়িত্ব পালন করে নিজে জড়িয়েছেন সামাজিক কর্মকাণ্ডে। মানুষ করেছেন তিন মেয়ে ও তিন ছেলেকে। বারডেম হাসপাতালে আজিজা ইদরিসকে যেদিন দেখতে গেলাম, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের বাইরের চেয়ারে বসে ছিলেন বড় মেয়ে কাজী মদিনা (নামটা কাজী নজরুল ইসলামের দেওয়া)। তিনি বললেন, ‘আম্মার যে গুণটা সবচেয়ে বেশি আমাদের আকর্ষণ করে, তা হলো আত্মমর্যাদাবোধ। আম্মার তো কোনো ডিগ্রি নেই, কিন্তু তাঁর মতো আধুনিক চিন্তার মানুষ আমরাও কি হতে পেরেছি?’
অকালে স্বামীহারা হলেন ছোট মেয়ে কাজী সেলিনা। আজিজা ইদরিস বলেছিলেন, ‘কত মেয়ের দুঃখে পাশে দাঁড়ালাম, আমার নিজের মেয়েটার মনে এত কষ্ট! কিছুই তো করতে পারলাম না।’
কারও অসুখ, কারও বিপদ, কারও গর্ব করার মতো কোনো আনন্দ সংবাদ; হোক না শরীর বিপক্ষে, থাক না পথের ঝামেলা—আজিজা ইদরিস ঠিক পৌঁছে যেতেন জায়গামতো। ‘ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু’...এই চেতনা নিয়েই ঘরে-বাইরে কাজ করে গেছেন সমাজসচেতন অসাম্প্রদায়িক মানুষটি। ফতোয়ার বিরুদ্ধে সমাবেশ—আজিজা ইদরিস আছেন সেখানে। বাংলাদেশের নারীর অধিকার অর্জনে আইন সংস্কারের জন্য সভা, মানবাধিকার লঙ্ঘনে প্রতিবাদ মিছিল, কিংবা ঊনসত্তরে কালো পতাকা হাতে নারীসমাজের সেই মিছিল—ব্যানারে লেখা, ‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী/ ভয় নাই ওরে ভয় নাই/ নিঃশেষে প্রাণ/ যে করিবে দান/ ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই’। সেখানেও আজিজা ইদরিস। সত্যিই তো আমাদের আগের প্রজন্ম ভয় পায়নি বলেই আজকে তাদের তৈরি করা পথে হাঁটছি আমরা। অতীতকে বাদ দিয়ে ভবিষ্যৎ নয়। আজকের যে কিশোরী নিজের বাল্যবিবাহ নিজেই বন্ধ করছে, আজকের যে তরুণী নিজের পছন্দের বিষয়ে লেখাপড়া করতে একাই বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়তে যাচ্ছে, যে মেয়েটি সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করছে, তারা সবাই কৃতজ্ঞ আজিজা ইদরিসদের কাছে, সেই প্রজন্মের কাছে।

জুমকন্যার কাছে

তিরতির করে জল বইছে, ঝিরিঝিরি শব্দ কানে আসছে, ঝিঁ ঝিঁ করে পোকারা ডাকছে। এ ছাড়া পাহাড়ে আর কোনো শব্দ নেই। শনশন বাতাসে দুলছে তকমাগাছের ঝোপ, আর সে ঝোপ থেকে তকমাপাতার ঘ্রাণ আসছে বাতাসে। তাই বাতাসটাও বেশ মিষ্টি ঘ্রাণে ভরে উঠছে। সুউচ্চ আলুটিলার ওপরে পাকা বেঞ্চিতে বসে জোরে জোরে সেই সুগন্ধময় বাতাসের ঘ্রাণ নিচ্ছি প্রাণভরে। আহ্, ঢাকায় এ রকম বিশুদ্ধ সুগন্ধময় বাতাস কখনো পাই না। কিছুক্ষণ আগেই দম বন্ধ হওয়া ঘুটঘুটে অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে আলুটিলা গুহা থেকে বেরিয়ে এসেছি। তাই শরতের এই ফুরফুরে বাতাসে যেন দেহমন জুড়িয়ে যাচ্ছে। চোখ চলে যাচ্ছে দূরে, নিচে ওই ছোট ছোট দালান-কোঠা দিয়ে সাজানো পাহাড়ি শহর খাগড়াছড়ির দিকে। শহরটার মধ্য দিয়ে চেঙ্গি নদী এঁকেবেঁকে চলে গেছে। অপূর্ব সেই নীলাভ-সবুজ দৃশ্য!
একটু দম নিয়ে জিরিয়ে নিতেই এর চেয়েও সুন্দর দৃশ্যে চোখ আটকে গেল। সবুজ শ্যামল তরুলতায় ঢাকা পাহাড়ের শরীর। কচি কচি সবুজ ফসলের মাখামাখি সবুজ পাহাড়ের বুকজুড়ে। জুম চাষ। কচি ধানগাছগুলো তার পাতা ছেড়ে ঐশ্বর্যের বিজয়বার্তা ঘোষণা করছে। ধানের মধ্যে শসার মতো গাছ, মারফা ওর নাম। আরও আছে হলুদ, তিল, তুলা, মরিচ, বরবটি—কী নেই সে জুমে? পাশের পাহাড়ে বর্শার ফলার মতো হলুদগাছ মাথা তুলছে, কদিন পরই দেখতে দেখতে ওরা আমার সমান হয়ে যাবে। হলুদগাছের ফাঁকে ফাঁকে ডুমুর-শিম (অড়হর), খনাগোলা (সোনা) গাছেরা তরুণ ডালপালা মেলে আড়মোড়া ভাঙছে। বর্ষা শেষে কী যে সবুজে তন্ময় হয় পাহাড়ের বুক! আর সেসব পাহাড়ের বুকে, জুমে কাজ করছে জুমকন্যারা।
এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে কখন যে আনমনে নেমে গেছি ওসব পাহাড়ের বুকে, টের পাইনি। খাড়া সেসব পাহাড়ে কী করে যে জুমকন্যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জুমের আগাছা পরিষ্কার করে, জুম ফসলের যত্ন নেয়—ভাবতে ঘোর লাগে। ওই উঁচু পাহাড় থেকে নিচে তাকালে পরান কাঁপে, পা ফসকে পড়ে গেলেই আলুর দম। কিন্তু ওতে ওদের কোনো ভয় নেই যেন। দিব্যি সমতল ভূমির মতো কাজ করে চলেছে। ওপর থেকে রং-বেরঙের থামি, ব্লাউজ আর খবং পরা জুমকন্যাদের দেখে সবুজ বাগানে রঙিন পাহাড়ি ফুলের মতোই লাগে। মনে হয়, ছোট ছোট কলের পুতুল কার ইশারায় যেন নড়েচড়ে বেড়াচ্ছে। নির্জন সেই পাহাড়ের বুকে পাখির কলরব, ঝরনার জলপতনের শব্দ, পোকাদের ডাকাডাকি। একমনে জুমকন্যারা কাজ করে চলেছে। নামতে নামতে ঠিক ওদের কাছেই চলে গেলাম। পথে জংলি আগাছার ঝোপ, সাপের উপদ্রব, পথহীন আলগা মাটির ঢাল—কোনো কিছুই যেন আমাকে ধরে রাখতে পারল না। তরতর করে বেড়ে উঠছে ধান ও সবজি গাছেরা, মসলা ফসলও। এক জুমকন্যা জুমের মাটিতে উপুড় হয়ে বসে তাগল (পাহাড়ি দা) চালাচ্ছে। জুমের ফসল নানা রকম আগাছায় ঠেসে ধরেছে। এখনই সেগুলো সরাতে না পারলে আগাছারাই ফসল খেয়ে ফেলবে। আর পরিবারসহ জুমকন্যাদের সারা বছর হয়তো না খেয়ে কাটাতে হবে। তাই জুমিয়ারা এখন ভীষণ ব্যস্ত জুম সাফে। কাছে গিয়ে জুমকন্যার নাম জানতে চাইলাম। পাড়াটার নামও। কিন্তু সে কোনো কথাই বলল না। বয়স আন্দাজ আঠারো-কুড়ি হবে, শক্ত-সমর্থ শরীর, উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রং, খাটো গাট্টাগোট্টা হাত-পা। মনে হলো, সে একজন টিপরা তরুণী। যতই তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলাম, কোনো জবাব পেলাম না। ভাবলাম, হয় সে বাংলা জানে না, নতুবা প্যাঁচাল পেড়ে অযথা সময় নষ্ট করতে চায় না। পাশের জুমে আর একজন জুমকন্যা কাজ করছেন। বয়স্ক। হাঁক দিলাম, দিদি একটু আসতে পারি? হাঁক শুনে তিনি উঠে দাঁড়ালেন, আমাকে দেখলেন। তারপর খড়ের একটা বিড়া থেকে আগুন নিয়ে ডাব্বার কলকি ধরিয়ে ঘড়াৎ ঘড়াৎ টানতে শুরু করলেন। অনুমতি দিলেন কি দিলেন না, বুঝতে পারলাম না। কিন্তু আমি আর অনুমতির অপেক্ষা না করে তাঁর কাছে পৌঁছে গেলাম।
কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম, ‘কেমন আছেন? কখন এসেছেন জুমে? কাজ কি শেষ? চলে যাবেন?’ কথা শুনে মাথা কাত করলেন। কথায় কথায় জানা গেল, তিনি একজন টিপরা নারী। কাছের বড়পাড়া টিপরাপল্লিতে তাঁর বাড়ি। এখান থেকে সেটা প্রায় পাঁচ মাইল দূরে। ভোরের আলো ফোটার আগেই জুমে কাজ করার জন্য চলে এসেছেন। আন্দাজ ১১টা পর্যন্ত এখানে থাকবেন। তারপর চলে যাবেন। খুব ভালো বাংলা বলতে পারেন না, তবে সব কথা বুঝতে পারেন। জুমে ধানের সঙ্গে বিনি মকাই (ভুট্টা), আদা ও হলুদ চাষ করেছেন। এবার আদা-হলুদের দাম বেশি। এ রকম দাম থাকলে এবার জুম থেকে ভালো লাভ হবে। দেখতে দেখতে তিনি একটা থুরংয়ের ভেতরে কিছু শাকপাতা ভরে নিলেন। বললেন, ‘জুমটা হলো আমাদের বাজার। বাজারে যেমন নানা রকম জিনিস পাওয়া যায়। জুমেও তেমনই। লবণ-তেল ছাড়া আর সবই এখানে পাই। ঝিরি থেকে পাই মাছ।’ থুরংটাকে পিঠে করে এবার রওনা দিলেন। এক হাতে তাগল, অন্য হাতে ডাব্বা (হুক্কা)। প্রকৃতির সঙ্গে জুমকন্যার সেই অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্যের ছবি তোলার আর সাহস হলো না, সে অনুমতিও পেলাম না।
সুত্র: প্রথম আলো। মৃত্যুঞ্জয় রায় | তারিখ: ১৯-১০-২০১০

কওমী মাদরাসা : ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান



আমাদের দেশের বহুল প্রচারিত কওমী মাদরাসাগুলোর উৎস মূলের সন্ধান না পাওয়ার কারণে কিছু কিছু শিক্ষিত লোকও অকপটে বলে ওঠে এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানে পড়ে কি হবে? নিজের জ্ঞানহীনতা যেন কোন মানুষই মেনে নিতে চায় না। এটাই মানুষের মজ্জাগত চাহিদা। কওমী মাদরাসাগুলোর শিক্ষার ইতিহাস ঐতিহ্য এতো উজ্জ্বল এতো ভাহ্নর ও নির্ভরযোগ্য আজকার সমাজ সে সম্পর্কে একেবারেই না ওয়াকিফহাল। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার উৎস মূল মহান রাববুল আলামিনের প্রথম ওহী ‘ইকরা' থেকে হেরা গুহায় রাসূল মুহাম্মদ সা. মানবতার মুক্তি দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রভুর সান্নিধ্যে ধ্যানমগ্ন থাকাকালীন তার উপর নাজিল হয়।
এ শিক্ষা কারীকুলামের মৌলিকতা ‘ইকরা' তুমি পড়। আল্লাহর প্রেরিত ওহী আল-কুরআনেরই তালীম হতে শুরু করল সাফা পর্বতের সন্নিকটে এক গৃহে। তারপর দারুল আরকামে তারপর মসজিদে নববীতে। ইসলামী খেলাফতের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার সাথে সাথে ইলম চর্চার প্রসারতাও ব্যাপকভাবে বৃহ্নি পায় তাই বিশ্বের প্রত্যশ্চ অঞ্চলে এই শিক্ষা ব্যবন্সা চালু হতে থাকে। ইতিহাসের প্রথম মাদরাসা মক্কা নগরীর আরকাম ইবনে আবিল আরকাম র. এর বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সেই যুগের কুলাঙ্গার আবু জাহল উৎবা সায়বার কারণে তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। হজ্বের মওসুমে মদীনা থেকে প্রথম বছর ছয়জন মদীনাবাসী এসে আকাবাতে বায়আত গ্রহণ করে দেশে ফিরে ইসলামী তালীমের জন্য শিক্ষক তলব করলেন। তখন হুজুর, মাসআব ইবনে উমায়েরকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেন। ইসলামী ইতিহাসে এই প্রথম কওমী শিক্ষক হিসাবে পাঠানো। তিনি মদীনায় আসআদ ইবনে যুরারাহ রা. এর বাড়িতে মাদরাসার উদ্বোধন করেন। এটাকে মদীনার প্রথম মাদরাসা বলা হয়। হিজরতের পর মদীনায় ইসলামী প্রজাতম্পেরিণত হয়। তাই মসজিদে নববীতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এই শিক্ষালয়ের নাম ছিল আসহাবে সুফফা। কেউ কেউ এটাকে প্রথম সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে আদতে এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বায়তুল মালের কোনো নির্ধারিত খরচ দ্বারা পরিচালিত হয়নি। জনসাধারণের অনুদানের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়েছিল যার প্রমাণ হ্নরূপ বলা যেতে পারে হযরত আবু হুরায়রা রা. ক্ষুধার তাড়নায় রাস্তায় পড়ে থাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোন বরাদ্দ ছিল না বিধায়ই তাদের এই অবন্সা। যখন কোন হাদীয়া আসত তখন হুজুর সা. সবাইকে ডেকে তা খাইয়ে দিতেন। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, এটা কোন সরকারি খরচে পরিচালিত হয়নি।

ইসলামী শিক্ষার বিস্তার
রাসূল সা. এর যুগে আরবের ভৌগোলিক পরিধি ছিল মাত্র কয়েকশত বর্গকিলোমিটারের মধ্যে সীমিত। এখানের সভ্যতা, সংস্কৃতি, আচার-আচরণও ছিল সীমিত। যখনই কোন সমস্যা দেখা দিত সাহাবায়ে কিরাম তাৎক্ষণিক ছুটে আসতেন রাসূল সা. এর দরবারে। মুহূর্তের মধ্যে সমাধা হয়ে যেত। যখন হযরত উমরের খেলাফত কাল আসলো ইসলামে ফতুহাতও হতে থাকলো বিপুলভাবে। ইসলামী রাষ্ট্রের ভৌগোলিক পরিধির বিস্তার ঘটলো। মুসলমানগণ নিত্য নতুন ভূমির অধিপতি হতে লাগলো। নতুন নতুন অঞ্চলে নতুন নতুন সভ্যতার সাথে পরিচিতি হতে থাকলো। ঠিক তখনই প্রয়োজন দেখা দিল ইসলামী শিক্ষা-সভ্যতার। তাই হযরত ওমরের যুগে ইসলামী শিক্ষার বিস্তার ঘটেছিল। ফলে ইরাকে অনেক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। এখানে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শিক্ষক হিসেবে ছিলেন। প্রতিনিয়তই ছাত্রসংখ্যা বেড়ে যেতে শুরু করল। ছাত্রসংখ্যা বেশি হওয়াতে হযরত আলী রা. শিক্ষক হিসেবে এখনে আগমন করেন। তাঁকে ইরাকের প্রায় বারো হাজার তাবেয়ী মুহাদ্দিসীন সংবর্ধনা দেন। ইরাকে তখন হাজার হাজার মুহাদ্দিস, মুফাসসিরের আবির্ভাব ঘটে। ইরাকের কুফা নগরীতেই ইমাম আবু হানিফা রহ. শিক্ষা গ্রহণ করেন। এ ধারার বিস্তার ঘটতে থাকে খেলাফতে রাশেদার যুগ পর্যশ্চ। খেলাফতে রাশেদার যুগের পর ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবন্সায় বিচ্যুতি ঘটে ফলে ধর্মীয় শিক্ষার পরিধি সীমিত হয়ে আসে। তখন মাদরাসাগুলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক, খানকাকেন্দ্রিক হতে থাকে। প্রায় চার শতাব্দি পর্যশ্চ এ অবন্সা অব্যাহত থাকে। ৪০১ হিজরী থেকে ধর্মীয় শিক্ষার রূপ পরিবর্তন ঘটে। ১০১৯ খৃষ্টাব্দে আফগানিস্তানের বীর পুরুষ সুলতান মাহমুদ গজনবী গজনীর উপকণ্ঠে বিশাল কুতুব খানা মসজিদ মাদরাসা নির্মাণ করেন। এই বিশাল কমপ্লেক্স তৈরি করতে যা ব্যয় হয় তা তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করেন। ধর্মীয় শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক ও শ্রেণীভিত্তিক এই আমল থেকে বিস্তার লাভ করে। সুলতানের ইশ্চিকালের পর হ্নীয় পুত্র বাদশাহ মাসউদ পিতার এই সুমহান ধারার গতিকে আরো বেগবান করতঃ আফগানের প্রত্যশ্চ অঞ্চলে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত গতিতে চালিয়ে যান। এ ধারা প্রায় দু'শ বছর পর্যশ্চ চলতে থাকে।
দরসে হাদীস ক্লাসিক
৬ষ্ঠ শতাব্দির পূর্ব পর্যশ্চ কোন মাদরাসায় হ্নতম্ভাবে হাদিসের দরস চালু ছিল না। ৬ষ্ঠ শতাব্দিতে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাদশাহ নূরুদ্দীন জঙ্গি রহ. ৫৬৯ হি. মুতাঃ ১১৭৮ খৃষ্টাব্দে একটি হ্নতমদারুল হাদিস নির্মাণ করেন। ইতিহাসে এর পূর্বে পৃথক ব্যবন্সাপনায় হাদিসের দরসের কোন তথ্য মিলে না। ধর্মীয় শিক্ষায় উজ্জীবিত উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা ইবনে আসাকিরসহ বড় বড় মুহাদ্দিসগণ এখানে দরস পরিচালনা করতেন। বাদশাহ নূরুদ্দীন জঙ্গি রহ. ছাত্রদের লেখাপড়ার সুবিধার জন্য একটি ছাত্রাবাসও নির্মাণ করেছিলেন। ক্লাসিক ছাত্রদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের মানসে তিনি একটি সমৃহ্নশালী পাঠাগারও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইসলামী চেতনায় উদ্বুহ্ন ছাত্রদের ঐক্যবহ্ন ও সুসংহত থাকার জন্য ছাত্র সংসদ এর ব্যবন্সাও ছিল। পরবর্তিতে আল্লামা ইবনে আসাকির মিশরের কায়রোতে ৬২২ হিজরীতে দারুল হাদিস নির্মাণ করেন। একই হিজরীতে দামেস্কে মাদরাসায়ে আশরাফিয়া নামে একটি হ্নতমদারুল হাদিসের উদ্বোধন করা হয়। ইমাম নববী এখানে হাদিসের দরস পরিচালনা করেছিলেন।

উপমহাদেশে কওমী মাদরাসা
উপমহাদেশে ইসলামের সুশীতল হাওয়া লেগেছিল ১ম শতাব্দিতে সাহাবায়ে কিরামের যুগ থেকেই। ইতিহাসে চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে সাহাবীদের আগমনের তথ্য পাওয়া যায়। তবে ইসলামী সভ্যতা ব্যাপক হারে গড়ে উঠেছিল প্রায় সপ্তম শতাব্দিতে। হিজরী সপ্তম শতাব্দির প্রথমার্ধে মধ্য ভারতে ইসলামী শাসন ব্যবন্সা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তখন সম্রাট কুতুবুদ্দীন আইবেক ইসলামী শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটানোর জন্য মুলতানসহ বিভিন্ন ন্সানে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামী কৃষ্টি কালচার প্রতিনিয়ত দ্রক্ততগতিতে বিস্তার লাভ করতে থাকে। ৭২৫ হিজরী সনে বাদশাহ মোহাম্মদ তুঘলকের আমলে প্রচুর মাদরাসা মসজিদ হতে থাকে। ঐতিহাসিকগণ বলেন মাদরাসার সংখ্যা এত বৃহ্নি পেয়েছিল যে, শুধু দিল্লীতেই প্রায় এক হাজারের বেশি মাদরাসার সন্ধান পাওয়া যায়। এ সময়কালে নারীদের মধ্যেও দীন শিক্ষার চেতনা ছড়িয়ে পড়েছিল। বাদশাহ মোহাম্মদ তুঘলকের যুগে অনেক মহিলা হাফেজের কথা উল্লেখ রয়েছে। আজকের নারীবাদীরা দাবী করে নারী জাতিকে বেগম রোকেয়াই সচেতন করেছে। অথচ শত শত বছর পূর্বে ইসলামী খেলাফতকালেও নারীদের মধ্যে শিক্ষিত নারীর সন্ধান পাওয়া যায়। ইসলাম কোন দিনই নারীকে শিক্ষার প্রতি অনীহা দান করেনি। বরং প্রতিনিয়ত উৎসাহ প্রদান করেছে। তবে তা ছিল মাতৃজাতির হ্নকীয়তা বজায় রেখে হ্নতমশিক্ষা। কিশ্চু আজকের সমাজের নারীদের শিক্ষার কথা বলে যা শিখানো হচ্ছে তার ফলাফল চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝানোর প্রয়োজন মনে করি না। ইসলামী শিক্ষার কার্যক্রম বাদশাহ আদিলশাহ, শেরশাহ, সেকান্দর লোদি আমলেও ক্রমশ উন্নতি ও অগ্রগতির সিঁড়ি বেয়ে ৮৯৫ হিজরী পর্যশ্চ চলে আসে।

সিলেবাসভিত্তিক শিক্ষা
১১০০ শতাব্দীর পূর্ব পর্যশ্চ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাপকহারে থাকলেও তা কোন সিলেবাসভিত্তিক বা কারিকুলামের আলোকে ছিল না। কিশ্চু ১১০৫ হিজরীতে মোল্লা নেজামুদ্দীন সাহলাভী ইসলামী শিক্ষাকে ঢেলে সাজান। তিনিই বর্তমান দরসে নিজামী মাদরাসা শিক্ষা পহ্নতির জনক। তিনি ছিলেন একাধারে দ্বীনের সুদক্ষ আলিম, ফিকাহ শাদ্ধবিদ, দার্শনিক, ভাষ্যকার এবং একজন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ। তিনি উত্তর ভারতের সাহালী শহরে ১০৮৮/৮৯ মোতাবেক ১৬৭৭-৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। হিরাতের প্রসিহ্ন শিক্ষাবিদ শায়খ আব্দুল্লাহ আনসারী ছিল তাঁর পূর্বপুরুষ। শায়খ নিজামুদ্দীন সাহালীতে ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের সূচনা করেন। তারই প্রপৌত্র শায়খ হাফিজের জ্ঞানসাধনায় মুগ্ধ হয়ে সম্রাট আকবর তাকে ঐ এলাকার ভাল একটি জায়গীর প্রদানের নির্দেশ দেন। ফলে শায়খ ও তাঁর পুত্রগণ নিশ্চিশ্চে তালীমের কাজে মগ্ন থাকেন। ছাত্রদের খাদ্য ও বাসন্সানের সুষ্ঠু ব্যবন্সা করেন। ইসলামের শত্রক্তরা ১১০৩ হিজরী মোতাবেক ১৬৯১ সালে মোল্লা নিজামুদ্দীনের পিতা মোল্লা কুতুবুদ্দীনকে শহীদ করে তার শিক্ষা উপকরণসমূহ জ্বালিয়ে দেন। ফলে মোল্লা নিজামুদ্দীনসহ চার ভাই লাখনৌ চলে যান। সম্রাট আওরঙ্গজেব এই পরিবারের শিক্ষার অবদানের কথা বিবেচনা করে লাখনৌর প্রসিহ্ন ফিরিঙ্গী মহলে এক সরকারি আদেশবলে জায়গীর দান করেন। মোল্লা নিজামুদ্দীন এখানে দ্বীনি শিক্ষার কাজ চালিয়ে যান, এমন সময় এটাই মাদরাসায়ে নিজামিয়া নামে সুপরিচিতি লাভ করে। তিনি গঠনমূলকভাবে অত্যশ্চ বিচক্ষণতার সাথে প্রায় ১১টি বিষয়ের সমন্বিত একটি সিলেবাস প্রণয়ন করেন। ইতিহাসে এটাই দরসে নিজামীয়া বা নিজামী পহ্নতি নামে পরিচিত। ১১০৭ হিজরীতে গাজীউদ্দীন খান আজমীর গেটন্স একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে দিল্লী কলেজ নামে প্রসিহ্ন। এখানের ছাত্রদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মাওলানা কাসেম নানুতুবী, মাওলানা রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহী কালক্রমে মাদরাসাটির শিক্ষা কার্যক্রমের বিকৃতি ঘটে তা কলেজে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশে কওমী মাদরাসা ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তথা বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশেও অনেক পূর্ব থেকে অসংখ্য কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। সিপাহসালার ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী বঙ্গদেশ বিজয় করার পর রংপুরে তিনি একটি কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে শাহ তুরকান শহিদ বগুড়া অঞ্চলে, শাহ তাকি উদ্দীন আরাবী রহঃ রাজশাহীর মহিসশ্চোষে এবং ১২৭৮ খৃস্টাব্দে বিশিষ্ট মুহাদ্দিস শরফুদ্দীন আবু তায়ামা রহঃ তদানীশ্চন বাংলাদেশের রাজধানী সোনারগাঁয়ে একটি উচ্চমানের মাদরাসা ন্সাপন করেন। যুগের বহু মসজিদ মাদরাসা আজ আমাদের সামনে নেই; কালের পরিবর্তনে আজ তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সুলতানী আমলে বহু মসজিদ মাদরাসা সরকারি খরচে পরিচালিত হতো। ইংরেজরা এদেশের হ্নাধীনতা হরণ করার পর তা বন্ধ করে দেয়। ঐতিহাসিকদের মতে তো বাংলাদেশে বৃটিশদের আগমণের পূর্বে প্রায় ৮০ হাজার মাদরাসা ছিল। দি ইন্ডিয়ান মুসলমান গ্র‡র লেখক ডাব্লিউ-ডাব্লিউ হাvর লিখেন, মুসলিম শাসনামলে প্রতি আশি জনের জন্য একটি মাদরাসা ছিল। ১২২৭ খৃঃ সুলতান গিয়াস উদ্দিন রাজধানী লক্ষণাবতীতে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকার নবাব শায়েস্তা খানের আমলেও ঢাকার লালবাগ কেল্লার নিকট মাদরাসা ও মসজিদ তৈরী করেন। উইলিয়াম হাvর তার গ্র‡ উল্লেখ করেছেন মুসলিম শাসক আলিবর্দি খানের আমলে বহু মসজিদ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। মুসলিম শাসক ও জমিদারদের অর্থে প্রায় সতের হাজার মাদরাসা পরিচালিত হতো। দীর্ঘকাল এভাবে মাদরাসা শিক্ষার বিস্তার ঘটতে থাকে। মানুষের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ শত থেকে সহস্র গুণ বেগে বাড়তে থাকে। কালক্রমে নজর পড়ে বৃটিশ বেনিয়াদের। এক সময় তারা দখল করে নেয় এই উপমহাদেশের মুসলিম হ্নাধীনতা। প্রায় দু'শ' বছর গোলামীর শৃংখলে আবহ্ন জীবনযাপন করতে বাধ্য ছিল এদেশের মানুষ। ইংরেজদের জুলুম-নির্যাতন হ্নকীয়তা হরণ জনমানুষের রোষের সৃষ্টি হয়। উপরশ্চু উলামায়ে কিরাম তাদের হীন উদ্দেশ্যের মুখোশ উন্মোচন করতঃ তাদের বিরুহ্নে জিহাদের ফতওয়া দেন। ফলে তাদের বিরুহ্নে প্রচন্ড লড়াই হতে থাকে। এক পর্যায়ে ১৭৫৭ খৃঃ ইংরেজদের সাথে পলাশীর ময়দানে তারা সশদ্ধ সংগ্রামে লিপ্ত হন এবং মুসলিম নেতাদের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে বাহ্যিক দিক থেকে পরাজয়বরণ করেন। ফলে এদেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল উৎস জায়গীর ও ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দিলে মাদরাসাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও ইসলামী শিক্ষা থেমে থাকেনি। সরকারি বন্দোবস্ত না হওয়া সত্ত্বেও মাদরাসার প্রচলন বাকি ছিল। সর্বশেষ ১৮৫৬ সালের বিপ্লবের পর মুজাহিদদের সাময়িক ব্যর্থতায় দিল্লী মারকাজের পতনে ইসলামী শিক্ষার জোয়ার থেমে যায়। এভাবে প্রায় দশটি বছর কেটে যায়। মুসলমানদের ভাগ্যাকাশে অমানিশার অন্ধকার নেমে আসে। জাতি পথ হারা, উদভ্রাশ্চ হয়ে হতবিহবল হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে হযরত কাসেম নানুতুবী দেওবন্দের দেওয়ান মহল্লায় হ্নীয় শ্বশুরবাড়ী বেড়াতে আসেন। বাড়ী সংলগ্ন সাত্তা মসজিদের ইমাম হযরত আবিদ হোসাইন সাহেবের সাথে মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হওয়ার পর মিরাট থেকে মোল্লা মাহমুদ সাহেবকে ডেকে এনে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দান করে দেওবন্দে পাঠিয়ে দেন। অবশেষে ১৮৬৬ সালের ৩০ মে বুধবার ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠ দারুল উলুমের উদ্বোধন হয় সাত্তা মসজিদের বারান্দায় ডালিম গাছের নিচে। মোল্লা মাহমুদ সর্বপ্রথম ছবক দান করেন সর্বপ্রথম ছাত্র শায়খুল হিন্দ হযরত মাহমুদ হাসানকে দিয়ে। কি চমৎকার কাকতালীয় ব্যাপার। ছাত্র-উস্তাদ একই নাম। তাও মাহমুদ (প্রশংসিত)। আল্লাহপাক মানুষের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা বহ্নমূল করে দিয়েছেন। তখন এই মাদরাসাটি দেওবন্দ আরবী মাদরাসা নামে পরিচিত ছিল। ১২৯৬ হিজরীতে সদরুল মুদাররিসীন হযরত ইয়াকুব নানুতুবী রহঃ-এর প্রস্তাবে মাদরাসার নামকরণ করা হয় দারুল উলুম দেওবন্দ।

সুত্র: মাওলানা জিয়াউল হক কাসেমী  ।বাংলাদেশ প্রতিদিন তাং- ১৯/১০/২০১০