শতাব্দীর পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রায় দুই মিলিয়ন শিশু যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও শিল্পের চাকা ঘোরাতে সাহায্য করে। কেউ কেউ পরনে কাপড় ছাড়াই রাসায়নিক ভাটিতে কাজ করত ভোর দুইটা থেকে।
১৮১৯ সালে যদিও তাদের বয়স ছিল মাত্র পাঁচ কিংবা তিন, ইংল্যান্ডের সুসান ও ডেবোরাহ ট্রিপ নামের দুই বোনের ওজন ছিল যথাক্রমে ২০৫ এবং ১২৪ পাউন্ড।
১৮৫২ সালের দিকে পুলিশ অনুমান করে, প্রায় ১০ হাজার পরিত্যক্ত, এতিম, ঘরপালানো বাচ্চা নিউইয়র্ক শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
১৬৩২ সালে ইংল্যান্ডের নরউইচের শিশু হাসপাতালে প্রত্যেক বাচ্চার সাপ্তাহিক রেশনে দুই গ্যালন বিয়ার যোগ করা হয়।
১৯৭৫ সালের প্রথম নয় মাসে কাউন্সিল অব চিলড্রেন, মিডিয়া ও ব্যবসায়ীদের অনুসন্ধানের জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের তিনটি প্রধান টিভি নেটওয়ার্কের ছুটির দিনে বাচ্চাদের অনুষ্ঠান দেখতে বসে একটি শিশু তিন হাজার ৮৩২টি ক্যান্ডি ও এক হাজার ৬২৭টি চুয়ইংগামের বিজ্ঞাপন দেখতে পারে। কিন্তু একটি শিশু মাংস ও পোলট্রির মাত্র দুটি এবং সবজি ও পনিরের মাত্র একটি করে বিজ্ঞাপন দেখার ধৈর্য রাখতে পারে।
হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের রূপকথাগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মা ভালো ধারণা পোষণ করেন না। তাঁদের মতে, রূপকথাগুলো ‘... বাচ্চাদের জন্য উপযুক্ত না... শিশুদের মনের জন্য ক্ষতিকর...’
নিজেদের সন্তানেরা যাতে যথার্থ আচরণ শেখে এবং নিখুঁত ফরাসি ভাষা বলতে পারে, এর জন্য উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত ফরাসি ট্র্যাপার ও জেলেরা ১৭৬০-এর দশকে মিসৌরির সেন্ট জেনেভিডে ‘ছোট্ট প্যারিস’ সৃষ্টি করেছিলেন। ওখানকার স্কুলে সামাজিক আচরণ শিক্ষায় আশা করা হতো, বাচ্চারা অন্তত ‘সত্যিকারের বিনয়ের প্রধান দুটি উপাদান—অনুগ্রহ ও আত্মকৃচ্ছ্রতা’ শিখবে।
সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে এক হাজারেরও বেশি শিশুকে ইউরোপ থেকে কিডন্যাপ করা হয় এবং ‘চুক্তিভিত্তিক’ চাকর হিসেবে আমেরিকায় পাঠানো হয়।
ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ও ফ্র্যাঙ্ক লয়েড রাইটের মায়েরা তাঁদের ছেলেদের ভবিষ্যৎ-শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন। মিসেস রাইট তাঁর সন্তান জন্মানোর আগেই নিশ্চিত ছিলেন, তার একটি ছেলে হবে এবং সে হবে একজন স্থাপত্যশিল্পী। ফ্রাঙ্কের জন্মের আগে মিসেস রাইট বাচ্চার আঁতুড়ঘরের দেয়ালে পুরোনো ইংরেজ ক্যাথেড্রালের প্রায় এক ডজন কাঠ খোদাই স্থাপন করেন। মিসেস রুজভেল্ট তাঁর সন্তান ‘একজন বিখ্যাত ব্যক্তি হবে’ বিষয়ে এতই নিশ্চিত ছিলেন যে তিনি পরবর্তী বংশধরদের জন্য তাঁর ছোটবেলার পোশাক ও ওয়ার্কবুকগুলো সংরক্ষণ করেন।
যখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন, তখন তাঁর মায়ের বয়স আশি পার হয়ে গেছে। ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট (১৮৮২—১৯৪৫) মন্তব্য করেন, তাঁর পুরো জীবনে এমন কখনো হয়নি, যখন দরজা দিয়ে বাইরে বের হওয়ার সময় তাঁর মা তাঁকে ডেকে বলেননি—‘ফ্রাঙ্ক, তুমি পোশাক পরে আরাম পাচ্ছো তো?’
ভাষান্তর: হাসান খুরশীদ | তারিখ: ১৫-১০-২০১০
No comments:
Post a Comment