ফসিলসমূহ পরীক্ষা দেখা গেছে যে, পৃথিবীর উৎপত্তি ও সৃষ্টির সময় থেকে আজ পর্যন্ত শত শত স্পেসিসেরা বা বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ও উদ্ভিদ পৃথিবীতে সৃষ্ট হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রথমত. প্রাকৃতিক কারণে এসব স্পেসিস বিলুপ্ত হয়ে যায়। যে সব প্রাণী ও উদ্ভিদ পৃথিবীর পরিবর্তিত অবস্থার সঙ্গে দ্রুতগতিতে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেনি অথবা যারা সে অবস্থায় প্রাপ্ত খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় নিজেদের খাদ্য সংগ্রহে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ব্যর্থও হয়েছে তারাই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অবশ্য অন্য উদাহরণও রয়েছে। যেমন ডাইনোসরদের ক্ষেত্রে। এদের বিলুপ্তির কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বহু মিলিয়ন বছর আগে যেসব প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল মানুষ তাদের কখনও দেখতে পায়নি আবার এমন কিছু প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে যারা কয়েকশ বছরআগেও জীবিত ছিল। এবং এদের ক্ষেত্রে তাদের মৃত্যু ও বিলুপ্তির জন্য মানুষই দায়ী। গত কয়েকশ বছরের মধ্যে বেশকিছু প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ডোডো নামক একধরনের পাখি ছিল যারা সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দিকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। ভারত মহাসাগরের ক্ষুদ্র মরিসাস দ্বীপে এ পাখি বাস করত। নাবিকেরা খাদ্যের প্রয়োজনে এদের বধ করত। ক্রমে কোনোরকম চিহ্ন না রেখে তারা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়। ঠিক এ কাহিনীর পুনরাবৃত্তি ঘটে আরেকটি পাখির বিলুপ্তির ঘটনায়। ওই পাখিটির নাম গ্রেট আউক, পেঙ্গুইনের মতো দেখতে এ পাখি ১০০ বছর আগেও স্কটল্যান্ডের উত্তরে দ্বীপপুঞ্জে দেখা যেত। ডিম সংগ্রহকারীরা এবং শিকারিরা এদের বিলুপ্ত ঘটায় ১৮৪৪ সালে। আরেকটি বড় পাখির স্পেসিস হলো মোয়া। যারা আজ বিলুপ্তি হয়ে গেছে। এরা নিউজিল্যান্ডে বাস করত। এদের উচ্চতা ছিল ১০ ফুট। এরা অস্ট্রিচের মতো বৃহদাকার ছিল এবং উড়তে পারত না। খুব সম্ভবত মাওরিরা যখন ৬০০ বছর আগে নিউজিল্যান্ড দ্বীপে পেঁৗছায়, তখন তারা শিকার করে এদের বিলুপ্তি ঘটায়। শুধু পাখিরাই বিলুপ্তির দুর্ভাগ্য ভোগ করেনি, অন্য একটি বিখ্যাত স্তন্যপায়ী প্রাণীও বিলুপ্ত হয়েছে। সেটি হলো, সামুদ্রিক গরু। এই সামুদ্রিক গরু বা সি-কাউ পরিবারভুক্ত প্রাণী এখনও জীবিত আছে।
এরা হলো ম্যানাটিস এবং সাইরেন। তারা জলে বাস করে এবং দেখতে সিল-এর মতো। ১৭৮১ সালে বেরিং দ্বীপে জাহাজডুবির সময় রুশ পরিভ্রাজকরা সামুদ্রিক গরু দেখতে পান। আর তাই এগুলোও নাবিকদের শিকারের ফলে বিলুপ্ত হয়। এত হিংসভাবে তাদের শিকার হয়ে যে, ২৭ বছরের মধ্যে এ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এন্টিলোপ-এর মতো একটি প্রাণী অরিক্স আরব মরুভূমিতে শিকারের ফলে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এরকম আরও অনেক প্রাণী হয়তো আজ পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
তথ্য সুত্র: http://www.bangladesh-pratidin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=30-10-2010&type=pratidin&pub_no=186&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=1
Welcome to Global Village (All over the world be a Global Village)
Wednesday, November 3, 2010
বাহাদুর শাহ পার্কের অজানা কাহিনী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক বাঙালি জাতির এক দুঃসহ স্মৃতি বহন করে চলেছে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হওয়ার একশ বছর পর ১৮৫৮ সালে বাহাদুর শাহ পার্কে ইংল্যান্ডের রানী ভিক্টোরিয়া ভারতের শাসনভার গ্রহণের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। তখন এ পার্কের নামকরণ করা হয় ভিক্টোরিয়া পার্ক। তবে ১৮৫৭ সালে এই পার্কে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সিপাহী বিদ্রোহে অন্তত ১১ জন সিপাহীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিদ্রোহের সূত্রপাত ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এ সময় সিপাহীদের মধ্যে এনফিল্ড রাইফেল নামে এক ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করা হয়। এই রাইফেলের কার্তুজ গরু ও শূকরের চামড়া দিয়ে তৈরি হয়েছে বলে গুজব ছাড়িয়ে পড়লে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সমপ্রদায়ের সিপাহীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। কারণ মুসলমানদের কাছে শূকর অপবিত্র হিন্দুদের কাছে গরু নিষিদ্ধ বলে চিহ্নিত। দেশীয় সৈন্যদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ইংরেজরা এভাবে কার্তুজ তৈরি করেছে বলে সিপাহীরা ঐকমত্য পোষণ করে এবং ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। দিলি্লতে আক্রমণ চালিয়ে দিলি্ল দখল করে নেয় এবং বাহাদুর শাহ জাফরকে ভারতবর্ষের একচ্ছত্র নেতা হিসেবে ঘোষণা করে। এদিকে ইংরেজরা বিপুল শক্তি সনি্নবেশিত করে সিপাহীদের নির্মূল ও বন্দী করে একে একে ভারতবর্ষের উল্লেখযোগ্য এলাকা পুনরুদ্ধার করে। পূর্ববঙ্গে সিপাহীদের মূল ঘাঁটি ছিল ঢাকার লালবাগ কেল্লায়। ১৮৫৭ সালের ২৬ নভেম্বর ভোরে ইংরেজ বাহিনী লে. লুইসের নেতৃত্বে অতর্কিত লালবাগ কেল্লা আক্রমণ করে। এর জবাবে সিপাহীরাও পাল্টা আক্রমণ চালায় এবং পরী বিবির মাজারসংলগ্ন স্থানে স্থাপিত কামান থেকে সিপাহীরা গোলা ছুড়তে থাকে, ফলে ইংরেজ সেনাদের ভিতরে প্রবেশ ব্যাহত হয় এরপর ইংরেজ সেনারা প্রাচীর অতিক্রম করে সিপাহীদের ওপর ভয়ানক চার্জ শুরু করে। এ সময় সিপাহীরা প্রাণভয়ে পালাতে শুরু করে। এই যুদ্ধে ৩১ জন সিপাহী নিহত হন। ইংরেজদের পক্ষে নিহত হয় ৫ জন এবং আহত হয় ১৪ জন। তারা ২০ জন সিপাহীকে গ্রেফতার করে। ৩০ নভেম্বর ভিক্টোরিয়া উদ্যানে ৩ জনকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। এর আগে আরও ৮ জনকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। বাকি বন্দীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ভিক্টোরিয়া পার্কে দেশমাতৃকার মুক্তি সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী সিপাহীদের স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয় এবং উদ্যানটির নামকরণ করা হয়। শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহের নামানুসারে 'বাহাদুর শাহ পার্ক' নামকরণ করা হয়।
মো. রিয়াজুল ইসলাম
মো. রিয়াজুল ইসলাম
সুত্র: http://www.bangladesh-pratidin.com/index.php?view=details&type=pratidin&pub_no=190&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=2
লাশের জাদুঘর
অনেকগুলো মৃতদেহে কাপড় পরানো আছে। কাপড়গুলো দেখলে পুরনো আমলের এবং নোংরা মনে হতে পারে। কিন্তু ভালো করে দেখলে বোঝা যাবে লেস দেয়া কাপড়গুলো এক সময়কার সবচেয়ে দামি কাপড়। সুতির কাপড়গুলো এখনো সিল্কের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। সবার গলায় ঝুলানো আছে মৃতের নাম। কিন্তু কালে কালে লেখা উঠে যাচ্ছে বেশির ভাগ পরিচয়পত্রেরই। কারো গলায় ঝুলানো জীবিত বয়সের ছবি।
এই লাশের জাদুঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারী এখানকারই কিছু ধর্মযাজক। এরা এক সময় এই মৃত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনকে এখানে জড়ো করে আয়োজন করতেন প্রার্থনার। এমনকি ভোজসভারও আয়োজন করা হতো। আসলে, রীতি অনুযায়ী ইতালিতে মৃতদেহে আত্মা না থাকলেও এভাবে পরিবারের সবাই জড়ো হলে, আনন্দিত হয়ে পিকনিকের আয়োজন করলে নাকি শান্তি পায় ওই আত্মাও! তাই যুগ যুগ ধরে এই মৃত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন ওখানে এসে প্রার্থনা করেছে, উৎসবে মেতেছে এ মৃতদেহের হাত হাত রেখে খুঁজছে পরামর্শ!
এখন অবশ্য অনেক কিছুই পাল্টে গেছে। এখন আর এখানে পিকনিকের আয়োজন করা হয় না। ভল্টে খাবার নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। ঢোকার মুখে পাওয়া যায় রুটি ভাজার গন্ধ। দরিদ্র মানুষের মধ্যে ধর্মযাজকরা রুটি বিলি করেন।
এই জায়গাটা কতোটা ভয়ঙ্কর ভেতরে না ঢুকলে কল্পনাও করা যাবে না। সাধারণত দুপুরের খাবার পর খুব কম সময়ের জন্য এখানে ভ্রমণে আসে পর্যটকরা। পর্যটকদের জন্য বরাদ্দ গাইড বইতে তেমন তথ্যের উল্লেখ নেই। সংরক্ষণাগারের দেয়ালেও ঝোলানো নেই কোনো সতর্কবাণী আসলে ধর্মযাজকরা এখানে পর্যটকদের আনাগোনা চান না। তবে এখানকার রক্ষণাবেক্ষণে আর ধর্মপ্রচার সাহায্য ইত্যাদির জন্য টাকার অভাবেই তারা পর্যটকদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করা হয়েছে। এখানে ওই অর্থে কোনো প্রবেশমূল্য নেই, কিন্তু যে কোনো দান গ্রহণ করা হয় সাদরে।
ভিতরে প্রবেশ করা মাত্র যে কোনো সাহসী মানুষেরও গা ছমছম করে ওঠবে। ভয়, আতঙ্ক, বিস্ময়, সবকিছু একসঙ্গে এসে জাপটে ধরবে। চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। নকল বা ডামি নয়। সত্যিকারের লাশ- থরে থরে সাজানো। মোমের জাদুঘরের মতো কৃত্রিম নয়। অথবা মমির মতো কফিনে ঢাকা নয়। একেবারে সত্যিকারের মৃতদেহ। সরু করিডরের দু'পাশে সারি করে বাঁধা মৃতদেহ; হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে এমন দূরত্বে। কেউ হতবাক হয়ে যান, কেউ কেঁপে ওঠেন আতঙ্কে, কেউ চিৎকার করে ওঠেন, কেঁদে ওঠেন অনেকে। আবার ভয় কিংবা ঘৃণা সত্ত্বেও কৌতূহলবশত অনেকেই আলতো করে কোনো মৃতদেহের গায়ে বা কাপড়ে হাত ছুঁইয়ে দেয়! আবার পরমুহূর্তেই শিউরে উঠে সরিয়ে নেয় হাত। এসব কারণে কর্তৃপক্ষ মৃতদেহগুলোর চারদিকে লোহার গ্রিল দিতে বাধ্য হয়েছে। অসাবধানতাবশত সিগারেটের আগুনেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক মৃতদেহ। অনেক শিশু ঘটিয়েছে নানান ঘটনা। তাই এখন মৃতদেহগুলো লোহার গ্রিল ঘেরা জায়গায় ফ্লুরোসেন্ট বাতির নিচে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, কিংবা শুয়ে থাকে। এখন আর ঝাড়ু দেয়া হয় না। মৃতদেহগুলোর হাড় কাপড় এতই পুরনো হয়ে গেছে যে ঝাঁটার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে; তাই ব্যবহার করা হয় ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। তাছাড়া সংরক্ষণের স্বার্থে এখন প্রতিদিনের বদলে শুধুমাত্র রবিবার দর্শনার্থীদের জন্য এ জাদুঘর উন্মুক্ত হয়।
ক্যাটাকম্বে প্রথম সংরক্ষত হয় ফাদার সিলভেস্ত্রো দ্য গাবি'ওর দেহ। উনি মারা যান ১৫৯৯ সালে। একই সময় সংরক্ষিত হয় চলি্লশ জন সন্ন্যাসীর মৃতদেহ। বলা হয়, ওই সময়কার প্লেগ রোগাক্রান্তদের চিকিৎসা করতে গিয়ে ওই সন্ন্যাসীরাও আক্রান্ত হন প্লেগে, মারা যান কাছাকাছি সময়ে আর এ ঘটনার পর থেকেই ক্যাটাকম্ব পরিচিত হয়ে ওঠে পবিত্র ভাবগাম্বীর্যপূর্ণ এক জায়গা হিসেবে। আর তৎকালীন ধনী অভিজাত ব্যক্তিরাও উদ্গ্রীব হয়ে ওঠেন। যে তাদের আত্মীয়দের মৃতদেহ কিংবা মৃত্যুর পর নিজেদের মৃতদেহকেও যেন এই পবিত্র স্থানে সংরক্ষিত করা হয়। কালক্রমে ক্যাটাকম্ব হয়ে ওঠে গোরস্তানের দামি বিকল্প। মৃতদেহগুলোকে প্রথমে বিশেষ করে সেলারে ভরে রাখা হতো এক বছর। বদ্ধ ওই জায়গায় ওই সময়ের ভিতরে শুকিয়ে যেত মৃতদেহের জলীয় সব উপকরণ। তারপর রোদে শুকিয়ে মৃদতেহগুলোকে গোসল করানো হতো ভিনেগারে। তারপর খড়ে মুড়ে নানান জবিটি দিয়ে পরিয়ে দেয়া হতো দামি-ঝলমলে একপ্রস্থ জামা। উনিশ শতকে এসে অবশ্য মৃতদেহ সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি বের হয়। তখন মৃতদেহগুলোকে গোসল করানো হতো আর্সেনিক কিংবা মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া দিয়ে, যাতে নাকি ত্বক থাকে আরো জীবন্ত-সতেজ! তবে এসব নিয়ে এখনকার ধর্মযাজকরা, যারা বর্তমানে ক্যাটাকম্বর দেখাশোনা করছেন তারা খুব বেশি মুখ খুলতে চান না।
১৮৮০ সালে এসে এভাবে মৃতদেহ সংরক্ষণ বন্ধ করা হয়। যেসব মৃতদেহ তখনো পুরোপুরি সংরক্ষণ করা হয়নি সেগুলো করুণ পরিণতি ঘটে, পচে ক্ষয়ে একাকার হতে থাকে ওগুলো। সেই থেকেই ক্যাটাকম্বের সুদিন আর ফেরত আসেনি।
এখন আর কেউ ক্যাটাকম্বের মৃতদেহের বিদেহী আত্মার জন্য ফুল আনে না। একমাত্র ব্যতিক্রম রোজালিয়া লোম্বার্ডোর মৃতদেহ। হতভাগ্য এই মেয়েটি মারা যায় মাত্র দু'বছর বয়সে ১৯২০ সালে। তার হতভাগ্য বাবা উদ্ভ্রান্তের মতো হয়ে মৃতদেহ সংরক্ষণ না করার নিয়ম ভেঙে তার মেয়ের মৃতদেহটিকে সংরক্ষণ করেন। ভদ্রলোক ছিলেন চিকিৎসক, ইনজেকশন, প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি তার মেয়ের মৃতদেহটি সংরক্ষণ করে রাখেন। ওই ছোট্ট মেয়েটির মৃতদেহটি ক্যাটাকম্বে সংরক্ষণ করা আছে কাচের ঢাকনা দেওয়া এক কফিনে। এখনো কি ভীষণ জীবন্ত শরীর। মনে হয় ঘুমিয়ে আছে। ডাকলেই উঠে আসছে এক্ষুনি।
নানান বিপদ আছে এই ক্যাটাকম্বে। এ শত শত মৃতদেহের মাঝে এসে আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে যান অনেকেই। কেবল পর্যটকদের বিপদই নয় বিপদে আছে ক্যাটাকম্ব নিজেও। ভূ-গর্ভস্থ এই শব জাদুঘর উপরের যান চলাচলে এর টিকে থাকাই এখন রীতিমতো হুমকির মুখে। তা ছাড়া যারা এর দেখভাল করে রাখবেন সেই সন্ন্যাসীদের সংখ্যা ৫০০ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র চলি্লশে। লাশের জাদুঘর আস্তে আস্তে নিজেই লাশে পরিণত হতে চলেছে!
* রণক ইকরাম
সুত্র: http://www.bangladesh-pratidin.com/index.php?view=details&type=pratidin&pub_no=190&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=0
Tuesday, November 2, 2010
পরবাস
পূর্ণিমা রাত। শরীরে জোছনা মেখে ১৫ জন মানুষ উবু হয়ে বসে আছে ঘন জঙ্গলের মধ্যে। অরণ্যের মাঝখানেই সীমান্ত। ও পাশে আমেরিকা। এ পাশে মেক্সিকো। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে মানব পাচারকারী দালালের হাত ধরে তারা সাত দিন আগে এই এলাকায় জড়ো হয়েছে। তাদের সবারই গন্তব্য তথাকথিত স্বর্গরাজ্য আমেরিকায়। আমেরিকা মানে ডলার। ডলার মানে সুখ। সেই সুখ অধরা হয়ে অপেক্ষা করছে সীমান্তের ওপারে। দালালেরা বলেছে, রাত গাঢ় হলে সীমান্তরক্ষীরা পাহারায় অসতর্ক হবে। ঠিক তখনই দৌড় দিতে হবে ঊর্ধ্বশ্বাসে। ও পাশে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এল পাসো। সেখানে বসে থাকবে এই দালালদের বন্ধু অন্য দালাল। ওদের হাত ধরেই পৌঁছে যাওয়া যাবে নিউইয়র্ক শহরে। নিউইয়র্ক যেতে চাওয়া এই ১৫ জনের দলে তিনজন বাঙালি। এদেরই একজনের নাম জয়নাল। এই জয়নালের মুখে গল্পটি শুনেছিলাম গত এপ্রিল মাসে নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনের এক সন্ধ্যায়।
জয়নালের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপায়। জমি বিক্রির ২২ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিল দালালদের হাতে। বিশ্বস্ত দালাল। কারণ, প্রায়ই সে মানব পাচার করে পৌঁছে দেয় বিভিন্ন দেশে। সেখানে পৌঁছে উৎফুল্ল লোকজন নিকটাত্মীয়ের কাছে সংবাদ পাঠায়, পৌঁছে গেছি। জয়নাল ও আরও তিনজন প্রথমে পৌঁছাল কলকাতায়। কলকাতা থেকে মস্কো। মস্কো থেকে লাতিন আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। অপরিচিত একদল মানব পাচারকারীর হাতে গিয়ে পড়ল তিন বঙ্গসন্তান। বহুকাল আগে আফ্রিকা থেকে কালো মানুষকে কিনে নিত শ্বেতাঙ্গ মানুষেরা ‘দাস’ হিসেবে। পশুর চেয়েও অধম ছিল তাদের জীবন। চাবুকের কষাঘাতে, দাসসুলভ সেই জীবনে কালো মানুষের হাহাকার, কান্না নিয়ে কত গল্প, উপন্যাস, সংগীত, চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, তা পড়ে, শুনে ও দেখে পৃথিবীর কত মানুষ চোখের জল ফেলেছে। এল সালভাদরে জয়নালরা মুখোমুখি হলো সেই জীবনের। উচ্চমাধ্যমিক পাস করা জয়নালকে বাধ্য করা হলো ঘোড়ার আস্তাবলে কাজ করতে। সারা দিন কাজ শেষে রাতের গভীরে গুমরে গুমরে কান্না। সবুজ রঙের বাংলাদেশের পাসপোর্ট আর লুকিয়ে রাখা দুই হাজার আমেরিকান ডলার একমাত্র সম্বল। সঙ্গে অন্য দুজনের কাছে কোনো টাকা-পয়সা নেই; দালালেরা এল সালভাদরে পৌঁছে দেওয়ার আগেই সেসব হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যেই এক দিন যোগাযোগ হয়ে গেল আরেকজন দালালের সঙ্গে। শেষ সম্বল দুই হাজার ডলার বিনিময় হলো, সঙ্গী দুজন আর চোখের জল এল সালভাদরে রেখে জয়নাল বহু পথ ঘুরে পৌঁছাল কলম্বিয়ায়। ঢাকা থেকে উড়াল দেওয়ার পর পাঁচ মাস চলে গেছে মহাকালের গর্ভে। বাড়িতে জানানো হয়নি কিছুই। কী-ই বা জানানোর আছে! কলম্বিয়ায় এসে শোনা গেল দুঃসংবাদ; ওদের যাওয়ার পথ মেক্সিকো হয়ে। মেক্সিকোর সীমান্তে এখন অনেক কড়া নজরদারি। দেখামাত্র গুলির নির্দেশ আছে। তাহলে? আবার অপেক্ষা। পেটের খাবার জোগাড় করতে জয়নাল দালালের পরামর্শে ভিড়ে গেল মাদক পাচারকারীদের দলে। এক রাত এখানে তো, অন্য রাত ওখানে। বাড়তি উদ্বেগ, পুলিশের ধাওয়া। দুঃসহ সেই জীবন কাটাল জয়নাল আরও দুই মাস। তারপর সেখান থেকে মেক্সিকো।
দালালেরা বলেছিল, একটা পূর্ণিমা রাত এলে রওনা দিতে হবে। তো, পূর্ণিমা রাতে জোছনার নিচে উবু হয়ে বসে আছে ১৫ জন মানুষ। সংকেতের অপেক্ষা। ঝিঁঝি পোকার ডাক ছাড়া কোথাও কোনো শব্দ নেই। হূৎপিণ্ডের দ্রুতলয় ধাক্কা ছাড়া মগজে আর কোনো ছন্দ নেই। আর একটু পরই আমেরিকা। আমেরিকা মানে ছোট বোনের বিয়ে। বাবার হাসিমুখ। সংসারে রঙিন বেলুনের ওড়াউড়ি। হঠাৎ কানে ভেসে এল হালকা শিসের শব্দ। জয়নাল দেখল, বসে থাকা সঙ্গীরা দৌড় শুরু করেছে গভীর জঙ্গলের দিকে। চলতে চলতে তৈরি হওয়া একটা সরু পথ জোছনার আলোতে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল যেন। দৌড় দৌড় দৌড়। আর তখনই শুরু হলো অবিরাম গুলির বৃষ্টি। মাথা নিচু করে কোমর বাঁকিয়ে দুপেয়ে পশুর মতো করে একদল মানুষ জোছনার আলোতে দৌড়াচ্ছে দিগ্বিদিক, গুলির কান ফাটানো শব্দ ছাপিয়ে উঠছে তাদের আর্তস্বর, যেন তাদের তাড়া করেছে হিংস্র শ্বাপদ, তাদের থেমে যাওয়ার কিংবা পেছনে ফিরে যাওয়ার আর কোনো উপায় নেই। এ যেন জ্যা থেকে নিক্ষিপ্ত তীরের মতো, যার কখনো পেছনে ফেরা হবে না আর।
জয়নালরা ১৫ জন দৌড় দিয়েছিল। আমেরিকার ভূখণ্ডে পৌঁছেছিল পাঁচজন। বাকিরা কোথায়? আমার এই প্রশ্নে জয়নাল নির্বিকার বলেছিল, হয়তো মরে গেছে। অথবা ফিরে গেছে মেক্সিকোয়। নিউইয়র্কে পৌঁছানোর টাকা জোগাড় করতে হয়েছিল ভিক্ষা করে। একটা দীর্ঘ পথ, মৃত্যুভয়, আর বিচিত্র জীবনযাপনের সকাল, দুপুর, রাত কি তাকে অপ্রকৃতিস্থ করে তুলেছে? এতগুলো টাকা দিয়ে দেশেই তো অনেক কিছু করা যেত—আমার এমন মন্তব্যে নিউইয়র্কে অবৈধ বাঙালি অভিবাসী জয়নাল পাথরের চোখে চার্চ ম্যাকডোনাল্ড পাতাল রেল স্টেশনের নিচে নামার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে ছিল। কোনো উত্তর মেলেনি। তবে কি জয়নাল নিরুপায় হয়ে এই ভ্রমণে গেছে?
আমার এই মনে হওয়াটা সাম্প্রতিক বাংলাদেশকে দেখে। সেই যখন ছাত্রজীবনে শিক্ষানীতির সুষ্ঠু বিধান চেয়ে স্লোগানমুখর পথে হাঁটতে শুরু করেছিলাম, কিংবা বাড়িয়ে দিয়েছিলাম বুকের উঠোন সাম্যবাদের বিশ্বাসে, তখন বাংলাদেশে শাসকেরা মানুষকে ধমক দিতেন, ক্ষমতার রক্তচক্ষু রাঙাতেন এবং নিজেরাই নিজেদের স্তুতি করতেন। আর আমরা দেশের বাকি মানুষেরা ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতাম। সেই অবস্থা এখনো আছে। ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই কানই ক্ষতিগ্রস্ত হলো। দেশের অন্যতম প্রধান কানের চিকিৎসক প্রাণ গোপাল দত্ত অনেক যত্ন নিয়ে সেই কানের চিকিৎসা করলেও স্বাচিপের (আওয়ামীপন্থী সংগঠন) নেতারা প্রাণ গোপালের কান বরাবর মারমুখী হাত তুলে ফেললেন। গণমাধ্যমের প্রতি আইন প্রণেতাদের হুমকি, বেসামরিক প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের হাপুস নয়নে কান্না, আর রাজনীতির নামে অবাধ স্বেচ্ছাচারিতার এই স্বদেশে আজকাল খুব পরবাসী লাগে। আমাদের স্বদেশ কোথায়? মানুষের?
মাহমুদুজ্জামান বাবু: গায়ক ও সংস্কৃতিকর্মী।
Che21c@yahoo.com
সুত্র: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-10-02/news/97935
জয়নালের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপায়। জমি বিক্রির ২২ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিল দালালদের হাতে। বিশ্বস্ত দালাল। কারণ, প্রায়ই সে মানব পাচার করে পৌঁছে দেয় বিভিন্ন দেশে। সেখানে পৌঁছে উৎফুল্ল লোকজন নিকটাত্মীয়ের কাছে সংবাদ পাঠায়, পৌঁছে গেছি। জয়নাল ও আরও তিনজন প্রথমে পৌঁছাল কলকাতায়। কলকাতা থেকে মস্কো। মস্কো থেকে লাতিন আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। অপরিচিত একদল মানব পাচারকারীর হাতে গিয়ে পড়ল তিন বঙ্গসন্তান। বহুকাল আগে আফ্রিকা থেকে কালো মানুষকে কিনে নিত শ্বেতাঙ্গ মানুষেরা ‘দাস’ হিসেবে। পশুর চেয়েও অধম ছিল তাদের জীবন। চাবুকের কষাঘাতে, দাসসুলভ সেই জীবনে কালো মানুষের হাহাকার, কান্না নিয়ে কত গল্প, উপন্যাস, সংগীত, চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, তা পড়ে, শুনে ও দেখে পৃথিবীর কত মানুষ চোখের জল ফেলেছে। এল সালভাদরে জয়নালরা মুখোমুখি হলো সেই জীবনের। উচ্চমাধ্যমিক পাস করা জয়নালকে বাধ্য করা হলো ঘোড়ার আস্তাবলে কাজ করতে। সারা দিন কাজ শেষে রাতের গভীরে গুমরে গুমরে কান্না। সবুজ রঙের বাংলাদেশের পাসপোর্ট আর লুকিয়ে রাখা দুই হাজার আমেরিকান ডলার একমাত্র সম্বল। সঙ্গে অন্য দুজনের কাছে কোনো টাকা-পয়সা নেই; দালালেরা এল সালভাদরে পৌঁছে দেওয়ার আগেই সেসব হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যেই এক দিন যোগাযোগ হয়ে গেল আরেকজন দালালের সঙ্গে। শেষ সম্বল দুই হাজার ডলার বিনিময় হলো, সঙ্গী দুজন আর চোখের জল এল সালভাদরে রেখে জয়নাল বহু পথ ঘুরে পৌঁছাল কলম্বিয়ায়। ঢাকা থেকে উড়াল দেওয়ার পর পাঁচ মাস চলে গেছে মহাকালের গর্ভে। বাড়িতে জানানো হয়নি কিছুই। কী-ই বা জানানোর আছে! কলম্বিয়ায় এসে শোনা গেল দুঃসংবাদ; ওদের যাওয়ার পথ মেক্সিকো হয়ে। মেক্সিকোর সীমান্তে এখন অনেক কড়া নজরদারি। দেখামাত্র গুলির নির্দেশ আছে। তাহলে? আবার অপেক্ষা। পেটের খাবার জোগাড় করতে জয়নাল দালালের পরামর্শে ভিড়ে গেল মাদক পাচারকারীদের দলে। এক রাত এখানে তো, অন্য রাত ওখানে। বাড়তি উদ্বেগ, পুলিশের ধাওয়া। দুঃসহ সেই জীবন কাটাল জয়নাল আরও দুই মাস। তারপর সেখান থেকে মেক্সিকো।
দালালেরা বলেছিল, একটা পূর্ণিমা রাত এলে রওনা দিতে হবে। তো, পূর্ণিমা রাতে জোছনার নিচে উবু হয়ে বসে আছে ১৫ জন মানুষ। সংকেতের অপেক্ষা। ঝিঁঝি পোকার ডাক ছাড়া কোথাও কোনো শব্দ নেই। হূৎপিণ্ডের দ্রুতলয় ধাক্কা ছাড়া মগজে আর কোনো ছন্দ নেই। আর একটু পরই আমেরিকা। আমেরিকা মানে ছোট বোনের বিয়ে। বাবার হাসিমুখ। সংসারে রঙিন বেলুনের ওড়াউড়ি। হঠাৎ কানে ভেসে এল হালকা শিসের শব্দ। জয়নাল দেখল, বসে থাকা সঙ্গীরা দৌড় শুরু করেছে গভীর জঙ্গলের দিকে। চলতে চলতে তৈরি হওয়া একটা সরু পথ জোছনার আলোতে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল যেন। দৌড় দৌড় দৌড়। আর তখনই শুরু হলো অবিরাম গুলির বৃষ্টি। মাথা নিচু করে কোমর বাঁকিয়ে দুপেয়ে পশুর মতো করে একদল মানুষ জোছনার আলোতে দৌড়াচ্ছে দিগ্বিদিক, গুলির কান ফাটানো শব্দ ছাপিয়ে উঠছে তাদের আর্তস্বর, যেন তাদের তাড়া করেছে হিংস্র শ্বাপদ, তাদের থেমে যাওয়ার কিংবা পেছনে ফিরে যাওয়ার আর কোনো উপায় নেই। এ যেন জ্যা থেকে নিক্ষিপ্ত তীরের মতো, যার কখনো পেছনে ফেরা হবে না আর।
জয়নালরা ১৫ জন দৌড় দিয়েছিল। আমেরিকার ভূখণ্ডে পৌঁছেছিল পাঁচজন। বাকিরা কোথায়? আমার এই প্রশ্নে জয়নাল নির্বিকার বলেছিল, হয়তো মরে গেছে। অথবা ফিরে গেছে মেক্সিকোয়। নিউইয়র্কে পৌঁছানোর টাকা জোগাড় করতে হয়েছিল ভিক্ষা করে। একটা দীর্ঘ পথ, মৃত্যুভয়, আর বিচিত্র জীবনযাপনের সকাল, দুপুর, রাত কি তাকে অপ্রকৃতিস্থ করে তুলেছে? এতগুলো টাকা দিয়ে দেশেই তো অনেক কিছু করা যেত—আমার এমন মন্তব্যে নিউইয়র্কে অবৈধ বাঙালি অভিবাসী জয়নাল পাথরের চোখে চার্চ ম্যাকডোনাল্ড পাতাল রেল স্টেশনের নিচে নামার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে ছিল। কোনো উত্তর মেলেনি। তবে কি জয়নাল নিরুপায় হয়ে এই ভ্রমণে গেছে?
আমার এই মনে হওয়াটা সাম্প্রতিক বাংলাদেশকে দেখে। সেই যখন ছাত্রজীবনে শিক্ষানীতির সুষ্ঠু বিধান চেয়ে স্লোগানমুখর পথে হাঁটতে শুরু করেছিলাম, কিংবা বাড়িয়ে দিয়েছিলাম বুকের উঠোন সাম্যবাদের বিশ্বাসে, তখন বাংলাদেশে শাসকেরা মানুষকে ধমক দিতেন, ক্ষমতার রক্তচক্ষু রাঙাতেন এবং নিজেরাই নিজেদের স্তুতি করতেন। আর আমরা দেশের বাকি মানুষেরা ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতাম। সেই অবস্থা এখনো আছে। ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই কানই ক্ষতিগ্রস্ত হলো। দেশের অন্যতম প্রধান কানের চিকিৎসক প্রাণ গোপাল দত্ত অনেক যত্ন নিয়ে সেই কানের চিকিৎসা করলেও স্বাচিপের (আওয়ামীপন্থী সংগঠন) নেতারা প্রাণ গোপালের কান বরাবর মারমুখী হাত তুলে ফেললেন। গণমাধ্যমের প্রতি আইন প্রণেতাদের হুমকি, বেসামরিক প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের হাপুস নয়নে কান্না, আর রাজনীতির নামে অবাধ স্বেচ্ছাচারিতার এই স্বদেশে আজকাল খুব পরবাসী লাগে। আমাদের স্বদেশ কোথায়? মানুষের?
মাহমুদুজ্জামান বাবু: গায়ক ও সংস্কৃতিকর্মী।
Che21c@yahoo.com
সুত্র: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-10-02/news/97935
Subscribe to:
Posts (Atom)