Tuesday, November 2, 2010

গোল্ডেন সিটি অব দ্য ইস্ট

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পুরাকীর্তি, আধুনিক ও প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের জন্য বিশ্ববাসী তথা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ভারত। দেশটির বিভিন্ন শহরে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মুঘল ও ব্রিটিশ স্থাপত্যগুলো। ভারতে যতগুলো শহর আছে তার মধ্যে লক্ষ্নৌ পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় প্রথম সারিতে স্থান করে নিয়েছে। ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের অন্যতম শহর লক্ষ্নৌ।

ইতিহাস, দশেরি আম, কারুকাজ, আতরের সুবাস, মুজরার বোল, বিরিয়ানির খোশবাই_ এই নিয়ে নবাবি লক্ষ্নৌ। অধিকাংশ ইমারত নবাব সুজা-উদ-দৌলা ও নবাব আসফ-উদ-দৌলার হাতে তৈরি। আজকের লক্ষ্নৌয়ে অতীত ও বর্তমান সহাবস্থান করছে। এপারে প্রাচীন 'সিটি অব আদাব অ্যান্ড কাবাব' তো ওপারে নতুন সাহারা নগরী। মাঝখানে কালের স্মৃতিভার বুকে নিয়ে বয়ে চলেছে গোমতী নদী।

সারা বছরই পর্যটকদের সাদর আপ্যায়ন করে চলেছে এই 'গোল্ডেন সিটি অব দ্য ইস্ট'।

লক্ষ্নৌর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল অনেক আগে থেকেই। যেমন_ বড়া (বড়) ইমামবাড়া, ছোটা ইমামবাড়া, ক্লক টাওয়ার, দ্য রেসিডেন্সি, কাইজারবাগ বরাদরি, সাত্তার মঞ্জিল, সাহারা নগর ইত্যাদি। নবাবি লক্ষ্নৌর সঙ্গে পরিচয় শুরু হয় রুমি দরজা (ফটক) দিয়ে। এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে হয় ঐতিহাসিক নগরী লক্ষ্নৌতে। চারবাগ স্টেশন থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে। ৬০ ফুট উচ্চতার অসাধারণ কারুকাজ করা এই দরজার প্রকৃত নাম 'টার্কিশ গেট'। নবাব অসফ-উদ-দৌলা এটি কনস্ট্যান্টিনোপলের আদলে তৈরি করেছিলেন। এটা পার হলেই ঢোকা যায় বড় ইমামবাড়ায়। ইমামবাড়ায় ঢুকলে মনে হবে আপনি হয়তো পুরনো ঢাকার বড়কাটারা ও ছোটকাটরার আশপাশে অবস্থান করছেন। এগুলো দেখে একবার হলেও মনে হবে, আমাদের দেশের অনেক স্থাপত্য মুঘল আমলে তৈরি। অনেক কিছুরই তুলনা করতে পারবেন ঢাকার স্থাপত্যের সঙ্গে। এই শহরের অন্যতম আকর্ষণীয় ও মজাদার খাবার হলো কাবাব। শহরের আনাচে-কানাচে বেশির ভাগ দোকানেই বিক্রি করে এসব খাবার। অনেকেই এ শহরকে বলে থাকেন সিটি অব কাবাব। এই কাবাবের খ্যাতি ভারতবর্ষ পেরিয়ে ব্রিটিশ রাজ দরবার পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। তাই তো সে সময় লক্ষ্নৌ থেকে বাবুর্চি নিয়ে ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদে আয়োজন করা হয়েছিল কাবাব উৎসবের। ইমামবাড়া থেকে একটু ডানদিকে এগুলে চোখে পড়বে আসফ-উদ-দৌলা মসজিদ আর বাঁ-দিকে বাওলি। শহরের অনেক দূর থেকেও এই মসজিদের দুটি মিনার দেখা যায়। ১৪তলা প্রাসাদপুরীর ৫০ ফুট উচ্চতার হলঘর পেরিয়ে আরও অবাক লাগে যখন আপনি পেঁৗছবেন ভুলভুলাইয়ায়। পিলারের পর পিলার, সিঁড়ির পর সিঁড়ি, এলাছায়া অলিন্দ। আন্তঃগোলকধাঁধা। অনেকে বলে, এখানে নবাব-বেগম লুকোচুরি খেলতেন। আসলে তা নয়। শত্রুদের আক্রমণ থেকে বাঁচতেই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল। পথ চিনে নেওয়ার জন্য সঙ্গে গাইড নিলে ভালো হয়। অন্যথায় ভুলভুলাইয়ার ধাঁধায় পড়ে সময় নষ্ট হতে পারে। ইমামবাড়ার মাথা থেকে পুরো লক্ষ্নৌ শহর দেখতে অসাধারণ লাগে। এই মাত্রাটা আরও বেড়ে যায় চাঁদনি রাতে যখন চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে। বড় ইমামবাড়া থেকে আধা কিলোমিটার পথ পেরুলেই ছোট ইমামবাড়া। এটি মহম্মদ আলী শাহ তৈরি করেছিলেন। আকারে ছোট হলেও স্থাপত্যে টেক্কা দিতে পারে বাকি সব ইমারতকে। ঢুকতেই জলাশয়। জলাশয়ে ইমামবাড়ার ছায়া পড়ে এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তিনটি গম্বুজ, একটি আবার সোনার। অন্দরমহলে রয়েছে শিশমহল, রুপোর সিংহাসন, হরেক তাজিয়া, দেশি-বিদেশি ঝাড়-লণ্ঠন। রয়েছে তাজমহলের আদলে একটি সমাধিক্ষেত্র। ছোট ইমামবাড়া ও বড় ইমামবাড়ার ঠিক মাঝে রয়েছে আরেকটি স্থাপত্যকীর্তি, ক্লক টাওয়ার। এর উচ্চতা ২২১ ফুট। ভারতের বৃহত্তম ঘড়ি এটা। তৎকালীন প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে নবাব নাসিরউদ্দিন হায়দার তৈরি করেছিলেন এটি। শোনা যায়, চারকোণের এই ক্লক টাওয়ার তৈরির সময় সোনায় মুড়ে দেওয়া হয়েছিল। আর একটু এগুলেই হুসেনাবাদ পিকচার গ্যালারি। লক্ষ্নৌ নবাবদের বিভিন্ন প্রতিকৃতি এই মিউজিয়ামের সম্পদ। এসব দেখে নিয়ে অনায়াসেই ঢুকে পড়া যায় চিকনপট্টিতে। বড় ইমামবাড়ার ঠিক উল্টো পথে চারবাগ স্টেশন থেকে ৭ কি.মি দূরে অবস্থিত শাহ নজফ ইমামবাড়া। গোমতীর তীরে এই ইমামবাড়ায় নবাব গাজী উদ্দিন হায়দার ও তার ৩ বেগমের সমাধি রয়েছে। শোনা যায়, এখানেই নাকি সিপাহি বিদ্রোহের প্রথম আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এখান থেকে ২ কি.মি. পথ এগুলেই দ্য রেসিডেন্সি। ইংরেজ রাজকর্মচারীদের থাকার জন্য তৈরি হয়েছিল এটি। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনেক উত্থান-পতনের নীরব সাক্ষী। বর্তমানে অনেকেই একে লাভার্স পয়েন্ট বলে থাকেন। বিকালে এখানে প্রেমিকযুগলরা ঘুরতে আসেন। আসেন সময় পার করতে, শহরের কোলাহল থেকে দূর থাকতে। হঠাৎ করে দেখলে যে কারও মনে হতে পারে আপনি হয়তো ঢাকার চন্দ্রিমা অথবা রমনা উদ্যানে অবস্থান করছেন। লার্ভাস পয়েন্টের আশপাশে এখনও খুঁজে পাওয়া যায় প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের ছোঁয়া। দেখতে পাওয়া যায় কিছু প্রাচীরের ক্ষতচিহ্ন। দেয়ালে কান পাতলে শোনা যায় মানুষের হাহাকার। পাশেই চা-কফির দোকানে গলা ভিজিয়ে নেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। লক্ষ্নৌর নতুন দ্রষ্টব্য সাহারা সিটি। অনেকটা আমাদের দেশের বসুন্ধরা প্রকল্পের মতো। যেখানে রয়েছে আধুনিক বিশ্বের সব উপকরণ। এই সিটির রাস্তা থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি পর্যন্ত সবখানে পাওয়া যায় আধুনিকতার ছোঁয়া। ট্যুরিস্ট হিসেবে অনুমতি নিয়ে যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন এই আধুনিক সিটিতে। 
সুত্র: http://www.bangladesh-pratidin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=31-10-2010&type=pratidin&pub_no=187&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=0

নীল নদের মিসর

আফ্রিকার তথা পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীল নদ মিসর ও সুদানকে জীবন দান করে। এটি ৬৬৪৮ কি.মি দীর্ঘ এবং টাঙ্গানিকা পর্বতমালা থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত আফ্রিকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। মিসরকে নীল নদীর দান বলা হয়, কারণ প্রতি বছর নীল নদে বন্যা হওয়ার ফলেই বিশেষভাবে এর উপত্যকা ভূমি অনেক উর্বর। জমির উর্বরতার ফলেই এই অঞ্চলের প্রাচীন অধিবাসীরা অত্যন্ত ঐশ্বর্যশালী ছিলেন এবং বহু দুঃখ-দুর্দশা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিলেন। নীল নদকে ভিত্তি করেই প্রাচীন মিসরীয়দের ধর্ম, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের ভিত্তিও গড়ে ওঠেছিল নদীর উৎসস্থলে ভিক্টোরিয়া, এলবার্ট এবং এডওয়ার্ড নামক হ্রদগুলো ভূ-বিষুব রেখা বা নিরক্ষ রেখার দক্ষিণে গ্রীষ্মমণ্ডলে অবস্থিত। সেখানে শীতকালেই বেশিরভাগ বৃষ্টি হয়। এই বিশাল হ্রদগুলো বর্ষার জল ধরে রাখে এবং সারা বছর ধরে ক্রমে ক্রমে এই জল নীল নদকে পুষ্ট করে। নীল বর্ণ নীল নদী এবং আটবারা নদীতে বর্ষার জল প্রচণ্ড বেগে আসার ফলেই বন্যা হয়। ইথিওপিয়ার পর্বতমালা থেকে নিম্নাভিমুখী গ্রীষ্মকালীন বর্ষার জলের সঙ্গে মাটি এবং সবজি (মাটিতে পরিণত জীবদেহ) ভেসে যায়। এ মাটিতে পরিণত শাক-সবজি মাটিসহ নীল নদীর তীর ভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে। অতএব যে অঞ্চলে মরুভূমি থাকার কথা সে অঞ্চল সবুজ মরুদ্যানে পরিণত হয়। মিসরের জনজীবনে নীল নদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ৯৫ শতাংশ অধিবাসী নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলে বাস করে। নীল নদের সঠিক উৎস হলো কঙ্গোর পর্বতমালা যেখান থেকে কঙ্গো নদী ভিক্টোরিয়া হ্রদ পর্যন্ত প্রবাহিত। সেবাত ও অন্যান্য নদী নীল নদে এসে যুক্ত হয়ে তার জলপ্রবাহ বৃদ্ধি করছে। এখান থেকে উৎপত্তি হয় সাদা-নীল নদী। নীল রংয়ের নীল নদী হলো এ নদের সর্বাপেক্ষা উপনদী এবং তার উৎস হলো ইথিওপিয়ার তানা। খর্তুমে সাদা-নীল নদীও যুক্ত হয়েছে। সুদানে এসব জলপ্রপাত থেকে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এখানে জলপথ দিয়ে জলযান যাতায়াত করে। নীল নদের ওপর দুটি বড় ড্যাম বা জলাধার তৈরি করা হয়েছে। মিসরের বিদ্যুৎশক্তির বৃহৎ পরিমাণ অংশ ওই জলপ্রপাত থেকে উৎপন্ন হয়। 
প্রীতম সাহা সুদীপ। 
সুত্র: http://www.bangladesh-pratidin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=01-11-2010&type=pratidin&pub_no=188&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=7

আসছে কৃত্রিম রক্ত

বিশ্বে সুস্থ রক্তদাতার সংখ্যা দিন দিন কমছে। অনেক সময় অপারেশন শেষে রোগী সুস্থ হয়ে ফিরতে না ফিরতেই আক্রান্ত হয় অন্য কোনো রোগে। যার কারণ দাতার রক্ত থেকে আসা ভাইরাস। রক্ত বেশিদিন সংরক্ষণ করাও যায় না। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ দিনের মতো রাখা যায়।

এতসব সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞানীরা অনেক বছর ধরেই রক্তের বিকল্প আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। আর অতিসম্প্রতি গবেষকরা কৃত্রিম রক্ত আবিষ্কারের পথে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।

সাম্প্রতিক ব্লকবাস্টার টোয়ালাইট কিংবা ডে-ব্রেকার্সের কথা ধরুন। ভ্যাম্পায়ারদের রক্তের জোগান নিয়েই যত বিপত্তি। কৃত্রিম রক্ত চলে এলে কিন্তু আর ভ্যাম্পায়ারদের নিয়ে টেনশন থাকবে না। সিনেমায় তখন দেখা যাবে ভ্যাম্পায়াররা চাকরি করে বেতনের টাকায় প্যাকেটজাত সিনথেটিক ব্লাড কিনছে। সম্প্রতি এএক্সএন চ্যানেলের টিভি সিরিজ ট্রু ব্লাড-এ এমনই আশা দেখালেন জাপানি বিজ্ঞানীরা। সিরিজটিতে তারা রক্তের বিকল্প হিসেবে একটি সিনথেটিক ব্লাড আবিষ্কার করে ফেলেছেন। তবে বাস্তবেও কিন্তু বিজ্ঞানীরা খুব একটা পিছিয়ে নেই।

শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় রক্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে দেহের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পেঁৗছে দেওয়া। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর বড় সমস্যাটি হচ্ছে, রক্তক্ষরণের কারণে দেহের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়। রক্তের হিমোগ্লোবিন এই অক্সিজেন বহন করে এবং এর কারণেই রক্ত লাল হয়। হিমোগ্লোবিনের মতো একটা কিছু তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

গবেষকরা জানালেন, গরু, উদ্ভিদ এমনকি ফাংগাস থেকেও হিমোগ্লোবিন সংগ্রহ করা যেতে পারে। রক্তের যে বিশেষ উপাদানের কারণে একেকজনের রক্তের গ্রুপ একেক রকম হয়ে থাকে তা হিমোগ্লোবিনে থাকে না। তাই একই হিমোগ্লোবিন সব রোগীর দেহে দেওয়া যেতে পারে। সাধারণ তাপমাত্রায় এটি দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করা যাবে। পরিবহনেও থাকবে না ঝামেলা।

কৃত্রিম রক্ত আবিষ্কারের আগের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। অন্যান্য প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় দেখা গিয়েছিল সেসব কৃত্রিম রক্ত প্রাণীর শরীরে উল্টো দূষণ ঘটাচ্ছে। তবে সে সব কৃত্রিম রক্তের প্রথম দিককার উপাদানগুলোতে এমন সব রাসায়নিক পদার্থ ছিল যা কিনা পারমাণবিক বোমা বানাতে ব্যবহৃত হয়!

শরীরের মধ্যে অক্সিজেন পরিবহন করার সময় হিমোগ্লোবিন সাধারণত কালচে লাল রং ধারণ করে। এটি দূষিত হলে এর মধ্যে থাকা লোহা অক্সিডাইজড হয়ে যায় (অনেকটা মরিচা পড়ার মতো)। তখন এটি অকার্যকর বাদামি বা সবুজ একটি রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে। কুপার জানালেন, 'কৃত্রিম রক্তে হিমোগ্লোবিনের দূষিত হওয়ার প্রবণতা কমবে; কিন্তু শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পেঁৗছে দেওয়ার কাজটি সাধারণ রক্তের মতোই করতে পারবে।'

'বায়োপিউর' নামে একটি আমেরিকান কোম্পানি এরই মধ্যে 'হেমোপিউর' নামে একটি কৃত্রিম রক্ত তৈরি করেছে। এটি দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা করলেও যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে বাজারজাত করার লাইসেন্স পায়নি। এতে গরুর রক্তের হিমোগ্লোবিন ব্যবহার করা হয়েছে। তাছাড়া এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ কিনা তাও প্রমাণিত হয়নি।

এদিকে মার্কিন গবেষকরা কৃত্রিম রক্ত তৈরির আরেকটি উৎস পারফ্লুরোকার্বন নিয়ে গবেষণা করছেন। যা প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন দ্রবীভূত করতে পারে। এটি যেমন সস্তা, তেমনি এর উৎপাদনেও ঝামেলা নেই। তবে কিছু সমস্যার কারণে এটি এখনও ব্যবহারযোগ্য হয়নি।

দেহাভ্যন্তরে রক্তের সঞ্চালন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে প্রায় সাড়ে তিনশ' বছর আগে উইলিয়াম হার্ভে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। আর এ যুগের গবেষকরা সেই রক্তের বিকল্প আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে পেঁৗছে তৈরি করতে যাচ্ছেন আরেকটি মাইলফলক।

নাজমুল হক ইমন।
সুত্র: http://www.bangladesh-pratidin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=01-11-2010&type=pratidin&pub_no=188&cat_id=3&menu_id=16&news_type_id=1&index=4

তাঁকে কেউ ভুলবে না (বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান)

১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিক থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ জোরদার হয়। আর পাকিস্তান সরকার যখন এ যুদ্ধকে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করে, তখন থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশাল একটি বাহিনী এসে যোগ দেয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে। ফলে গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ১১টি সেক্টরে ভাগ হয়ে যুদ্ধ হলেও এগুলো ভারতের ত্রিপুরা, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। ১১টি সেক্টরের মধ্যে ৪ নম্বর সেক্টর মেজর জেনারেল সি আর দত্তের অধীনে ছিল ত্রিপুরার কমলপুর সাব-সেক্টর। এ সেক্টরে একজন সাব-সেক্টর সহ-অধিনায়ক ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) সাজ্জাদুর রহমান। তাঁর স্মৃতিচারণায় জানা যায়, ২৪ অক্টোবর রাতের শেষ দিক থেকে ২৮ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্তে ইপিআর (বর্তমান বিডিআর) ফাঁড়ির সামনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ চলে। ধলই সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের এই প্লাটুনের অ্যাসল্ট অফিসার ছিলেন মেজর (অব.) কাইয়ুম চৌধুরী। আর সিপাহি হামিদুর রহমান ছিলেন মেজর কাইয়ুম চৌধুরীর রানার। টানা চার দিনেও পাকিস্তানি বাহিনীকে যখন পিছু হটানো যাচ্ছিল না, তখন নিজ ইচ্ছায় সিপাহি হামিদুর রহমান ধলই ইপিআর ক্যাম্পে এসে গ্রেনেড মেরে পাকিস্তানি বাহিনীকে ধ্বংস করার কঠিন দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২৮ অক্টোবর ঘন কুয়াশা ও প্রবল গুলিবর্ষণের মধ্যে ভোররাত চারটায় প্রায় আধা কিলোমিটার গ্রেনেড হাতে ক্রলিং করে সিপাহি হামিদুর রহমান ধলই ইপিআর ক্যাম্পে পাকিস্তানি শক্তিশালী অবস্থানের ওপর গ্রেনেড হামলা চালান। গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ফেরার সময় পাকিস্তানি সেনাসদস্যদের একটি গুলি এসে বুকে লাগে সিপাহি হামিদুর রহমানের। হঠাৎ করে একটু নীরবতা। পরক্ষণে সহ-মুক্তিযোদ্ধারা এসে খুঁজে বের করেন শ্রেষ্ঠ বীর সিপাহি হামিদুর রহমানের লাশ। লাশ উদ্ধার করে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ত্রিপুরার আমবাসায় নিয়ে তাঁকে দাফন করা হয়।
বিশ্বের এমন কোনো দেশের ইতিহাস নেই যে, এত অল্প সময় যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ভিয়েতনামের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলেছে ৩১ বছর। দেশমাতৃকয়াকে শত্রুমুক্ত করতে অতি অল্প সময়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিলেন। একেবারে মুখোমুখি অবস্থান করে জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা মাত্র নয় মাসে শত্রুমুক্ত করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে সাতজনকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি দেয় বাংলাদেশ সরকার। তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বীর ছিলেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য ঝিনাইদহ জেলার গর্ব সিপাহি হামিদুর রহমান।
দেশ স্বাধীনের ৩৪ বছর পর গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কমলগঞ্জের সাংবাদিকেরা বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমানের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য লিখিত আবেদন করেছিলেন তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের কাছে। ধলই সীমান্তে, যেখানে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান শহীদ হয়েছিলেন, সেখানেই সাইফুর রহমানের উদ্যোগে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে। ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ যোগাযোগের পর অবশেষে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমানের মরদেহ দেশে এসেছে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে। তবে সিপাহি হামিদুর রহমানের সহযোদ্ধা কমলগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের জোর দাবি ছিল, খুব সহজে ধলই সীমান্ত দিয়ে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে এলে তাঁর নামের স্মৃতিসৌধ এলাকায় শেষবারের মতো সম্মান জানাতে পারতেন তাঁরা। সরকারি উদ্যোগে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে শ্রেষ্ঠ বীর সিপাহি হামিদুর রহমানের মরদেহ দেশে এনে ঢাকায় সমাহিত করা হয়েছে, তাতে সবাই খুশি।
মুজিবুর রহমান | তারিখ: ২৮-১০-২০১০
সুত্র:   http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-10-28/news/104768